এখনই শীতার্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর সময়

এখনই শীতার্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর সময়

বইছে শৈত্যপ্রবাহ | মাসউদুল কাদির

এখনই শীতার্ত মানুষের

পাশে দাঁড়ানোর সময়

কয়েকদিন যাবৎ দেশের প্রায় সবখানে শীত ঝেঁকে বসেছে। এখন এই বঙ্গ সেই বঙ্গ নয় পুরো অঙ্গেই শীতের ঝাঁকুনি। সববঙ্গেই শৈত্যপ্রবাহ। মানুষ কাঁপছে শীতে। শীতের এই ভয়াবহ অবস্থা থেকে পরিত্রণ পেতে চায় সাধারণ মানুষ। কিন্তু যাদের প্রয়োজনীয় গরম কাপড় নেই, তাদের অবস্থা বেহাল। নানা রোগের প্রকোপে পড়ে গেছেন অনেকে। বিশেষত শিশুরা হাঁড় কাঁপুনির এই শীত বহুকষ্টে পার করছে।

বাস্তবতা হলো এখনই শীতার্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর সময়। শীত এলে যা মনে হয় এর দারুণ চিত্রায়ণ করেছেন সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়। তার কবিতা-

শীত এলে মনে হয়, এবার দুপুর থেকে রাত
মধুময় হয়ে যাবে, যে রকম চেয়েছেন পিতৃপিতামহ
তাদের মৃত্যুর আগে ভেবেছেন আর দুটো বছর যদি…
শীত এলে মনে হয়, এই মাত্র পার হল সেই দু’বছর
এবার সমস্ত কিছু……
শীত চলে যায়, বছর বছর শীত চলে যায়,
সে দুটি বছর আর কখনো আসে না

কিন্তু যে মধুময়তার কথা সুনীল বলতে চেয়েছেন সে শীতের ওম পায় কয়জনে? এ কারণেই বছর বছর শীত চলে যায় কম্বলহীনরা বার বারই সম্বলহীন হয়ে পড়ে থাকে। প্রতি বছরই আবার নতুন কম্বলের জন্য পথের দ্বারে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। নতুন বছরের কম্বলের জন্য। কখনো কখনো তা ব্যবসায়ও পরিণত হয়। এবার শীতে যদি দশটা বা পনেরটা কম্বল জোগার করা যায় তাহলে তো ক’হাজার টাকাও পকেটে চলে আসবে।

আবার কেউ কেউ সেই এক কম্বলের অভাবেই শীতের তাড়া খেয়ে হিমবায়ুর প্রভাবে গাছের আড়ালে বসেও নিজেকে রক্ষার চেষ্টা করে। দাতারাও প্রায়ই তার খোঁজ পায় না। দালাল দৌরাত্ম্যে হারিয়ে যায় গরিবের সম্পদ। লুটেরা পেট ভারী করে শীতার্ত মানুষের অধিকার চুষে চুষে। রাস্তার পাশের অভাবী বা গ্রামের নির্জন ঘরে যে ভাই-বোন-মা- শীতে কাঁপছে তাকে ওম দেয়ার দায়িত্ব কেবল সরকারের নয়। সমাজের সবার। সবাইকে এগিয়ে যাওয়া দরকার সেই শীতার্ত মানুষের পাশে দাঁড়াবার জন্য।

এবার প্রথমবারের মতোই বয়ে চলেছে শৈত্যপ্রবাহও। আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছে, রাজশাহী, পাবনা, নওগাঁ, কুড়িগ্রাম, নীলফামারী, যশোর ও চুয়াডাঙ্গা – এই সাত অঞ্চলের ওপর দিয়ে মৃদু শৈত্য প্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা বিস্তার লাভ করতে পারে। ১৯ ডিসেম্বর ২০১৯ বৃহস্পতিবার এমন তথ্য দিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর। আবহাওয়া অফিস বলছে, আগামী ৩ দিন শৈত্যপ্রবাহ পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে।

অঞ্চল উল্লেখ থাকলেও দেশজুড়েই শৈত্যপ্রবাহের করুণ অবস্থা দেখা যাচ্ছে। দুপুর গড়ালেও রাজধানীতে সূর্যের দেখা নেই। সিলেট চট্টগ্রামেও একই অবস্থা।

শীত মৌসুমে ডায়রিয়া, জ্বর, হাঁচি, কাশি, শ্বাসকষ্টসহ ঠাণ্ডাজনিত রোগব্যাধিতে আক্রান্ত হয় শিশুরা। প্রকৃতির স্বাভাবিক এই নিয়মে ঋতুর পরিবর্তন হবে। এটা অস্বাভাবিক নয়।মূলত ঋতু স্বাভাবিক যাত্রা উপভোগের জন্য প্রয়োজন প্রস্তুতি।

শীতজনিত রোগব্যাধি থেকে মানুষজনকে রক্ষার করার জন্য স্বাস্থ্য বিভাগকে পদক্ষেপ নিতে হবে। শীত নিয়ে আমাদের সচেতন হওয়া জরুরি বলেই আমি মনে করি।

লেখক : শিক্ষক ও সাংবাদিক

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *