পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : ভারতের লোকসভা নির্বাচনে কংগ্রেসের ভরাডুবিতে রাহুল গান্ধীর অফিসে জমছে পদত্যাগপত্র।
ভারতের লোকসভা নির্বাচনে বিজেপির নিরঙ্কুশ বিজয় চমকে দিয়েছে সবাইকে।বিজেপি নেতৃত্বাধীন জোটে এনডিএ দখলে নিয়েছে ৩৫০টির বেশি আসন। এমনকি বিজেপি একক দল হিসেবেও তিনশর গণ্ডি ছুঁয়ে ফেলেছে।
বিজেপির এমন জয়ে একদিকে যেমন নরেন্দ্র মোদি আবার ভারতের ক্ষমতায় বসতে চলেছেন,অন্যদিকে মুখ লুকানোর অবস্থা হয়েছে কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধীর।
জাতীয় নির্বাচনে এ নিয়ে দুবার কংগ্রেসের ভরাডুবি হয়েছে। সর্বশেষ প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী, বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোট পেয়েছে ৩৫০টি আসন। আর কংগ্রেস পেয়েছে মাত্র ৯২টি আসন। কংগ্রেসের ঘাঁটি হিসেবে খ্যাত অমেঠিতে আসন খুঁইয়েছেন দলীয় সভাপতি রাহুল। গান্ধী পরিবারের এই দুর্গে রাহুলকে প্রায় ৫৬ হাজার ভোটে হারিয়ে দিয়েছেন বিজেপির স্মৃতি ইরানি।
উত্তর প্রদেশেও কংগ্রেস গো-হারা হেরেছে। রাহুলের বোন এবং দলের সাধারণ সম্পাদক প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর জোর প্রচারণা সত্ত্বেও কংগ্রেস অবস্থান ধরে রাখতে পারেনি। রাজ্যের রায়বেরেলিতে কেবল সোনিয়া গান্ধীর আসনটি টিকে গেছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার ফল প্রকাশ শুরু হওয়ার পর থেকে কংগ্রেসের এই ভরাডুবির পরেই দলীয় সভাপতির পদ থেকে পদত্যাগপত্র দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী।
এবার রাহুলের পথ ধরে কংগ্রেসের বেশ কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় নেতা পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন। রীতিমত কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধীর অফিসে পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার ভিড় লেগে গেছে।
এরই মধ্যে উত্তর প্রদেশের রাজ বাব্বারসহ তিন রাজ্যপ্রধান রাহুল গান্ধীর কাছে তাদের পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দিয়েছেন। দলের কর্নাটক রাজ্যের নির্বাচনী প্রচার ব্যবস্থাপক এইচ কে পাতিল এবং ওড়িষার প্রধান নিরঞ্জন পাতনায়েক রয়েছেন পদত্যাগকারীদের মধ্যে। এই দুটি রাজ্যে কংগ্রেস তাদের সম্পূর্ণ অবস্থান হারিয়েছেন।
রাহুল গান্ধীর ব্যর্থ নেতৃত্বের কারণেই কংগ্রেসের এমন পরাজয় বলে মনে করছেন দলের অন্য নেতারা। তাই কংগ্রেস থেকে গণহারে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বিভিন্ন রাজ্যের শীর্ষ নেতারা।
কংগ্রেসের জন্য আরেকটি বড় দুঃসংবাদ হলো এবারের লোকসভা ভোটের ফলাফলের হিসাব অনুযায়ী ভারতের সংসদে বিরোধী দলের তকমাও খোয়াতে হচ্ছে কংগ্রেস। এবারের সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণে আরো একবার ব্যর্থ হলো কংগ্রেস।
২০১৪ সালে কংগ্রেস পেয়েছিল মাত্র ৪৪টি আসন। যার ফলে গত লোকসভাতে সংসদের নিয়ম অনুযায়ী বিরোধী দলের তকমা থেকে বঞ্চিত হয়েছিল কংগ্রেস।
কারণ, ভারতের মোট ৫৪৩টি লোকসভা আসনের মধ্যে বিরোধী দলের তকমা পেতে গেলে অন্তত ১০ শতাংশ আসনে জয়ী হতে হয়। যেখানে ২০১৪ সালে কংগ্রেস পেয়েছিল মাত্র ৪৪টি আসন। আর এবার কংগ্রেস ৪৪টি আসনের গণ্ডি পার হলেও মাত্র ৫২টি আসনে এসে আটকে গেছে তারা। অথচ লোকসভায় বিরোধী রাজনৈতিক দল হতে গেলে প্রয়োজন অন্তত ৫৫টি আসন। ফলে এবারও সংসদে বিরোধী দলের মর্যাদা ধরে রাখতে ব্যর্থ হলো কংগ্রেস।


