এনআরসিকে ভারতের অভ্যন্তরীণ ইস্যু বলে নির্লিপ্ত থাকা আত্মঘাতী : ইসলামী আন্দোলন

এনআরসিকে ভারতের অভ্যন্তরীণ ইস্যু বলে নির্লিপ্ত থাকা আত্মঘাতী : ইসলামী আন্দোলন

এনআরসিকে ভারতের অভ্যন্তরীণ ইস্যু বলে নির্লিপ্ত থাকা আত্মঘাতী : ইসলামী আন্দোলন

পাথেয় রিপোর্ট : আসামে ন্যাশনাল রেজিস্ট্রার সিটিজেন্স (এনআরসি) ইস্যুতে বাংলাদেশ সরকারের নির্লিপ্ত ভূমিকায় ক্ষোভ প্রকাশ করে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ঢাকা মহানগর উত্তর সভাপতি প্রিন্সিপাল মাওলানা শেখ ফজলে বারী মাসউদ সোমবার এক বিবৃতিতে বলেন, আসামে যে ১৯ লাখের বেশী মানুষ রাষ্ট্রহীন ঘোষিত হয়েছে, তাদের অধিকাংশ বাংলাভাষী, যাদেরকে ভারতে বাংলাদেশী বলে মনে করা হয়। রাষ্ট্রহীন বাংলাভাষী মানুষেরা নির্যাতন, অপমান ও লাঞ্ছনার শিকার হয়ে বাংলাদেশমুখী হবে তা নিশ্চিতভাবেই বলা যায়।

তিনি বলেন, মিয়ানমারের রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে যে প্রক্রিয়ায় ভিটে-মাটি ছাড়া করা হয়েছে; সে একই প্রক্রিয়া আসামে অনুসরণ করা হচ্ছে। সেখানে প্রথমে রোহিঙ্গাদের ‘অবৈধ বাংলাদেশী’ আখ্যায়িত করে বিদ্বেষ ছড়ানো, এরপর নাগরিকত্ব বাতিল, তারপর অপমানের জীবন ও নির্যাতনের মুখে বাংলাদেশে ঠেলে দেয়া হয়েছে। একইভাবে আসামে প্রথমে বাঙাল খেদাও আন্দোলন ও হাজার হাজার মুসলিম বাঙালিকে হত্যা করা হয়েছে। এখন নাগরিকত্ব বাতিল এবং এর পরিণামে বাংলাদেশের দিকে ঠেলে দেয়া হবে। আসামের রাষ্ট্রহীন বাংলাভাষীরা পশ্চিমবঙ্গে যাবে তা বিশ্বাস করাও কঠিন। কারণ বিজেপি সেখানেও ‘অবৈধ বাংলাদেশী’ হঠানোর জন্য এনআরসি চালুর কথা বলছে।

তিনি সরকারকে আহবান জানিয়ে বলেন, এই বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে এনআরসিকে ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয় বলে এখনই বলিষ্ঠ ও দূরদর্শী পদক্ষেপ নিন।

তিনি বলেন, এনআরসি ইস্যুতে সবচেয়ে বড় সমস্যায় পড়বে মুসলিমরা। কারণ নাগরিকত্ব হারানো হিন্দুসহ অন্য ধর্মাবলম্বীদের বিজেপি ‘শরণার্থী’ হিসেবে নাগরিকত্ব দেয়ার কথা ঘোষণা করেছে।

অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, বিজেপি সরকার ভারতকে মুসলিম শূন্য করার সকল আয়োজন সম্পন্ন করেছে। এর বিরুদ্ধে মুসলিম বিশ্ব, বিশ্বের শান্তিকামী মানুষ এবং ভারতের দায়িত্বশীল নাগরিক সমাজসহ জনগণকে সোচ্চার হতে হবে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *