উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে স্বীকৃতি আসুক

উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে স্বীকৃতি আসুক

উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে স্বীকৃতি আসুক

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : দেশের মানুষ অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে একটি সাফল্যের জন্য। উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে স্বীকৃতি আসুক। করোনা মহামারি বিশ্ব অর্থনীতিতে রীতিমতো ধস নামিয়েছে। অনেক দেশেরই জিডিপির প্রবৃদ্ধি নেতিবাচক ধারায় চলে গেছে। বাংলাদেশের অর্থনীতিতেও করোনা আঘাত হেনেছে। রপ্তানি আয় কমে গিয়েছিল। রাজস্ব আদায়ের হার কমেছে। মূলধনী যন্ত্রপাতির আমদানি কমেছে। চাকরি হারিয়েছে লাখো মানুষ। দারিদ্র্যের হার বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ কি পারবে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে যেতে-সৃষ্টি হয়েছিল এমন প্রশ্ন বা সন্দেহের। তা কেটেছে জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসি (সিডিপি) এবং সরকারের যৌথ পর্যবেক্ষণে। মাথাপিছু জাতীয় আয়, মানবসম্পদ ও অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা-তিন সূচকেই লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে এগিয়ে আছে বাংলাদেশ। আশা করা যায়, ২০২৪ সালের মধ্যেই বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশের কাতারে চলে যাবে।

কয়েক বছর ধরেই বাংলাদেশ ধারাবাহিকভাবে এগিয়ে চলেছে। অবকাঠামো খাতে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। পদ্মা সেতু এখন দৃশ্যমান বাস্তবতা। বিদ্যুতে দেশ আজ স্বয়ংসম্পূর্ণ। মাথাপিছু আয় দুই হাজার ডলার ছাড়িয়েছে। করোনার মধ্যেও বর্তমান অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে রপ্তানি আয়ে ভালো প্রবৃদ্ধি হয়েছে। তৈরি পোশাক রপ্তানি ছাড়া অন্যান্য খাতেও রপ্তানি বাড়ছে। বাংলাদেশের ওষুধ যাচ্ছে ১৬৬টি দেশে। প্রবাসী আয় উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছাড়িয়েছে ৪০ বিলিয়ন ডলার। বাংলাদেশের অগ্রগতির স্বীকৃতিও মিলছে। লন্ডনভিত্তিক অর্থনৈতিক বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান বিএমআই রিসার্চ ভবিষ্যতের যে ১০টি উদীয়মান বাজারকে চিহ্নিত করেছে, তার মধ্যে প্রথম স্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। তাদের পূর্বাভাস অনুযায়ী গার্মেন্ট ও কৃষিভিত্তিক পণ্য রপ্তানি করে দেশটি ক্রমেই জোরালো প্রবৃদ্ধি অর্জন করবে। যুক্তরাষ্ট্রের সংস্থা ব্লুমবার্গ বলছে, বাংলাদেশ হতে পারে সর্বোচ্চ প্রবৃদ্ধি অর্জনকারী দেশ। ইন্টারন্যাশনাল মনিটারি ফান্ড বা আইএমএফের তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশ এখনই তৃতীয় সর্বোচ্চ প্রবৃদ্ধি অর্জনকারী দেশ। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার এমন আশাবাদেরই প্রতিফলন দেখা যায় বাংলাদেশের দৃশ্যমান অগ্রগতিতে।

শুধু অর্থনৈতিক অগ্রগতি নয়, জনস্বাস্থ্য, স্যানিটেশন, শিক্ষা, শিশু ও মাতৃমৃত্যুর হার হ্রাস, নারীর উন্নয়নসহ সামাজিক নানা সূচকেও বাংলাদেশ ধারাবাহিকভাবে এগিয়ে চলেছে। ফলে বাংলাদেশ খুব স্বাভাবিকভাবেই এলডিসি থেকে উন্নয়নশীল দেশ হতে যাচ্ছে। সিডিপি ও সরকারের যৌথ প্রতিবেদনে দেখা গেছে, আগামী বছর ফেব্রুয়ারিতে জাতিসংঘে যে পর্যালোচনা হওয়ার কথা রয়েছে, সেখানে বাংলাদেশ তিনটি সূচকেই লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে এগিয়ে থাকবে। আশা করা হচ্ছে, আগামী বছর ২২ থেকে ২৬ ফেব্রুয়ারি নতুন করে যে পর্যালোচনা হওয়ার কথা রয়েছে, সেখানেও বাংলাদেশ তিনটি সূচকে এগিয়ে থাকবে।

কভিড-১৯-এর কারণে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে কিছু সময়ের জন্য নেতিবাচক প্রভাব পড়েছিল। কিন্তু এক লাখ কোটি টাকার বেশি প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণাসহ সরকারের সময়োচিত বিভিন্ন পদক্ষেপে অর্থনীতি আবারও ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করে। উন্নয়নের এই গতি অব্যাহত থাকবে এবং ২০২৪ সালে অনুষ্ঠেয় জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনেই বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে চূড়ান্ত স্বীকৃতি পাবে বলে আমরা আশাবাদি।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *