কবুল হোক চরমোনাই

কবুল হোক চরমোনাই

আমিনুল ইসলাম কাসেমী ❑ বড় আনন্দ লাগে, যখন দেখি চরমোনাই এর প্রোগ্রামে আলেমদের উপস্হিতি। তাও আবার দেশ সেরা আলেমগণ। একটা মিলন মেলা বসে যেন সেখানে। ওলামায়ে কেরামের আগমনে সেখানকার পরিবেশের রওনক বৃদ্ধি পায়। যেন এক নুরানী মনজিল বনে যায়।

বিগত চরমোনাই এর মাহফিলের দ্বিতীয় দিন দেখেছিলাম। কি এক অভুতপুর্ব দৃশ্য। দেশের খ্যাতনামা সব আলেম ভরে গেল চরমোনাই এর মাদ্রাসা এবং খানকাতে। ওলামায়ে কেরামের ফয়ুজ বারাকাতে ধন্য হল পুরো ময়দানে আগমণকারী মুসল্লী বৃন্দ।

আবার চরমোনাই মাহফিল শেষ হলে ঢাকাতে আরেক মিলন মেলা বসল। ওলামা মাশায়েখ এবং আইম্মা পরিষদের মিটিংএ আলেমদের উপস্হিতি ছিল চোখে পড়ার মত। বাঘা বাঘা সব আলেম সেখানে জমা হয়েছিল।

গতকাল আবার আরেক আজীব দৃশ্য দেখলাম। চরমোনাই এর পীর সাহেবের সাথে দেশের প্রথম কাতারের কিছু বাঘা আলেম, আল্লামা ইয়াহইয়া মাহমুদ সাহেব, ড. মুশতাক আহমদ, ড. আ ফ ম খালিদ হোসাইন এসব মহারথীদের একই ফ্রেমে বাঁধা দেখলাম।

হক্কানী-রব্বানী আলেমগণ চরমোনাইতে আসা-যাওয়া করছে, তাতে চরমোনাইর কবুলিয়্যতের লক্ষণ।

সত্যি নয়ন জুড়ানো দৃশ্য। দেশের এমন সব প্রতিভাবান আলেম, যাদেরকে সারাদেশের মানুষ ভালবাসে। সে সব আলেমদের সাথে এখন চরমোনাই এর পীর সাহেবদের হটলাইন। গভীর সম্পর্ক। তাঁরা চরমোনাইকে ভালবাসে আবার চরমোনাইওয়ালারা তাদের ইজ্জত করে। তবে আমার কাছে যা মনে হয়, চরমোনাই এবার আরো এগিয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ। যেভাবে হক্কানী-রব্বানী আলেমগণ চরমোনাইতে আসা-যাওয়া করছে, তাতে চরমোনাইর কবুলিয়্যতের লক্ষণ।

মাওলানা ইলিয়াছ রহ. যখন তবলীগের কাজ শুরু করেন, তখন তিনি একটা তবলীগের ইজতেমার আহবান করেছিলেন। সে ইজতেমাতে দাওয়াত দিয়েছিলেন কুতুবুল আলম সাইয়্যেদ হুসাইন আহমদ মাদানী রহ. কে। হযরত মাদানী যখন ইলিয়াছ রহ. এর সে ইজতেমাতে শরীক হন, তখন মাওলানা ইলিয়াছ রহ. বলেছিলেন, আমার তবলীগের এই কাজ কবুল হয়ে গেছে বলে মনে করছি। কেননা, যে ইজতেমাতে হযরত মাদানী রহ. এর মত বুজুর্গ শরীক হয়েছে, নিঃসন্দেহে সেটা কবুলিয়্যাতের আলামাত।

ঠিক চরমোনাইতে যেভাবে আলেম- উলামা – বজুর্গানেদ্বীনের আগমণ ঘটছে এবং চরমোনাই এর পীর সাহেবানদের সাথে যেভাবে হক্কানী-রব্বানী আলেমদের জোড় তথা মিল-মহব্বত দেখা যাচ্ছে, তাতে চরমোনাই কবুল হয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ। দিনে দিনে আরো উন্নতির শিখরে চলে যাবে তারা।

দারুল উলুম দেওবন্দ এর সাথে চরমোনাই এর সখ্যতা। সেখানকার আলেমদের কদম পড়ে চরমোনাইতে। এটা কিন্তু সাধারণ কথা নয়। অনেক বড় ব্যাপার। তাছাড়া দেওবন্দ থেকে আলেমদের আগমণ দুরহ ব্যাপার। সেই কঠিন কাজকে সাধন করেছে তারা। দেওবন্দ এমন এক মারকাজ যারা হক-হক্কানিয়্যাতের উপর কায়েম- দায়েম থাকে সব সময়। বাতিলকে প্রশ্রয় দেয় না তারা। আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামাতের দৃষ্টিভঙ্গি লালনকারী এক জামাত। সেই দেওবন্দের সমর্থন নিতে সক্ষম হয়েছে তারা। প্রতিবারই দেওবন্দ থেকে আলেমগণ হাজির হয়ে থাকেন সেখানে।

এভাবে বিশ্বের বহু জায়গা থেকে আলেমদের উপস্হিতি ঘটে চরমোনাইতে। আরো বড় বিষয় হলো, নিজেদের দেশের আলেমদের শুভ আগমন। যেটা দিনে দিনে বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রতিবছরই সেখানে আলেমদের ব্যাপক উপস্হিতি। যা ইতিপুর্বে দেখিনাই, এখন যেন রেকর্ড সৃষ্টি করছে। চরমোনাই এর বর্তমান পীর সাহেবদের প্রশংসা করতেই হয়। তাঁরা এমন ভাবে এগিয়ে যাচ্ছেন, বিশেষ করে আলেমদের সাথে এমন সুসম্পর্ক গড়ে তুলেছেন, যেটা কল্পনাতীত।

চরমোনাই এর পীর সাহেবদ্বয় এত বিনয়ী যা বলে বোঝানো যাবে না। বিশেষ করে নায়েবে আমীরুল মুজাহিদীন সৈয়দ ফয়জুল করীম যেন অনন্য ব্যক্তিত্ব। তিনি বাংলাদেশের যে প্রান্তে যান, সেখানেই মানুষের ভালোবাসা অর্জন করেন এবং সে অঞ্চলের খ্যাতনামা বুজুর্গদের ফয়েজ নিতে ভুল করেন না।

আরও পড়ুন: তাড়াইল মাহফিল ভাবনা | আমিনুল ইসলাম কাসেমী

গতকাল নায়েবে আমীর সাহেবকে দেখলাম, সিলেটে গিয়ে দরগাহ মাদ্রাসার শায়েখের কাছে বিনয়ের সাথে বসে দুআ নিচ্ছেন। এমনি ভাবে যে জায়গা যান, সে এলাকার বড় বড় ব্যক্তিত্বের সামনে নিজেকে বিলীন করে দেন। ‘মেটাদো আপনা হাস্তিকো আগার কুঁচ মরতবা চাহো’। যাদের লক্ষ লক্ষ ভক্ত-মুরীদ। সেই ব্যক্তিরা এত্ত বিনয়ী। নিশ্চয়ই এটা কবুলিয়্যাতের লক্ষণ। হাদীসে আছে , ‘মান তাওয়া জায়া লিল্লাহ রফয়াহুল্লাহ’ অর্থ যে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য বিনয়ী হয়, আল্লাহ তাঁর ইজ্জত বাড়িয়ে দেন।

চরমোনাইওয়ালাদের বিনয় -নম্রতা। আলেমদের সাথে সখ্যতা, আলেমদেরকে ইজ্জত-সন্মানের সাথে দেখা, এবং আলেমগণের চরমোনাই এর প্রোগ্রামে তাঁদের কদম রাখা অবশ্যই এই খানকা কবুল হবে বলে আশাবাদী। মহান আল্লাহর কাছে ফরিয়াদ করি, আল্লাহ তায়ালা চরমোনাই এর খানকা এবং তাঁর অঙ্গ সংগঠনগুলোকে কবুল করুন। আল্লাহুম্মা আমিন।

লেখক: শিক্ষক ও কলামিষ্ট

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *