একাদশ নির্বাচনে কাকে সমর্থন করছে হেফাজত?

একাদশ নির্বাচনে কাকে সমর্থন করছে হেফাজত?

পাথেয় রিপোর্ট : সময় বদলে গেছে। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদি দল বিএনপির স্থানীয় বিভিন্ন নির্বাচনে হেফাজতে ইসলামের নাম নিয়ে প্রার্থীদের পাশে দাঁড়াতে দেখা গেলেও আসন্ন একাদশ নির্বাচনে তেমন ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা নেই বলে জানা গেছে। হেফাজতে ইসলামের আমীর আল্লামা আহমদ শফী নিজেই বলেছেন আমার এবং আমার সংগঠন হেফাজতে ইসলাম রাজনীতির বাইরে থাকবে।

আহমদ শফী বাকি জীবন হাদীসের সঙ্গেই থাকতে চান বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।

তবে হেফাজতে ইসলামের মধ্যে এমন অনেক রাজনীতিবিদ আছেন যারা সরাসরি খালেদার রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। বেগম জিয়ার ধানের শীস নিয়েই তারা নির্বাচন করবেন এমন খবরও ঠাওর হচ্ছে। এর আগেও তারা বিএনপির মার্কাতেই নির্বাচন করেছেন। এরমধ্যে জমিয়েত উলামায়ে ইসলামের দুই বর্ষীয়ান লিডার মাওলানা নুর হোসাইন কাসেমী ও মুফতি ওয়াক্কাসের নাম বিশেষভাবে উল্লেখ করা যায়। মুফতি ওয়াক্কাস বিএনপি সরকারের সংসদ সদস্যও ছিলেন। এবারও তিনি নির্বাচনের জন্য মনোনয়ন কিনেছেন। অন্য দিকে মাওলানা ইসহাকের নেতৃত্বাধীন খেলাফত মজিলসও হেফাজতের সঙ্গে রয়েছে, রয়েছে বিশ দলীয় জোটের সঙ্গেও।

হেফাজতের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, তারা যদিও হেফাজতে ইসলামের বিভিন্ন পদে আছেন কিন্তু নির্বাচনে তারা কোনো প্রভাব ফেলতে পারবেন না। হেফাজতে ইসলাম রাজনীতির ঊর্ধ্বে আল্লামা শফীর এই ঘোষণায় কেউ আর চির ধরাতে পারবে না।

ওদিকে লালবাগীয় ইসলামী ঐক্যজোটের মাওলানা আবদুল লতীফ নেজামী, মাওলানা আবুল হাসানাত আমিনী ও মুফতি ফয়জুল্লাহ সরাসরি আওয়ামী লীগ থেকেই মনোনয়ন পাওয়ার চেষ্টায় এখন মুখিয়ে আছেন। একটি সূত্র বলছে, ফয়জুল্লাহ এবং লতীফ নেজামী মনোনয়ন না পেলেও হাসানাত আমিনী মনোনয়ন পাওয়ার দৌড়ে অনেক এগিয়ে আছেন। অবশ্যই তাদেরও ট্যাগ আছে হেফাজতে ইসলামের।

অনেকে দাবি করছে, তারা হেফাজতের নাম ভাঙিয়েই মনোনয়ন পাওয়ার চেষ্টা করছে! তবে এমন খবরের ভিত্তি নেই। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার একটি সূত্র বলছে, মুফতি ফজলুল হক আমিনী রহ.-এর সন্তানকে কেউ নৌকা থেকে চায় না। কারণ, সেখানকার ইসলামপন্থীদের ফিল্ড হলো খালেদা জিয়ার সঙ্গে অাঁতাত করা।

সূত্রটি বলছে, সে অর্থে ভালো করতে পারবেন না হাসানাত আমিনী।

হেফাজতের নেতারা বলেছেন, নির্বাচনসহ বিভিন্ন সময় তাদের সংগঠনকে একটা রাজনৈতিক চেহারা দেয়ার চেষ্টা তারা দেখেন, সেজন্য তারা তাদের অবস্থান তুলে ধরেছেন।

হেফাজতে ইসলামের আমীর আহমদ শফী এক বিবৃতি দিয়ে বলেছেন যে, তাঁর এই সংগঠন এবার নির্বাচনে কোন দল বা কোন প্রার্থীকে সমর্থন করছে না।

অহমদ শফীর ছেলে এবং হেফাজতে ইসলামের প্রচার সম্পাদক মাওলানা আনাস মাদানী বলেছেন,তাদের সংগঠনের সাথে ছোট ছোট অনেক দলের নেতারা সম্পৃক্ত রয়েছেন, সে প্রেক্ষাপটে হেফাজতকে অনেকে রাজনৈতিক দৃষ্টি দিয়ে দেখার চেষ্টা করেন বলে তারা মনে করেন। সেকারণেই তাদের আমীর হেফাজতের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন বলে আনাস মাদানী উল্লেখ করেছেন।

তিনি বলছিলেন, আমাদের শুরু থেকেই বক্তব্য এটাই যে, হেফাজত একটি অরাজনৈতিক এবং আধ্যাত্মিক সংগঠন।ফলে আমরা কোন রাজনীতি করতে পারি না।

বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামার চেয়ারম্যান ও ঐতিহাসিক শোলাকিয়ার গ্র্যান্ড ইমাম ইসলামী চিন্তাবিদ শাইখুল হাদিস ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ বলেছেন, হেফাজত অরাজনৈতিক সংগঠন হলেও এখনকার ঘোষণার একটা রাজনৈতিক তাৎপর্য আছে।

তিনি আরও বলছিলেন, এককালে হেফাজতে ইসলাম সরকারবিরোধী বলে পরিচিত ছিল।এখন উনার ওপর প্রশ্ন উঠতে পারে, উনি যেহেতু বর্তমান সরকারের কাছাকাছি রয়েছেন। তাই উনি নিজেকে পরিষ্কার করলেন যে, আমি কারও সঙ্গে নেই।

ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ আসন্ন নির্বাচনে জামায়াতকে বর্জনের আহ্বানও জানান।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *