ঈদযাত্রা হোক বিড়ম্বনা মুক্ত

ঈদযাত্রা হোক বিড়ম্বনা মুক্ত

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : রমজানুল মোবারকের শেষেই আগম ঘটে পবিত্র ঈদুল ফিতরের। এই ঈদে শহুরী মানুষেরা নাড়ীর টানে ব্যাপকহারে গ্রামে যান। পথে পথে চাঁদাবাজির একটা বিড়ম্বনা থাকেই। যদিও প্রশাসন থেকে বারবার বলা হচ্ছে যেখানেই বিড়ম্বনা সেখানেই ব্যবস্থা। মানুষ আশ^স্ত হলেও বাস্তবে ঘটে উল্টো। এখন নানা এলাকায় রাস্তায় রয়ে গেছে খানাখন্দ। এই খানাখন্দ দূর করাটা খুবই জরুরি। দ্রুত মেরামত করে ঈদে উপযোগী করে তোলা একান্ত জরুরি। ঈদযাত্রায় আমরা দেখতে পাই, শুধুই বেহাল সড়ক-মহাসড়ক নয়, অজ্ঞান পার্টি, টানা পার্টি থেকে শুরু করে ছিনতাইকারীদের দৌরাত্ম্যও তুমুল বেড়ে যায়।

অতি সন্তর্পণে জাল টাকার ছড়াছড়িতে ক্ষতিগ্রসন্ত হয় অসহায় মানুষ। ঈদের টিকিট সংগ্রহ করতে যে যুদ্ধ চলে তা প্রাচীন হয়ে যাচ্ছে। টিকিট সংগ্রহের পর যাত্রাপথের শঙ্কা থেকেই যায়। এবার ঈদ যাত্রা শুরু হচ্ছে ৩০ মে থেকে। ৫ জুন ঈদুল ফিতর হবে ধরে নিয়ে ১৭ মে থেকে সড়কপথে আগাম টিকিট বিক্রি শুরু হয়েছে। এবারের ঈদ যাত্রায় ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-টাঙ্গাইল, ঢাকা-আরিচা, ঢাকা-আশুলিয়া-নবীনগর মহাসড়কে যাত্রীদের ভোগান্তিতে পড়তে হবে—এমন আশঙ্কার কথা উল্লেখ করে জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সওজ অধিদপ্তরের মহাসড়ক উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা বিভাগ-এইচডিএমের সর্বশেষ তথ্য অনুসারে, অধিদপ্তরের ২৬.৩২ শতাংশ বা পাঁচ হাজার কিলোমিটার সড়ক ভাঙাচোরা।

আমরা জানি, ঈদের সময় ঘরমুখো মানুষের ভিড় সাধারণতই বেড়ে যায়। নিকটজনদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে নাড়ীর টানে বাড়ি ফেরে মানুষ। স্বাভাবিক কারণেই এ সময় আন্ত জেলা বাস কম্পানিগুলো তাদের ট্রিপের সংখ্যা বাড়িয়ে দেয়। ঘরমুখো মানুষের ভিড় সামাল দিতে চালু হয় বিশেষ সার্ভিস। এ সময় বিআরটিসিও বিশেষ সার্ভিস চালু করে। কিন্তু ঘরমুখো মানুষের চাপ সামাল দেওয়া অনেক সময় সম্ভব হয় না। ঈদের সময় দেখা যায়, আঞ্চলিক রুটের অনেক বাস চলে আসে মহাসড়কে। এসব বাস মহাসড়কে যানজটের অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়ায়। একদিকে এসব বাসের চালক মহাসড়কে যানবাহন চালানোর ব্যাপারে অভিজ্ঞ নয়, তার ওপর রয়েছে যত্রতত্র বাস থামিয়ে যাত্রী ওঠানামা। অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায়, মাঝরাস্তায় গাড়ি থামিয়ে যাত্রী তোলা হচ্ছে বা নামানো হচ্ছে। এতে পেছনে যানবাহনের লম্বা লাইন পড়ে যায়, সৃষ্টি হয় যানজট।

আমরা আশা করবো, দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষ ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে সড়ক-মহাসড়ক সংস্কারের কাজটি দ্রুত শেষ করবে। ভাঙাচোরা রাস্তা যেন কোনো দুর্ঘটনার কারণ না হয় সেদিকে অবশ্যই দৃষ্টি দিতে হবে। হাতে যে কয়েক দিন সময় আছে, এর মধ্যে যেটুকু সম্ভব রাস্তা মেরামত করা গেলে ঈদ যাত্রায় বিড়মন্বনা কমবে। কমবে দুশ্চিন্তাও।
চালকদের উপর নির্ভর করে পথের অনেক কিছু। মানুষের জীবনও তাদের গতিবেগের উপর অনেক নির্ভরশীল। চালকদেরও ঘরমুখো মানুষের কল্যাণে নিবেদিত হয়ে কাজ করতে হবে। যত্রতত্র গাড়ি থামানো ও যাত্রী ওঠানামা বন্ধ করা গেলে অনেকটা নির্বিঘ্ন হবে ঈদযাত্রা। দৃষ্টি দিতে হবে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির দিকেও। নির্বিঘ্ন হোক ঈদযাত্রা সংশ্লিষ্ট সব মহলের সক্রিয় সহযোগিতায়।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *