- নাঈমুল ইসলাম
এই প্রকৃতির মাঝে আমার জন্ম। হয়তো কোনো এক মহৎ এর হাতে রোপণকৃত বীজ থেকে। আমাকে কি আসলেই রোপণ করা হয়েছিল, নাকি অবহেলায় ময়লার ঝুড়ি কিংবা ডাস্টবিনে ফেলে আসা কোনো বীজ থেকে জন্মেছি? তার উত্তর জানি কি আমি? না। জানিনা।
সময়ের মত সময় যাচ্ছে, আর আমার মত আমি বেড়ে উঠছি। আমার বিশালতা বাড়ছে সময়ের সাথে সাথে। আমি এখন নিজের উপর নির্ভরশীল। আমাকে আরো বিশাল হবার জন্যে ছোট করে দেয়া হয় আমার ডালপালাগুলো, তখন কিছু সময়ের জন্য বেশ দুর্বল হয়ে পড়ি।
কিছুদিন পর আবার নতুন করে ফিরে পাই আমার ডালপালাগুলো, সবুজ পাতার আবরণে ঢেকে যায় আমার পুরো দেহ। নতুন করে নতুন জীবন ফিরে পাওয়ায় সেসময় আমার সঙ্গ দেয় সবাই। যখন প্রচুর রোদ হয়, তখন মানুষ এসে বিশ্রাম নেয় আমার ছায়াতলে। শুধু তাই নয়। যখন সবুজ পাতায় আচ্ছন্ন থাকে আমার সারাদেহ, তখন নানা রকমের পাখি আসে। সঙ্গ দেয় আমার। আর যে পাখির সঙ্গে আমার ভালো বন্ধুত্ব হয়, সে এসে বাসা বানিয়ে থাকতে শুরু করে আমার ডালে।
আর এতকিছুর মাঝে যার জন্য আমার জন্ম, আমার বেড়ে উঠা এবং আমার এই বিশালতা। সে হলো ‘মাটি’! মাটি আমায় জল দেয়। সে জল খেয়ে আমি বাঁচি। ঝড়-বৃষ্টিতে শক্ত করে আগলে রাখে আমায়! আমি কৃতজ্ঞ তার কাছে। এভাবেই চলতে থাকে বৃক্ষ বা আমার জীবন। চলছে, চলছে…!
অনেকদিন পর একদিন প্রকৃতির ডাক আসলো। আমি সাড়া দিলাম। সম্ভবত প্রকৃতি আমায় প্রকৃতির মাঝে অন্য কোথাও ডাকছে। তারপর আস্তে আস্তে আমার ডালে থাকা সবুজ পাতাগুলো শুকিয়ে যেতে শুরু করেছে! ঝরে পড়ছে আমার শুকনো পাতাগুলো। ডালগুলো উদাম হয়ে গিয়েছে প্রায়। এখন পাখিগুলো বাসা বেধেছে অন্য কোথাও। আমার গোড় থেকে পুরো ভেতরটা তিলে তিলে খেয়ে নিচ্ছে একদল উইপোকা।
এখন আর কোনো পাখি আমার ডালে বসে লেজ নাড়িয়ে মনের সুখে গান করে না। আগের মত কোনো পাখি এসে সঙ্গ দেয় না আমায়! পুরোপুরিভাবে পরিত্যক্ত আমি। আর আমার ভেতরটা চেটেপুটে খেয়ে নিয়েছে অপ্রত্যাশিত একদল উইপোকা। তবে তখনও আমি আমার পরিত্যক্ত মরাদেহের মাঝেই রয়ে গিয়েছি। ততদিনে আমার একাংশ ব্যতীত পুরোটা খেয়ে শেষ দিয়েছে উইপোকা। এখন আমি আমার শেষ দেখবার অপেক্ষায়।
হঠাৎ কোনো এক শেষ বিকেলে একশঙ্খচিল এসে বসল—উইপোকার না খেয়ে রাখা বিশেষ একডালে। ডালে বসে বেশ কিছুক্ষণ আমার চারপাশটা দেখছিল। আমি জিজ্ঞেস করলাম, কে তুমি? এই অবেলায় এখানে এসেছো কেন? সে কে ছিল? বায়স নাকি শঙ্খচিল? আর কেনই বা এসেছিল আমার বিদায়বেলা?



