এনআরসি স্থগিতে মাহমুদ মাদানীর আপিল, সময় চায় আদালত
পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : সংশোধিত নাগরিকত্ব বিল এনআরসি, এনআরপি প্রেক্ষিতে জমিয়তে উলামা হিন্দের জেনারেল সেক্রেটারি মাওলানা মাহমুদ মাদানিসহ অন্যান্যদের শতাধিক দাখিল করা আপিলের শুনানিতে আজ সুপ্রিমকোর্ট কেন্দ্রিয় সরকারকে জবানবন্দি প্রদানের জন্য চার সপ্তাহের সময় বেঁধে দিয়েছে। প্রধান বিচারপতি এস এ বোবদে, বিচারপতি আব্দুন নজির সমস্ত আবেদন শোনার পর এই রায় প্রদান করেন।
আদালতে ২২.০১.২০২০(বুধবার)সকাল থেকেই আরম্ভ হয় এ আপিলের শুনানি। জমিয়তে উলামা হিন্দের জেনারের সেক্রেটারি মাওলানা মাহমুদ মাদানির পক্ষে সিনিয়র উকিল রাজিব ধাওয়ান তার বক্তব্য আদালদের সামনে পেশ করেন। তিনি আদালতের কাছে এ আপিল সাংবিধানিক বেঞ্চের কাছে হস্তান্তরের আবেদন জানিয়ে সিআইআই, এনআরসি আইন বাস্তবায়ন বিলম্বিত করার দরখাস্ত করেন। অন্যান্য উকিলদের পক্ষ থেকে তিনি মহামান্য আদালতের কাছে বিশেষভাবে নাগরিকত্ব সংশোধন বিল (সিআইআই) অস্থায়ীভাবে তিন মাস মুলতবি রাখার আবেদন করেন। কিন্তু আদালত তাদের আবেদন মঞ্জুরিকে নাকচ করে দিয়েছেন।
প্রধান বিচারপতি এস এ বোবদে বলেন, শুধু একপক্ষের আবেদনে রায় দেয়া যায় না। এপর্যন্ত নাগরিকত্ব সংশোধিত বিলের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া শতাধিক আপিলের ব্যাপারে কেন্দ্রিয় সরকারকে এখনো কোন নোটিশ প্রদান করা হয়নি। তাদের নোটিশ দেওয়া ব্যতিরেকে শুধু একপক্ষের কথায় কোন রায় প্রদান করা সম্ভব নয়। কেন্দ্রিয় সরকারকে নোটিশ প্রদান ও জবানবন্দি দাখিলের জন্য আদালত তাদের চার সপ্তাহ সময় দান করছে।
সাংবিধানিক বেঞ্চে হস্তান্তরের প্রেক্ষিতে আদালত বলেন, সাংবিধানিক বেঞ্চ এখনো গঠন করা হয়নি। এমুহূর্তে সেখানে হস্তান্তর সম্ভব নয়। তবে কেন্দ্রিয় সরকারকে প্রদেয় এ চার সপ্তাহের মধ্যে সাংবিধানিক বেঞ্চ গঠন করা হবে। এরপর সেখানে অস্থায়ীরূপে এনআরপিকে মূলতবি করা যেতে পারে।
এছাড়াও আদালত সমস্ত হাইকোর্টকে এ প্রেক্ষিতে কোনধরনের শুনানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। এবং এজাতীয় সব আপিলকে সুপ্রিমকোর্টে প্রেরণের নির্দেশ দিয়েছে ভরেতের সুপ্রিমকোর্ট। পাশাপাশি শুনানিকে সহজ করণার্থে আদালত আপিলকে তিনভাগে ভাগ করেছে। ১. আসাম ও ত্রিপুরা সংক্রান্ত আপিল। ২. সিআইআই সংক্রান্ত আপিল। ৩. এনআরপি সংক্রান্ত আপিল। আদালত আসাম ও ত্রিপুরা সংক্রান্ত আপিলের শুনানি পৃথকভাবে হবে বলে নিশ্চিত করেছে।
আদালতের আজকের রায়ের প্রেক্ষিতে জমিয়তে উলামা হিন্দের জেনারেল সেক্রেটারি মাওলানা মাহমুদ মাদানি বলেন, জমিয়ত উলামা হিন্দ ১৬.১২.২০১৯ তারিখে আপিল দাখিল করেছে। যাতে এনআরসি বা নাগরিকত্ব সংশোধিত আইনকে একদম নিশ্চিহ্ন করে দেয়ার আবেদন জানানো হয়। কেননা এ আইন ভারতের সাংবিধানিক ধারা ১৪ ও ২১ বিরোধী। এখানে ধর্মীয় ভিত্তিতে অবৈধ অভিবাসিরূপে শুধু মুসলমানদেরকেই টার্গেট করা হয়েছে। যেখানে খ্রিস্টান, বৌদ্ধ, শিখ, জৈনসহ অন্যান্য ধর্মের নাগরিকদেরকে আলাদা রেখে মুসলমানদেরকে অবৈধ অভিবাসীরূপে চিহ্নিত করে তাদেরকে দেশ থেকে বিতাড়নের ঘৃণিত পাঁয়তারা কষা হয়েছে। স্পষ্টতই এ বৈষম্য ভারতের মৌলভিত্তি ‘সেকুলারিজম’ পরিপন্থি।
উল্লেখ্য যে, এ শুনানিতে মাওলানা মাহমুদ মাদানি বিশেষভাবে নিজের পক্ষ থেকে সিনিয়র উকিল রাজিব ধাওয়ানকে নিয়োগ করেন। এছাড়াও আদালতে এ্যাডভোকেট শাকিল আহমদ সাইয়িদ, এ্যাডভোকেট নিয়ায আহমদ ফারুকি(জমিয়তে উলামা হিন্দের সেক্রেটারি), এ্যাডভোকেট পারভেজ দাব্বাস ও এ্যাডভোকেট আজমি জামিল উপস্থিত ছিলেন।
সূত্র : জমিয়তে উলামা হিন্দ, দিল্লী
অনুবাদ ও গ্রন্থনা : আবদুল্লাহ আমান


