হামিদ ইসলাম : মানবকল্যাণে শান্তির ফাতওয়া ওআইসির মহাসচিবের হাতে পৌঁছে দিয়ে বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামার চেয়ারম্যান আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ গত সোমবার দুপুরে বাংলাদেশে ফিরে এসেছেন। সফর শেষে তিনি ফিরে এসে জানিয়েছেন, বিশ্ব শান্তি চায়। ওআইসির মহাসচিবও শান্তির এই ফাতওয়া পেয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। ওআইসির মহাসচিব আল্লামা মাসঊদকে সম্বোধন করে বলেন, হযরত, কিছুলোক তো মানুষ হত্যার জন্য ফতওয়া দিয়ে বিশ্ব কাঁপিয়ে তুলেছিল। আর আপনি মানুষকে বাঁচাতে ফাতওয়া দিয়েছেন। আপনার লড়াই অব্যাহত থাকুক। আপনাকে ক্লোন করে বিশ্বে ছড়িয়ে দিতে পারলে বিশ্বের উপকার হতো।
এছাড়া গত মঙ্গলবার দুপুরে ওআইসি কার্যালয়ে বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামার চেয়ারম্যান ও ঐতিহাসিক শোলাকিয়ার গ্র্যান্ড ইমাম শাইখুল হাদিস আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কোঅপারেশান (Organization of the Islamic Cooperation) বা সংক্ষেপে ওআইসি একটি আন্তর্জাতিক ইসলামী সংস্থার মহাসচিব ড. ইউসুফ বিন আহমেদ আল ওথাইমিনের হাতে একলাখ আলেম, মুফতি ও ইমামের স্বাক্ষরসম্বলিত জঙ্গিবাদবিরোধী মানবকল্যাণে শান্তির ফাতওয়া তুলে দেন।
আল্লামা মাসঊদের সফরসঙ্গী ঢাকা জমিয়তুল উলামার সাধারণ সম্পাদক মাওলানা সদরুদ্দীন মাকনুন এক ভিডিওবার্তায় এ তথ্য জানিয়েছেন।
এছাড়াও সফরকারী বাংলাদেশেী আলেমদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জমিয়তুল উলামার অভিভাবক পরিষদ সদস্য মাওলানা আরীফ উদ্দীন মারুফ, মাওলানা সাঈদ নিজামী, মাওলানা আবদুল আলীম ফরিদী এবং মাওলানা খাইরুল ইসলাম ঠাকুর।
উল্লেখ্য, আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামার তত্ত্বাবধানে গেল বছরের জুনে একলাখ আলেম, মুফতি ও ইমামের স্বাক্ষরসম্বলিত জঙ্গিবাদবিরোধী মানবকল্যাণে শান্তির ফাতওয়া এমন একটি সময় প্রকাশ করা হয় যার কয়েক দিন পরই হলিআর্টিজান এবং ঈদের দিনে শোলাকিয়ায় জঙ্গি হামলা করা হয়।
প্রসঙ্গত, অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কোঅপারেশান (Organization of the Islamic Cooperation) বা সংক্ষেপে ওআইসি একটি আন্তর্জাতিক ইসলামী সংস্থা ১৯৬৯ সালে এটি অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কনফারেন্স নামে ২৫টি মুসলিম দেশ মিলে এই প্রতিষ্ঠানটি তৈরী করে। মধ্যপ্রাচ্য, উত্তর পশ্চিম আফ্রিকা, মধ্য এশিয়া, দক্ষিণ পূর্ব এশিয়া, এবং ভারতীয় উপমহাদেশের ৫৭টি ইসলামী রাষ্ট্র নিয়ে এই সংস্থা গঠিত। এই সংস্থা মূলতঃ মুসলমানদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে প্রতিনিধিত্ব করে থাকে। ওআইসি জাতিসংঘের স্থায়ী প্রতিনিধিত্বমূলক সংস্থা। ওআইসির একটি জাতিসংঘের স্থায়ী প্রতিনিধি দল রয়েছে, এবং বৃহত্তম রাষ্ট্রসংঘের বাইরে আন্তর্জাতিক সংগঠন। ওআইসির সরকারি ভাষা আরবি, ইংরেজি, এবং ফরাসি। এককথায় বলা যায় ওআইসি মুসলিম বিশ্বের সম্মিলিত কণ্ঠস্বর।


