আদিল মাহমুদ ● রৌদ্রজ্জ্বল মঙ্গলবার। গ্রামের একঝাঁক স্বপ্নবাজ তরুণ দাঁড়িয়ে আছে কানাইঘাট দারুল উলূম মাদরাসায় বাঙালি আলেম সমাজের অহংকার, অনন্য প্রতিভাধর, সংগ্রামী সাধক মাওলানা মুশাহিদ আলী বায়মপুরী রহ.-এর কবরের পাশে। মোনাজাত করছে অশ্রুসিক্ত নয়নে। স্বপ্নবাজ তরুণদের চেহারায় স্পষ্ট ফুটে উঠেছে নির্বাচনী দৌড়ঝাঁপের ছাপ। দেখেই বুঝা যাচ্ছে তারা ক্লান্ত-পরিশ্রান্ত বিনিদ্রায় কাটিয়েছে বহু রাত, কিন্তু উদ্যোমী, প্রত্যয়দীপ্ত।
এসব তরুণদের একজনের সাথে আলাপ করে জানতে পারলেন, তাদের একজন পঞ্চম উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে কানাইঘাট উপজেলা থেকে চশমা প্রতীকে ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। বিজয় উল্লাস শেষে তরুণদের সাথে নিয়ে মোনাজাত করতে এখানে হাজির হয়েছেন।
১৮ মার্চ সোমবার পঞ্চম উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে ১১৬টি উপজেলায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সিলেট জেলার কানাইঘাট উপজেলা থেকে চশমা প্রতীকে ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করেছেন ওই স্বপ্নবাজ তরুণ। যুগে যুগে যে তরুণ এবং তারুণ্যের জয়গান হয়েছে আবার প্রমাণ দিয়েছেন তিনি। কানাইঘাট উপজেলা নির্বাচনে বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়েছেন এই তরুণ। তার প্রাপ্ত মোট ভোট ৩০ হাজার ৯ শত ৭৯। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী এমাদুর রহমান টিওবওয়েল প্রতীকে নির্বাচন করে ভোট পেয়েছেন ৮ হাজার ৪ শত ২৮।
এই স্বপ্নবাজ তরুণ আর কেউ নন আমাদের ভাই মাওলানা আব্দুল্লাহ শাকির। তিনি বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামা গণসংযোগ সম্পাদক। কানাইঘাটের আলেম-উলামা ও সর্বস্তরের জনগণের মনোনীত প্রার্থী ছিলেন তিনি।
মঙ্গলবার এশারের নামাজের পর নবনির্বাচিত ভাইস চেয়ারম্যান মাওলানা আব্দুল্লাহ শাকিরের সঙ্গে কথা বলে জানতে পারলাম, তিনি কানাইঘাট দারুল উলূম মাদরাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা মুহাম্মদ বিন ইদ্রিস শায়খে লক্ষীপুরী ও কানাইঘাট মাদরাসার শাইখুল হাদিস মাওলানা আলিমুদ্দীন দুর্লভপুরী পরামর্শে এবং তাদের দুআ নিয়েই নির্বাচনেরে উদ্দেশ্যে মাঠে নিমেছিলেন। ‘আঞ্চলিকতা নয়, জনগণের সেবাই আমার আমার লক্ষ্য। দলীয় চিন্তা নয়, উন্নয়নই আমার কাম্য। দ্বীনের স্বার্থে দেশের স্বার্থে, নিজেকে বিলিয়ে হতে চাই ধন্য।’ এসব স্লোগান নিয়ে তিনি নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়েছেন।
মাওলানা আব্দুল্লাহ শাকির জানান, কানাইঘাটের মাওলানা মুহাম্মদ বিন ইদ্রিস শায়খে লক্ষীপুরী ও মাওলানা আলিমুদ্দীন দুর্লভপুরী হযরতদের আমি অভিনন্দন জানাই। তারা চেয়েছিলেন, দুআ করেছিলেন বলেই আমি নির্বাচিত হতে পেরেছি। আমার প্রেরণার বাতিঘর বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামার চেয়ারম্যান, শোলাকিয়া ঈদগাহের গ্র্যান্ড ইমাম, সাইয়্যিদ আসআদ মাদানী রহ.-এর খলীফা, শাইখুল হাদীস আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ দামাত বারাকাতুহুমের দুআ ও আশির্বাদ আমার সঙ্গে সবসময় ছিল। হুযূরকে আমার অন্তরের অন্তস্থল থেকে অভিনন্দন ও শুকরিয়া জানাই।
তিনি আরও বলেন, কানাইঘাটের মাটি ও মানুষকে আমি ভালোবাসি। কানাইঘাটের মানুষের জন্য কিছু একটা করার ইচ্ছে আমার কৈশোর থেকে ছিল। কানাইঘাটের সর্বস্তরের জনগণ আমাকে ভালোবেসে ভোট দিয়েছে। আল্লাহর ফজল ও করমে আমি ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছি। আমি কানাইঘাটবাসীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। আমার এ বিজয় কানাইঘাট দারুল মাদরাসার বিজয়, উলামায়ে কেরাম ও তাওহিদী জনতার বিজয়।
কানাইঘাটের তরুণদের সাথে নিয়ে আপনি কী করতে চান জানতে চাইলে নবনির্বাচিত এই ভাইস চেয়ারম্যান বলেন, তরুণ প্রজন্মই সমাজ পরিবর্তনের হাতিয়ার। তাদের স্বপ্ন দেখাতে হবে। স্বপ্ন না দেখালে সাফল্য আসবে না। এক নতুন দেশ গড়ার স্বপ্নে তরুণদের অনুপ্রাণিত করার চেষ্টা করবো। ভবিষ্যৎ স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ে তুলতে তরুণদের বিভিন্ন উদ্যোগ, পরামর্শ ও চাওয়া-পাওয়ার কথা শুনবো। তিনি কানাইঘাটকে একটি আদর্শ উপজেলা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করারও আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
মাওলানা আব্দুল্লাহ শাকির জানান, আমাদের কানাইঘাটের উপজেলা নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীক নিয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন জনাব আব্দুল মোমিন চৌধুরী। তাঁর সাথে কথা হয়েছে। তিনি অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, যে কোন কাজে তিনি আমার পাশে থাকবেন। আমি তরুণদের উদ্যোমতা ও বৃদ্ধদের অভিজ্ঞতা নিয়ে আমাদের উপজেলা চেয়ারম্যান জনাব আব্দুল মোমিন চৌধুরীর সাথে থেকেই কানাইঘাট উপজেলাকে উন্নতি ও অগ্রগতির রোল মডেল হিসেবে পরিণত করবো ইনশাআল্লাহ।
২০১৯ সালের এই অবিশ্বাসী নির্বাচনী মৌসুমে মাওলানা আব্দুল্লাহ শাকির নামের এই স্বপ্নবাজ তরুণ দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। দেশের সমৃদ্ধি সবাই চায়। মানুষ চায় একটি সমৃদ্ধ দেশের নাগরিক হতে। আগামীর সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে তরুণদেরই দেশ সেবায় এগিয়ে আসতে হবে। তরুণ প্রজন্মের নেতৃত্বেই গড়ে উঠবে আগামীর সমৃদ্ধ বাংলাদেশ।


