ইরানে ভয়াবহ সাইবার হামলা
পাথেয় টেয়েন্টিফোর ডটকম :: ইরানে ভয়াবহ সাইবার হামলা হয়েছে। এতে বিঘ্নিত হয়েছে ২৫ শতাংশেরও বেশি ইন্টারনেট সেবা । সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় রাজধানী তেহরান। এক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের দিকে অভিযোগের আঙুল তুলছে ইরান।
রোববার (৯ ফেব্রুয়ারি) ইরানের টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপমন্ত্রী হামিদ ফাত্তামি সাইবার হামলার শিকার হওয়ার কথা জানান।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বলছে, ‘জাফর-১’ নামে যোগাযোগ স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের প্রাক্কালে ইরান এই সাইবার হামলার শিকার হয়েছে। যদিও রোববার স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় সীমোরঘ রকেটে উৎক্ষেপিত স্যাটেলাইটটি ধীরগতির কারণে কক্ষপথে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়েছে।
উপমন্ত্রী হামিদ ফাত্তামি বলেন, ইরানের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় সাইবার হামলা চালিয়েছে ভাড়াটে হ্যাকাররা। এই সাইবার হামলায় হ্যাকারদের নিশানায় ছিল ইরানের লাখ লাখ সাইবার কেন্দ্র। তবে বিপর্যয় ভয়াবহ আকার নেয়ার আগেই তা রুখে দেয়া হয়েছে।
এক প্রতিবেদন মতে, ওই সাইবার হামলার পর শনিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে দেশটির টেলিযোগাযোগ নেটওয়ার্ক বিপর্যয়ের মুখে পড়ে। অনেকের ইন্টারনেট ও মোবাইল ফোন সেবাও বন্ধ হয়ে যায়।
ইন্টারনেট ব্যবহার পর্যবেক্ষণ বিষয়ক বেসরকারি সংস্থা নেটব্লক বলছে, ওই হামলার পর অনেক শীর্ষস্থানীয় নেটওয়ার্ক অপারেটরের সেবা বিপর্যয়ের মুখে পড়ে। ফলে জাতীয় টেলিযোগাযোগ পরিসেবা এর সাধারণ পর্যায় থেকে নেমে আসে ৭৫ শতাংশে।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের উত্তেজনা বহুদিনের। ইরানের বিপ্লবী গার্ডের অভিজাত কুদস ফোর্সের প্রধান জেনারেল কাসেম সোলেইমানিকে মার্কিন বাহিনী গত ৩ জানুয়ারি বাগদাদ বিমানবন্দরে চোরাগোপ্তা কায়দায় হামলা চালিয়ে হত্যা করার পর এই উত্তেজনা তুঙ্গে ওঠে। দু’পক্ষের মধ্যে যেন যুদ্ধের দামামা বেজে ওঠে। যদিও শেষে দু’পক্ষকেই পিছু হটতে দেখা যায়।
তেহরান মনে করছে, ‘ভাড়াটে’ হ্যাকার দিয়ে ইরানের টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি নির্ভর সমস্ত রকম যোগাযোগ ব্যবস্থাকে বিপর্যয়ে ফেলতে যুক্তরাষ্ট্র এই সাইবার হামলা ঘটিয়েছে। তাদের দাবি, ২০১৮- ২০১৯ সালে ইরানকে টার্গেট করে চালানো প্রায় ৩ কোটি ৩০ লাখ সাইবার হামলার চেষ্টা রুখে দেয়া হয়েছে।
তবে এবারের হামলা ইরানের ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ বলে স্বীকার করছেন সেখানকার বিশেষজ্ঞরা।


