এখনো উদ্ধার হয়নি রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের চুরি হওয়া মেশিন

এখনো উদ্ধার হয়নি রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের চুরি হওয়া মেশিন

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : বাগেরহাটের রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের কয়লা পরীক্ষার মেশিনটি চুরি হওয়ার পর ১৩ দিন পার হলেও এখনও উদ্ধার করা যায়নি। বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মধ্যে তালাবদ্ধ একটি কক্ষ থেকে ৪৭ লাখ টাকা মূল্যের মেশিনটি রাখা ছিল। সেখান থেকেই ১৪ জানুয়ারি সন্ধ্যা থেকে ১৫ জানুয়ারি সকালের মধ্যে যেকোনও সময় চুরির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় গত ১৬ জানুয়ারি রামপাল থানায় একটি মামলা দায়ের করেছে তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক (সিকিউরিটি ও প্রশাসন) অলিউল্লাহ।

মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, ১৪ জানুয়ারি সন্ধ্যা ৬টায় কেন্দ্রের জুনিয়র অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার, কেমিস্ট আব্দুল মালেক ল্যাব বন্ধ করার সময় টেস্টিং যন্ত্রটি টেবিলের উপরেই ছিল। আব্দুল মালেক চলে যাওয়ার আগে তালার চাবি ল্যাব-১ এর মুসা পারভেজকে দিয়ে ল্যাব টেকনিশিয়ান সাদ্দাম হোসেন এবং তানভীর রহমানকে দিতে বলেন। মুসা পারভেজ তাদের চাবি দেন। রাত ১০টায় সে স্থানে ডিউটিতে আসেন জাকারিয়া আল রাজী এবং মাসুম বিল্লাহ। ১৫ জানুয়ারি সকাল ৭টায় ডিউটি শেষ করেন। এ সময় সাদ্দাম হোসেন এবং মাসুম বিল্লাহ দায়িত্ব নেন। সকাল ৯টার দিকে রুম ক্লিনার আব্দুল নোমান ল্যাব-২ পরিষ্কার করতে গিয়ে টেবিলে মেশিন দেখতে না পেয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানান। ঘটনার ১৩ দিন পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত মেশিন বা চোরের কোনও সন্ধান পাওয়া যায়নি।

মামলার বাদী ও রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক অলিউল্লাহ বলেন, চুরির ঘটনায় আমরা মামলা করেছি, কাজ চলছে। রামপাল থানার ওসি মোহাম্মদ শামসুদ্দিন বলেন, তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের কয়লা পরীক্ষার মেশিন চুরির ঘটনার তদন্ত চলমান রয়েছে। সন্দেহভাজনদের জিজ্ঞাসাবাদও করা হচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, কয়লা পরীক্ষার মেশিন সাধারণ মানুষের কোনও কাজে লাগার কথা নয়। ছিচকে চোরদের চুরি করারও কথা নয়। বড় কোনও চক্র এবং কেন্দ্রের অভ্যন্তরীণ কেউ এতে জড়িত থাকতে পারে। এ ছাড়া ল্যাব এলাকায় রাত-দিন ২৪ ঘণ্টা লোক থাকা সত্ত্বেও মামলায় কারও নাম না দেওয়ার বিষয়টি কর্তৃপক্ষের অবহেলা ও দায় এড়ানোর চেষ্টা বলেও মনে করেন তিনি।

নিরাপত্তা বাহিনীর সূত্রে জানা গেছে, গত ১৫ মাসে র‌্যাব-৬ এর সদস্যরা অভিযান চালিয়ে চোর চক্রের ২০ জনকে আটক ও অর্ধকোটি টাকার মালামাল উদ্ধার করে। অপরদিকে গত ৯ মাসে তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে দায়িত্বরত আনসার ব্যাটালিয়ন খুলনার সদস্যরা ৩৩ জন চোরকে গ্রেফতার করে। এ সময় চুরি হওয়া ৫৩ লাখ টাকার মালামাল উদ্ধার করা হয়।

কেন্দ্রে নিরাপত্তার জন্য আনসার ব্যাটালিয়নের সদস্য রয়েছেন ১৫০, সাধারণ আনসার ৩০, পুলিশ সদস্য ১৭, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ভেল-এর নিজস্ব সেন্ট্রি সিকিউরিটি সার্ভিসের কর্মী রয়েছে ৭৮ ও জেরিন সিকিউরিটি সার্ভিসের রয়েছে ১৮ জন। কোনও সংস্থাই কেন্দ্রের নিরাপত্তা নিশ্চিতে এককভাবে দায়িত্বপ্রাপ্ত না হওয়ায় জবাবদিহিতার অভাব রয়েছে। দায়িত্ব স্পষ্ট না হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে রয়েছে ধোঁয়াশা।

উল্লেখ্য, কয়লা সংকটের কারণে গত ১৪ জানুয়ারি থেকে এ বিদ্যুৎ কেন্দ্রটির উৎপাদন বন্ধ রয়েছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *