পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম:বিনা অপরাধে বিনা বিচারেই ইসরায়েলের কারাগারে বন্দি রয়েছেন অধিকাংশ ফিলিস্তিনি। যুদ্ধবিরতির চুক্তি অনুযায়ী যেসব ফিলিস্তিনিকে ইসরায়েল মুক্তি দিয়েছে, তাদের বেশির ভাগই বিনা বিচারে বছরের পর বছর আটক ছিলেন। এসব ভুক্তভোগীদের প্রায় সবাই নারী ও শিশু। খবর সিএনএন ও বিবিসির।
যুদ্ধবিরতির চারদিনে গত শুক্রবার থেকে সোমবার রাত পর্যন্ত ৬৯ জিম্মিকে মুক্তি দিয়েছে গাজার হামাস। বিনিময়ে ১৫০ ফিলিস্তিনি কারাবন্দিকে মুক্তি দিয়েছে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ।
গত চারদিনে ইসরায়েলি কারাগার থেকে যত ফিলিস্তিনি মুক্তি পেয়েছেন, তাদের মধ্যে ৯৮ জনই বন্দি ছিলেন বিনা বিচারে। মুক্তিপ্রাপ্ত ১৫০ জন ফিলিস্তিনির মধ্যে ১১৯ জন শিশু এবং ৩১ জন নারী।
ফিলিস্তিনি প্রিজনার্স ক্লাব ও ইসরায়েলি কারাকর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার রাতে যে ৩৩ ফিলিস্তিনি মুক্তি পেয়েছে, তাদের মধ্যে ৩০ জন শিশু, যাদের বয়স ১৮ বছরের নিচে। ৩০ জনের মধ্যে ২৯ জন ছেলে এবং একটি মেয়ে। এসব শিশুরা কেউ কেউ কয়েক বছর ধরেই বিনা বিচারে ইসরায়েলি কারাগারে বন্দি রয়েছে।
ফিলিস্তিনি প্রিজনার্স ক্লাব জানিয়েছে, ইসরায়েলি বাহিনীর গুলির মুখে তাদের দিকে পাথর ছোড়ার কারণে অনেক ফিলিস্তিনি শিশুকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ইসরায়েলি বাহিনী অভিযানের নামে কাউকে কাউকে আটক করে নিয়ে গেছে কোনো কারণ ছাড়াই।
ফিলিস্তিনি প্রিজনার্স ক্লাবের কর্মকর্তা আমাল সারাহনেহ জানান, বিগত দেড় মাসে দখলকৃত পশ্চিমতীর ও জেরুজালেম থেকে ২০৭০ জনকে ধরে নিয়ে গেছে ইসরায়েলি বাহিনী। তাদের মধ্যে ৬০ জন পূর্ণবয়স্ক নারী।
গত ৭ অক্টোবর থেকে পরবর্তী দেড় মাসে গাজা, পশ্চিম তীর ও জেরুজালেম থেকে ৩২৬০ নারী ও শিশুকে আটক করে নিয়ে গেছে ইসরায়েলি সেনা-পুলিশ।
হামাসের হামলার প্রতিশোধ নিতে ৭ অক্টোবর থেকে গাজা উপত্যকায় নির্বিচার বিমান হামলা চালিয়ে ১৫ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী। হামলায় আহত হয়েছে আরও ৩৬ হাজার ফিলিস্তিনি।


