পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : ঈমানের উপরে চলে, ঈমানের উপর যেন মৃত্যু হয়, সবসময় সেই চেষ্টা করা উচিৎ—বলে জানিয়েছেন বর্তমান বিশ্বের অন্যতম অধ্যাত্মিক রাহবার, জমিয়তে উলামা হিন্দের সেক্রেটারি জেনারেল আওলাদে রাসূল মাওলানা মাহমুদ আসআদ মাদানী।
তিনি বলেন, ঈমানের উপর মৃত্যু হবে কিনা জানিনা তবে আমাদের চেষ্টা করা উচিৎ। কারণ আল্লাহ পাক বলেছেন, ‘হে ঈমানদাররা! তোমরা জাহান্নামের আগুন থেকে নিজে বাঁচো, নিজের পরিবারকে বাঁচাও।’ সুতরাং এ কথা ভাববার সুযোগ নেই যে, আল্লাহ তো আমাদের মানুষ বানিয়েছেন, মুসলিম বানিয়েছেন, শেষ নবীর উম্মত বানিয়েছেন, তাই এখন চাদর মুড়ি দিয়ে শুয়ে পড়ি, আল্লাহ ই তো বাঁচাবেন! সেটা কখনোই হবে না। আমাদের চেষ্টা করতে হবে, তারপর আল্লাহর কাছে দুআ করতে হবে।আল্লাহ আমাদের টোটাফাটা আমল কবুল করে নিন, খাতেমা বিল খায়র করে দিন।
মঙ্গলবার (২৩ মার্চ) বাদ মাগরিব মাদানী খানকাহ ও জামিয়াতুশ শায়খ আসআদ মাদানী (রহ.) সিলেট মিলনায়তনে শাইখুল ইসলাম সাইয়্যিদ হুসাইন আহমদ মাদানী (রহ.) এর দৌহিত্র এসব কথা বলেন।
হযরত আব্দুল কাদের জিলানী (রহ.) এর খাদেমের একটি ঘটনা উল্লেখ করে সাইয়্যিদ মাহমুদ মাদানী বলেন, হযরত আব্দুল কাদের জিলানী (রহ.) এর এক খাদেম বলেন,আমি বার বছর আপনার খেদমত করছি। তাহাজ্জুদের অযু থেকে এশার নামাজ পর্যন্ত আপনার সাথে লেগে আছি, কিন্তু আমার মাকসাদ হাসিল হয়নি, আমি ক্লান্ত হয়ে পড়েছি, তাই আমি এখন অন্য শায়েখের তালাশে যাচ্ছি।
হজরত শায়খ বললেন, আচ্ছা বলো, তুমি কি জন্য এসেছিলে, আর কেনইবা অন্য জায়গার তালাশে যাচ্ছ।
খাদেম বলল, আজ বারো বছর যাবত আপনার সাথে আছি কিন্তু কখনো আপনার থেকে কোন কারামত দেখলাম না! না বাতাসে উড়তে দেখলাম, না পানিতে ভাসতে দেখলাম!
হযরত বললেন, আচ্ছা বলো তো, এই বারো বছর কখনো আমার থেকে সুন্নত বিরোধী কাজ দেখেছ?
খাদেম এবার চিন্তায় পড়ে গেল। কিছুক্ষণ পর বলল, মনে পড়ে না তো এই বারো বছরে আপনার থেকে কোন সুন্নত বিরোধী আমল হতে দেখিনি। তখন হযরত বললেন, এর চেয়ে বড় কারামত আর কি দেখতে চাও?
শানেশীনে ফিদায়ে মিল্লাত মাওলানা মাদানী বলেন, দুনিয়াতে যে যে কাজই করুক কখনে সে সফল হয় কখনো ব্যর্থ কিন্তু আল্লাহর জিকির এমন মহা মূল্যবান সম্পদ যে, আল্লাহ পাক কখনো তা ব্যর্থ করেন না।
জমিয়তে উলামা হিন্দের সেক্রেটারি জেনারেল স্বীয় আব্বাজানের একটি ঘটনা উল্লেখ করতে যেয়ে বলেন, আমাদের হযরত একবার হজে যাচ্ছিলেন, তো আমাকে তাঁর সাথে যাওয়ার প্রোগ্রাম ছিল। হযরতেরও ভিসা হয়ে গেছে আমারও হয়ে গেছে। টিকিট কনফার্ম। যাওয়ার একদিন আগে দিল্লিতে জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হলো। আব্বাজান ছিলেন প্রধান। যেহুতু সভা আমি ডেকেছিলাম তো সবাই বলতে লাগল, গুজরাট দাঙ্গা হয়েছে কেবল, সেখানে মেহনত চলছে, কাজ চলছে, এখনই যদি সব ছেড়ে হজে চলে যান তাহলে কাজের কি হবে? আপনি অন্য কাউকে হজে নিয়ে যান একে রেখে যান।
আগামীকাল ফ্লাইট, সাবান ইত্যাদি সব প্যাক করা হয়ে গেছে। অথচ হযরত বললেন, ঠিক আছে আমি অন্য কাউকে নিয়ে যাই। এ এখানে থেকে যাক। তো হজে আমার ডাক আসেনি তাই ভিসা, টিকেট হওয়ার পরও আমি যেতে পরলাম না। যখন মানুষের ডাক আসবে তখনই কেবল সে আল্লাহর ডাকে সাড়া দিতে পারবে। সুতরাং পাকাপোক্তভাবে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। যা কিছুই হোক না কেন আল্লাহর জিকির ছাড়ব না।



