এ যুগের ডিভাইড অ্যান্ড রুল

এ যুগের ডিভাইড অ্যান্ড রুল

মুহাম্মাদ আইয়ুব ❑ গতকাল (বুধবার) সারাদিন সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পিকচার মহানন্দে ঘুরাঘুরি করেছে। হাটহাজারি মাদ্রাসায় ছাত্ররা যখন পাঁচ দফা দাবী নিয়ে হৈরৈ শুরু করেছে তখন তাদের মুখে মুখে গোপন গেট দিয়ে ব্রিটিশদের দেশীয় সংস্করণ জামাত-শিবিররা বিরিয়ানির প্যাকেট সাপ্লাই দিচ্ছে।

এদের এই মেহমানদারির দৃশ্য দেখে ছোটবেলার একটা ঘটনা মনে পড়ে গেল। একবার আমাদের গ্রামের পশ্চিম পাড়ার মোল্লা আর কাজী গোষ্ঠী মারামারি লাগল। ঘটনাচক্রে এই দুই গোষ্ঠীর সহমর্মিতায় সোৎসাহে মাঠে নেমে পড়ল শিকদার গোষ্ঠী! শিকদাররা দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে একভাগ গেল মোল্লাদের দিকে আরেক ভাগ গেল কাজীদের লড়ায়ে ক্যালসিয়াম যোগাতে। কিন্তু কারণটা কি?

হিসাব সোজা, পশ্চিম পাড়ায় শক্তিতে মোল্লা আর কাজীরা সেয়ানে সেয়ানে আর শিকদাররা ঐ দুই গোষ্ঠীর পাদুকা বহন করে তৃপ্তির ঢেকুর তুলে। এখন যদি সেয়ানে সেয়ানেকে লড়িয়ে দূর্বল করা যায় তাহলে একদিকে পাদুকা বহনের অভিশাপ থেকে বাঁচা যাবে অপরদিকে মারামারি করে যখন দুই গোষ্ঠী দূর্বল, নিস্তেজ হয়ে পড়বে তখন এতদিনের প্রতিশোধ কড়ায় গন্ডায় শোধ করার সুবর্ণ সুযোগ মিলবে! সুতরাং শিকদার গোষ্ঠী!

তোমরা দুই গোষ্ঠীর মারামারিতে ভিটামিন এ টু জেড জোগাড় করে দাও। শিকদার গোষ্ঠীর এই কালচারকে ব্রিটিশদের ‘ডিভাইড অ্যান্ড রুলের’ দেশীয় সংস্করণ বলতেই হবে। আরো স্পষ্ট করে বললে হবে ‘মুদ্রার এপিঠ ওপিঠ’। এই তো কিছুদিন আগে যখন চীন ভারত সীমান্তে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ল তখন ব্রিটিশদের মিত্র মার্কিনরা হুট করে ভারতের পক্ষ নিল।

পাঠক! উদ্দেশ্য কিন্তু সেই একই। একদিকে বানিজ্যের ময়দানে চীনকে কোনঠাসা করা আর অপর দিকে ভারতের কাছে চড়া মূল্যে নিজেদের অস্ত্র বিক্রি করা। ‘এক ঢিলে দুই পাখির’ কি দারুন উপমা! অথচ এই মার্কিন মুল্লুকটাই ১৯৭১ য়ে আমাদের স্বাধীনতার সময় ভোল পাল্টে পাকিস্তানের পক্ষ নিয়েছিল। পক্ষ বিপক্ষের ভোল পাল্টালেও পাল্টেনি জঘন্য ধিকৃত নীতি ‘ডিভাইড অ্যান্ড রুল’ আজ যারা হাটহাজারির গোপন গেট দিয়ে বিরিয়ানির প্যাকেট সরবরাহ করেছে এই তারাই কিন্তু ২০১৩ এর হেফাজত আন্দোলনের সময় টাকা, বিরিয়ানি, তরমুজ, আপেল, মাল্টা, শসা, পানি দিয়ে নির্লজ্জের মতো ব্রিটিশদের সেই ধিকৃত নীতিরই অনুসরণ করেছিল। ফলাফল হাতেনাতে।

কওমীর প্রতি কওমের ভালোবাসা, আস্থা, বিশ্বাস সব জ্বলে পুড়ে ছারখার। বেইমান, মুনাফিক, গাদ্দার মীর জাফরদের হাতিয়ার কিন্তু ঐ একটাই ‘ডিভাইড অ্যান্ড রুল’। মুমিন একই গর্তে দুইবার পা দেয় না কিন্তু এদেশের মুমিনরা(?) বারবার এই নিয়মের অবকাঠামো নির্মাণ করেছেন এবং একই গর্তে বারবার পা দিয়ে টেস্ট করেছেন যে, গর্তের গভীরতা কতটুকু! তাই ভবিষ্যত প্রজন্মের কাছে করজোড় অনুরোধ গর্ত গর্তই, এর গভীরতা মাপতে যাওয়া বুদ্ধিমানের কাজ নয়। বন্ধু রুপী শত্রু থেকে সতর্ক হোন দেশ জাতীর সুন্দর আগামী গড়ায় মনোযোগ দিন।

লেখক: শিক্ষক ও প্রাবন্ধিক

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *