একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি এখনো আবেদন করেনি আড়াই লাখ শিক্ষার্থী

একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি এখনো আবেদন করেনি আড়াই লাখ শিক্ষার্থী

নিজস্ব প্রতিবেদক : একাদশ শ্রেণিতে সরকারি-বেসরকারি সব কলেজে ভর্তির তোড়জোর চলছে। তিন দফায় ভর্তি আবেদনের প্রথম দফায় গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত প্রায় ১৩ লাখ ৪ হাজার শিক্ষার্থী বিভিন্ন কলেজে ভর্তির জন্য আবেদন করেছে। তবে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় পাস করেও এখনো কোথাও ভর্তির জন্য আবেদন করেনি সারাদেশের প্রায় আড়াই লাখ শিক্ষার্থী।

প্রথম দফায় ভর্তি আবেদনের সময় আর বাড়ানো হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন আন্তঃবোর্ডের সমন্বয়ক ও ঢাকা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মু. জিয়াউল হক। তিনি বলেন, যারা আবেদন করেনি, তারা আরো দুবার আবেদনের সুযোগ পাবে। প্রায় আড়াই লাখের বেশি শিক্ষার্থী আবেদনের বাইরে থাকার কারণ ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, প্রতি বছর কিছু শিক্ষার্থী নানা কারণে ঝরে যায়। এবারও একই কারণে ঝরে যাবে। তবে ভর্তি কার্যক্রম শেষ হতে হতে এ সংখ্যা আরও কমে আসবে।

এবার এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় পাস করেছে ১৫ লাখ ৭৬ হাজার ১০৪ শিক্ষার্থী। সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য আবেদন করেছে ১৩ লাখ ৪ হাজার ৬৬৬ জন শিক্ষার্থী। সে হিসাবে এখনও ২ লাখ ৭১ হাজার শিক্ষার্থী আবেদন করেনি। তবে কারিগরিতে প্রায় ৪০ হাজার শিক্ষার্থী আবেদন করেছে বলে জানান ঢাকা বোর্ডের সিনিয়র সিস্টেম অ্যানালিস্ট মনজুরুল কবির। তিনি বলেন, ভর্তি কার্যক্রম শেষ না হওয়া পর্যন্ত কত শিক্ষার্থী ভর্তি হয়নি তা বলা যাবে না। তবে পূর্ব অভিজ্ঞতা থেকে বলা যায়, প্রায় লাখের ওপর শিক্ষার্থী প্রতি বছর একাদশ শ্রেণির ভর্তির বাইরে থাকে। এবারও তেমন হতে পারে।

ভর্তি নীতিমালা অনুযায়ী, একজন শিক্ষার্থী অনলাইন ও এসএমএসে সর্বনিম্ন ৫টি ও সর্বোচ্চ ১০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তির জন্য আবেদনের সুযোগ পেয়েছে। এই আবেদন থেকে শিক্ষার্থীর পছন্দক্রম ও যোগ্যতা অনুযায়ী ভর্তির জন্য একটি কলেজ ঠিক করে দেবে শিক্ষা বোর্ড। প্রথম পর্যায়ে নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের ফল প্রকাশ হবে ১০ জুন। শুধু পুনঃনিরীক্ষণের ফল পরিবর্তনের শিক্ষার্থীদের আবেদন নেওয়া হবে ৫-৬ জুন। দ্বিতীয় পর্যায়ে ১৯-২০ জুন এবং তৃতীয় পর্যায়ে আবেদন নেওয়া হবে ২৪ জুন। বেঁধে দেওয়ার সময়ের মধ্যে ভর্তি ও মাইগ্রেশন প্রক্রিয়া শেষ হবে এবং ১ জুলাই একাদশ শ্রেণির নতুন ব্যাচের ক্লাস শুরু হবে।

ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এবারও ভর্তি কার্যক্রমে কারিগরি সহায়তা দিচ্ছে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)। বিরাটসংখ্যক শিক্ষার্থীর আবেদন না করা প্রসঙ্গে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের কলেজ পরিদর্শক অধ্যাপক হারুন-অর-রশিদ সমকালকে বলেন, প্রতি বছর কিছু শিক্ষার্থী ঝরে যায়- এটা সত্য। তবে তাদের অনেকেই কারিগরি ও বিভিন্ন ডিপ্লোমা কোর্সে ভর্তি হয়।

বাংলাদেশ শিক্ষা তথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, মাধ্যমিক স্তরে সবচেয়ে বেশি ৩৮ দশমিক ৩০ শতাংশ শিক্ষার্থী ঝরে যায়। বোর্ডের কর্মকর্তারা বলছেন, বিয়ে, দূরে কলেজ ও নিরাপত্তার অভাবে এ স্তরে সবচেয়ে বেশি ঝরে পড়ে মেয়েরা।

 

_Patheo/105/sl

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *