কমেছে মুরগির দাম, বেড়েছে সবজির

কমেছে মুরগির দাম, বেড়েছে সবজির

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : সপ্তাহ ব্যবধানে আরও কমেছে সব ধরনের মুরগির দাম। তবে সরবরাহ কমের অজুহাতে অস্থির হয়ে উঠেছে রাজধানীর সবজির বাজার।

শুক্রবার (১১ এপ্রিল) রাজধানীর কারওয়ান বাজার ও হাতিরপুল কাঁচা বাজারসহ বেশ কয়েকটি বাজার ঘুরে এ চিত্র দেখা যায়।

রমজানজুড়ে সবজির দাম স্বস্তি দিলেও ঈদের পর থেকেই চড়া হতে শুরু করেছে এই বাজার। সপ্তাহ ব্যবধানে প্রায় প্রতিটি সবজিতে দাম বেড়েছে ৫-১০ টাকা পর্যন্ত। বিক্রেতারা বলছেন, ঈদের পর এখনও পুরোপুরি সচল হয়নি সরবরাহ ব্যবস্থা। এতে শাক-সবজি কম আসায় দাম বাড়ছে।

রাজধানীর কারওয়ান বাজারেরে এক সবজি বিক্রেতা বলেন,
সরবরাহ কমায় দাম বেড়েছে সবজির। সপ্তাহ ব্যবধানে কোনো কোনো সবজিতে ১০ টাকা পর্যন্তও বেড়েছে। সরবরাহ বাড়লে দাম কমে আসবে।

বাজারে প্রতি কেজি করলা ৬০-৭০ টাকা, বেগুন ৭০-৮০ টাকা, বরবটি ৫০ টাকা, ঢ্যাঁড়শ ৪০ টাকা, লতি ৬০ টাকা ও টমেটো ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর প্রতি কেজি পেঁপে ৪০ টাকা, পটোল ৬০-৭০ টাকা, গাজর ৩০ টাকা, শসা ৫০ টাকা, কহি ৬০ টাকা, শিম ২৫-৩০ টাকা, সজনে ডাটা ১২০ টাকা ও ধনেপাতা ৩০-৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এছাড়া বাজারে প্রতি পিস চালকুমড়া ৫০ টাকা ও লাউয়ের জন্য গুনতে হচ্ছে ৬০-৭০ টাকা। আর খুচরা পর্যায়ে প্রতিকেজি কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৪০ থেকে ৬০ টাকায়।

ক্রেতারা বলছেন, রমজানে সবজির দাম কম থাকলেও, ঈদের পর থেকেই বাজার চড়া। দাম কমাতে বাজার মনিটরিং অব্যাহত রাখতে হবে। না হলে ফের অস্থির হয়ে উঠবে নিত্যপণ্যের বাজার।

তবে রমজানজুড়ে ভোগানো লেবুর ডজন নেমে এসেছে ৫০-৬০ টাকায়। বিক্রেতার বলছেন, রমজানে যেখানে লেবুর হালি বিক্রি হয়েছে ৮০-১০০ টাকায়, সেখানে এখন দাম কমে ডজনই বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকায়।

রাজধানীর কারওয়ানবাজারের লেবু বিক্রেতা জাকের বলেন, বাজারে নতুন লেবু আসছে। এতে দাম কমছে। মান ও আকার ভেদে প্রতিপিস লেবু বিক্রি হচ্ছে ১-৪ টাকায়। বৃষ্টি হলে লেবুর উৎপাদন বাড়বে। তখন দাম আরও কমবে।

এদিকে, ঈদের পর চাহিদা কমায় দাম কমেছে সব ধরনের মুরগির। কেজিতে ২০-৩০ টাকা পর্যন্ত কমে প্রতিকেজি ব্রয়লার মুরগি ১৮০-১৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর কেজিতে ২০-৩০ টাকা কমে প্রতিকেজি সোনালি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ২৭০-৩০০ টাকায়।

এছাড়া দেশি মুরগি ৬৫০-৬৮০ টাকা, সাদা লেয়ার ২৭০ টাকা ও লাল লেয়ার বিক্রি হচ্ছে ৩০০ টাকায়। আর জাতভেদে প্রতি পিস হাঁস বিক্রি হচ্ছে ৬০০-৭০০ টাকায়।

বিক্রেতারা বলছেন, চাহিদা না থাকায় দাম কমেছে। রাজধানীর কারওয়ান বাজারের মুরগি বিক্রেতা দিদার বলেন,
ঈদের ছুটি শেষে এখনও চাহিদা বাড়েনি মুরগির। এছাড়া পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে ইলিশের চাহিদা বাড়ায় মানুষ মুরগি কিনছে কম। এতে চাহিদা কমায় দামও কমেছে।

আরেক বিক্রেতা স্বপন বলেন, বাজারে মুরগির চাহিদা কম থাকার কারণে খামার পর্যায়েই এখন মুরগির দাম কিছুটা কম। এতে মুরগির দাম কমেছে।

মুরগির দাম কমলেও বাজারে স্থিতিশীল রয়েছে গরু ও খাসির মাংসের দাম। বর্তমানে বাজারে প্রতি কেজি গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৭৫০-৮০০ টাকায়। এছাড়া প্রতি কেজি খাসির মাংস ১ হাজার ২৫০ টাকা ও ছাগলের মাংস বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ১০০ টাকায়।

বাজারে আগের দামেই বিক্রি হচ্ছে ডিমও। প্রতি ডজন লাল ডিম ১১৫-১২০ টাকা ও সাদা ডিম বিক্রি হচ্ছে ১১০-১১৫ টাকায়। আর প্রতি ডজন হাঁসের ডিম ১৮০-২০০ টাকা ও দেশি মুরগির ডিম ২২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এদিকে বাজারে স্থিতিশীল রয়েছে আলু-পেঁয়াজের দামও। খুচরা পর্যায়ে প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকায়। আলুর জন্য গুনতে হচ্ছে ২০-২২ টাকা। এছাড়া প্রতিকেজি আদা বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকায়।

Related Articles