পবিত্র সিয়ামসাধনার একটি মাস কাটানোর পর আল্লাহর পক্ষ থেকে মুমিনের জীবনে পুরস্কার স্বরূপ একটি আনন্দ উপলক্ষ আল্লাহ তাআলা বরাদ্দ করে দিয়েছেন পবিত্র ঈদুল ফিতর। এই ঈদ ধনী গরিব সবাই মিলে এককাতারে দাঁড়িয়ে নামাজ আদাইয়ের ঈদ। এখানে কোনো ভেদাভেদ নেই। নেই কোনো মলোমালিন্য। আনন্দযাত্রায় আমরা যেসব ভুল করছি এর মাশুলও দিতে হচ্ছে আমাদের। আমরা জানি, রমজান মাসের শেষ দিন সন্ধ্যাঘন পশ্চিমাকাশে শাওয়াল মাসের বাঁকা চাঁদ উদিত হওয়ার মধ্য দিয়ে দিকে দিকে কীভাবে ছড়িয়ে পড়ে ঈদুল ফিতরের আবাহন- ‘ও মন রমজানের ওই রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ। কী চমৎকার ছন্দবদ্ধ এক আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম। এবার সেই খুশির দিনেও দুঃখের ছায়াপাত করে থাকবে রক্তাক্ত গুলশান। তারপরও আমার বার্তার পাঠক, লেখক, শুভানুধ্যায়ীসহ সবাইকে জানাই ঈদ মোবারক। এ উৎসবে সবার জীবন ও উদযাপন নির্বিঘœ হোক- এটাই প্রত্যাশা করি। শ্রেণি, সম্প্রদায়, ধর্ম নির্বিশেষে ঈদের আনন্দ ছড়িয়ে পড়বে। ভেদাভেদ ভুলে এক কাতারে দাঁড়ানো এবং নিজের আনন্দ অন্যের মধ্যেও বিলিয়ে দেওয়ার যে শিক্ষা ঈদুল ফিতর দিয়ে থাকে, সবার মধ্যে তা সঞ্চারিত হবে। এবার সড়ক-মহাসড়কের পরিস্থিতি গত দুই ঈদুল ফিতরের তুলনায় ভালো; আমরা দেখছি। রেলওয়েতেও এসেছে অপেক্ষাকৃত শৃঙ্খলা। নৌপথেও যেন নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা ব্যবস্থা অটুট থাকে- এটাই কামনা। ঈদের আনন্দ যেন দুর্ঘটনায় বেদনাহত না হয়, সেই দায়িত্ব আমাদের সবার। একই সঙ্গে ঈদ-পরবর্তী দিনগুলোতেও সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় জীবনে আমরা স্থিতি, শৃঙ্খলা ও সমৃদ্ধি কামনা করি।
আমরা জানি, কেবল বাংলাদেশে নয়; এবার ঈদুল ফিতর এমন সময় উদযাপিত হচ্ছে, যখন মুসলিম বিশ্বের আবেগজড়িত মধ্যপ্রাচ্যে ইসলামের নামেই বর্বরতা চালিয়ে যাচ্ছে আইএস নামের ফেতনা। গেলো বারের তুলনায় এবার আমাদের দেশ অনেকটাই শান্তিপূর্ণ। সামনের দিনগুলোও শান্তি স্থিতিশীল থাকুক এ প্রত্যাশা তো সবার। জঙ্গিগোষ্ঠী মানুষের জীবন, মর্যাদা ও জীবিকা নিয়ে রীতিমতো ছিনিমিনি খেলছে। নিহত হচ্ছে নিরপরাধ ও বেসামরিক নাগরিক। নারী ও শিশুর সংখ্যাও ব্যাপক। এই বেদনা, ক্ষোভ ও নির্যাতনের মধ্যেই ইরাক, সিরিয়া ও লিবিয়ার নাগরিকরা ঈদুল ফিতর পালন করবে। আমরা প্রার্থনা করি, বাংলাদেশসহ মুসলিম বিশ্বে শান্তি ও সম্প্রীতির বার্তা বয়ে আনুক ঈদুল ফিতর। ঈদের আনন্দরশ্মিতে কেটে যাক শঙ্কা ও সংঘাত। মিলনের বার্তা নিয়ে আসা বাঁকা চাঁদের স্নিগ্ধ আলোয় উদ্ভাসিত হোক প্রতিটি হৃদয়। ঈদুল ফিতর উপলক্ষে আমরা প্রার্থনা করি, জঙ্গিবাদ মোকাবেলায় ভেদাভেদ ভুলে দেশ, জাতি ও রাষ্ট্রের কল্যাণে আমাদের নেতৃবৃন্দ এক কাতারে দাঁড়াবেন। বাংলাদেশের ধর্ম ও আদর্শ নির্বিশেষে সব মানুষ শান্তি ও সম্প্রীতির সঙ্গে বসবাস করবে। এগিয়ে যাবে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে। ঈদুল ফিতরের বর্ণিল পোশাক, বহুমাত্রিক আয়োজনের মধ্য দিয়ে আমরা যেনো আরও রঙিন হয়ে ওঠি। মানুষের হৃদয় রাঙানোই হোক আমাদের স্বপ্ন।


