এলো খুশির রমজান | কাউসার মাহমুদ

এলো খুশির রমজান | কাউসার মাহমুদ

দরজায় কড়া নাড়তে নাড়তে চলে এলো রমজান।একটি বছর অপেক্ষার পর এই বুঝি এলো সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। আলোকিত রমযানের বাকা চাঁদ যেন সৌরভ ছড়িয়ে যাবে মুমিনের আকাশে। হৃদয় আন্দোলিত হবে ইবাদাতের স্বর্গীয় স্বাদ অনুভবে। তারাবীহ’র জন্য দলে দলে মানুষ ছুটে যায় মসজিদে মসজিদে। অপার্থিব মোহময়তায় চারদিকে ছেয়ে যায় খোদা প্রেমে।

বছর ঘুরে মুমিনকে পরিতৃপ্ত করতে এভাবেই ফিরে আসে রহমত, মাগফেরাত ও নাজাতের এই মহিমান্বিত মাস। মালিক ও বান্দার এক অপূর্ব প্রেম সম্মেলন ঘটে এ মাসের মুহূর্তে মুহূর্তে। ইবাদাতে ইবাদাতে কাটে দিন। মুমিনের আত্মা হয় সতেজ-পরিশুদ্ধ। রোজার মাধ্যমে অর্জন হয় তাকওয়া। সমস্ত পাপ-পঙ্কিলতা থেকে পরিষ্কার হওয়ার এক মোক্ষম সুযোগ হলো রোজা।

‘রোযা’ শব্দটি মূলত ফার্সি। আরবী ভাষায় এটিকে বলা হয় ‘সাওম’ বা ‘সিয়াম’। বাঙলায়ও যাকে আমরা রোজাই বলি।আরবী সাওম থেকেই সিয়াম এসেছে। যার অর্থ হলো: সাধনা করা। শাব্দিক অর্থে, সাওম বা রোজা’র অর্থ হলো: বিরত থাকা। পরিভাষায়, বিশেষ কিছু জিনিষ থেকে বিরত থাকাকেই রোজা বলে।তা হলো তিনটি: ১. খাওয়া, ২. পান করা, ৩. রমণ করা। (বাদায়েউস্ সানায়েঃ খন্ড ২/পৃষ্ঠা ২০৯)

রোজা ফরজ হওয়ার সময়কাল: ২য় হিজরীর রমজান মাসে মুসলমানদের উপর আল্লাহ তায়ালা রোজাকে ফরজ করেন। ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের তিন নম্বরে এটি। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার জীবদ্দশায় নয়টি রমজান পালন করেছেন।
পবিত্র এ ইবাদাতের ব্যাপারে মহান প্রভূর কথা:
“হে মুমিনগণ তোমাদের জন্য রোজাকে ফরজ করা হয়েছে।যেমনটি ফরজ ছিলো তোমাদের পূর্ববর্তীদের উপর।যেন তোমরা তাকওয়া অর্জনকারী হতে পারো। (সূরা বাকারাঃ আয়াত-১৮৪)

অন্য এক আয়াতে আল্লাহ বলেন, “রমজান মাসই হলো সে মাস, যাতে নাযিল করা হয়েছে কোরআন, যা মানুষের জন্য হেদায়েত এবং সত্যপথ যাত্রীদের জন্য সুস্পষ্ট পথনির্দেশ আর ন্যায় ও অন্যায়ের মাঝে পার্থক্য বিধানকারী। কাজেই তোমাদের মধ্যে যে লোক এ মাসটি পাবে, সে এ মাসের রোজা রাখবে। আর যে লোক অসুস্থ কিংবা মুসাফির অবস্থায় থাকবে, সে অন্যদিনে গণনা করে পূরণ করবে। আল্লাহ তোমাদের জন্য সহজ করতে চান; তোমাদের জন্য জটিলতা কামনা করেন না- যাতে তোমরা গণনা পূরণ কর এবং তোমাদের হেদায়েত দান করার দরুন আল্লাহ তায়ালার মহত্ত্ব বর্ণনা কর এবং তোমরা কৃতজ্ঞতা স্বীকার কর। (সূরা বাকারা : আয়াত,১৮৬)

মুসলিম সমাজে প্রত্যেক সুস্থ, প্রাপ্তবয়স্ক, নারী-পুরুষের উপর রমজানের রোজা রাখা আবশ্যক। অবশ্য প্রয়োজনবোধে রোজা না রাখতে পারলে এ ব্যাপারে অবকাশও আছে। কিন্তু প্রত্যেক মুসলিম মাত্রই অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করে মধুর এ মাসের। মুসলমান কখনও সাধারণ কিছুতে এ রহমতে প্রাচুর্য মাসকে পরিত্যাগ করে না। কারণ, রমজানের এ সময়টা গণীমত। অত্যন্ত মূল্যবান। হাদীসে যার ব্যাপারে অসংখ্য ফযীলতের কথা ইরশাদ আছে,রাসূল (সা.) এক হাদীসে বলেন,আল্লাহ তায়ালা বলেন: রোজা আমার জন্য,আমিই এর প্রতিদান দিবো (শুয়াবুল ঈমান,হাদীস নং: ৩৫৭০)
সারাদিন উপোস করে প্রভূর সান্নিধ্য অর্জনে রোজার উদ্দেশ্য হলো: সমস্ত প্রকার পাপ কাজ থেকে বিরত থাকা এবং নিজেদের কু-প্রবৃত্তি, কামনা-বাসনা পরিত্যাগের প্রশিক্ষণ নিয়ে পরহেজগারি ও তাকওয়া অর্জন করা। এ সময়ে স্বভাবজ একজন রোজাদার কোমল হৃদয়ী হয়ে ওঠে।ভালো কাজে আগ্রহ। মানবের প্রতি প্রেম।আমলে আল্লাহর বন্ধুত্বের স্বাদ অনুভব করে প্রকৃত রোজাদার। এভাবেই পুরো মাস ইবাদাতে লেগে থাকার মাধ্যমে আল্লাহর অনুগ্রহে তার ভেতরে চলে আসে, খোদাভীরুতা, সৎকর্মশীলতা, দ্বীনদারি, গুনাহে ঘেন্না,সুন্নাতের অনুসরণ,আমলে সতর্কতা ইত্যাদি। এটাই হলো তাকওয়া। যার মূল অর্থ:রক্ষা করা।

এই রোজার মাধ্যমে আল্লাহ আমাদের গুনাহ থেকে রক্ষা করে আমাদের ভেতর উপরোল্লিখিত গুন সমূহ দিয়ে দেন। বান্দা তখন এর উপরই চলতে থাকে। তার ইবাদাতের এ নিয়মে কোনও ব্যত্যয় ঘটেনা। যার মাধ্যমে বেচে থাকে গুনাহ থেকে।নিকটবর্তী হয় মালিকের।পরবর্তী এগারো মাস রমজানের সু-বাতাস বইতেই থাকে সাচ্চা মানুষটির মাঝে। সুতরাং রমজানের রোজা হলো আমাদের তাকওয়া তথা খোদাভীতি অর্জনের মাস।যা আমাদের রক্ষা করে পাপ থেকে।আর এর মাধ্যমেই পরকালে আমরা আল্লাহর শাস্তি থেকে পরিত্রাণ পেতে পারি।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *