কট্টর মুসলিম বিদ্বেষী বৌদ্ধ নেতা উইরাথুর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

কট্টর মুসলিম বিদ্বেষী বৌদ্ধ নেতা উইরাথুর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : কট্টর মুসলিম বিদ্বেষী মিয়ানমারের বৌদ্ধ ধর্মীয় নেতা অশ্বিন উইরাথুর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। পুলিশের বরাত দিয়ে এই তথ্য জানিয়েছে যুক্তরাজ্যের সংবাদ সংস্থা রয়টার্স।

পুলিশকে উদ্ধৃত করে রয়টার্স বার্তা সংস্থা বলছে, তার বিরুদ্ধে দেশদ্রোহিতার এক মামলায় ইয়াঙ্গনের একটি আদালত তাকে গ্রেপ্তারের আদেশ দেয়। দোষী সাব্যস্ত হলে তার তিন বছরের কারাদণ্ড হতে পারে।

উইরাথুর একজন ঘনিষ্ঠ সঙ্গী থু সাইট্টাকে উদ্ধৃত করে রয়টার্স বলছে, “তাকে (উইরাথুকে) গ্রেপ্তার করা হলে আমরা চুপ করে বসে থাকবো না।”

রোহিঙ্গা মুসলিমদের বিরুদ্ধে বিষোদগারের জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিতি পেয়েছেন উইরাথু। নিয়মিত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং তার অনুসারীদের উদ্দেশে মুসলিমদের বিরুদ্ধে ভাষণ দেন তিনি।

তিনি মুসলিমদের, বিশেষ করে রোহিঙ্গা মুসলিমদের নিয়ে খোলাখুলি বিদ্বেষ এবং উসকানিমূলক কথা বলেন। মুসলিমদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বয়কটের ডাকও দেন এই বৌদ্ধ নেতা।

মুসলমানদের মধ্যে জন্মহার বেশি – এমন বক্তব্য প্রচার করেছেন আশ্বিন উইরাথু। বলেছিলেন, বৌদ্ধ নারীদের জোর করে ধর্মান্তরিত করা হচ্ছে। মুসলিম বিরোধী তার এসব কথায় তার অনুসারীর সংখ্যা ক্রমাগত বেড়েছে। সেই সাথে বেড়েছে ক্ষমতা।

রাজনৈতিকভাবে এতটাই প্রভাবশালী হয়ে উঠেছেন উইরাথু যে মিয়ানমারের অন্য অনেক বৌদ্ধ ভিক্ষু তার বিষয়ে কোন কথা বলতে চান না।

অনেকে মনে করেন, উগ্রপন্থী ভিক্ষু অশ্বিন উইরাথু রোহিঙ্গাবিরোধী যে মনোভাব দেখিয়েছেন – সেটি মিয়ানমারের ভেতরে অনেকেরই মনের কথা। সরকারের ভেতরে অনেকেই কূটনৈতিক কারণে রোহিঙ্গা বিরোধী কথা সেভাবে বলতে পারেন না। ফলে মি: উইরাথু রোহিঙ্গা বিরোধী যেসব বক্তব্য দিয়েছেন তাঁর পেছনে সরকারের সমর্থন রয়েছে।

রোহিঙ্গা মুসলিমদের বিরুদ্ধে উসকানিমুলক পোস্ট দেয়ার কারণে ফেসবুক গত বছর তাকে নিষিদ্ধ করে। সম্প্রতি স্টেট কাউন্সেলর অং সান সু চির সরকারের বিরুদ্ধে সমালোচনা শুরু করেছেন উইরাথু।

এমনকি জাতিসংঘের মিয়ানমার বিষয়ক বিশেষ দূত ইয়াংহি লি’কে ‘বেশ্যা’ বলে গালি দিয়েছেন এই বৌদ্ধ ভিক্ষু।

১৯৬৮ সালে জন্ম নেয়া উইরাথু ১৪ বছর বয়সে স্কুল ছেড়ে ভিক্ষু হতে যান। ১৫ বছর আগেও তেমন কেউ চিনতো না তাকে। ২০০১ সালে তিনি মুসলিমবিরোধী এবং জাতীয়তাবাদী একটি গ্রুপ গঠন করেন, যার নাম ছিল ৯৬৯ গ্রুপ। এই সংগঠনকে উগ্রপন্থি হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

২০০৩ সালে তাকে ২৫ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়। কিন্তু ২০১০ সালে অন্যান্য রাজবন্দীর সঙ্গে তাকে মুক্তি দেয়া হয়।

সরকার নিয়ম শিথিল করার পর তিনি সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে বেশ সক্রিয় হয়ে ওঠেন। তিনি ইউটিউব ও ফেসবুকে তার বক্তব্য ছড়াতে থাকেন।

২০১২ সালে রাখাইন রাজ্যে মুসলমান এবং বৌদ্ধদের মধ্যে যখন তীব্র সংঘাত শুরু হয়। তখন উইরাথু তার জ্বালাময়ী বক্তব্য প্রদান করতে থাকেন।

তাকে একবার জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, তিনি ‘বার্মার বিন লাদেন’ কিনা? জবাবে উইরাথু বলেছিলেন, এ বিষয়টি তিনি অস্বীকার করবেন না।

উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ১ জুলাই টাইম ম্যাগাজিন আশ্বিন উইরাথুকে নিয়ে একটি প্রচ্ছদ প্রতিবেদন করেছিল। প্রচ্ছদের শিরোনাম ছিল, ‘একজন বৌদ্ধ সন্ত্রাসীর প্রতিমূর্তি’ ।

 

সূত্র- বিবিসি বাংলা

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *