পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : বিশ্বব্যাপী মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাস উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বিশ্বের দরিদ্র দেশগুলোর দিকে যদি নজর দেয়া না হয় কিংবা জরুরি সাহায্য করা না হয় তবে তাদের জীবন থেকে এক দশক হারিয়ে যেতে পারে। এমনটাই আশঙ্কা করছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)।
আইএমএফ বলছে, নিম্ন আয়ের উন্নয়নশীল দেশগুলো (এলআইডিসি) মহামারীতে নাজুক অবস্থার মধ্যে পড়ে গেছে এবং গত সাত থেকে ১০ বছর ধরে দারিদ্র্য থেকে মুক্তি পেতে তারা যে উন্নতি করে আসছিল তা বিফলে যেতে চলেছে।
দরিদ্র দেশগুলো যাতে কভিড-১৯ এর সাথে খাপ খাইয়ে নিতে পারে ও দ্রুত ঘুরে দাঁড়াতে পারে তা নিশ্চিত করতে এক ব্লগে আইএমএফ এর অর্থনীতিবিদরা বিশ্ব সম্প্রদায়কে সাত পয়েন্ট বিশিষ্ট পরিকল্পনা হাতে নেয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। ২০১৯ সালে ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হলেও এ বছর তা স্থির হয়ে যেতে পারে বলে মনে করছে আইএমএফ। সংস্থাটি জানায়, অতীতেও মহামারী স্থায়ী ক্ষত তৈরি করে দিয়ে গেছে।
এর আগে বিশ্বব্যাংক প্রেসিডেন্ট ডেভিড ম্যালপাস আহ্বান জানিয়ে বলেন, কভিড-১৯ মহামারীতে বিশ্বের ধুঁকতে থাকা অঞ্চল ও দেশগুলো আর্থিকভাবে মহামন্দায় পড়বে, কাজেই তাদের উদ্ধারের জন্য যেন উচ্চাভিলাষী ঋণ প্রকল্প চালু করা হয়। তার মতে, এই মহামারীতে বিশ্বে আরো অতিরিক্ত ১০ কোটি মানুষ দারিদ্র্যে নিমজ্জিত হতে পারে।
ম্যালপাসের এই প্রস্তাবকে সমর্থন করে আইএমএফ। সংস্থাটি বলছে, ‘এলআইডিসি দেশগুলো এরই মধ্যে নাজুক পরিস্থিতি নিয়ে কভিড-১৯ মহামারীতে পতিত হয়েছে, যাদের মধ্যে অর্ধেকই উচ্চ ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে ঘুরছে। মার্চ থেকে এলআইডিসিভুক্ত দেশগুলো বাহ্যিক অনেক ঝাঁকুনির মধ্য দিয়ে গেছে: রফতানিতে বড় ধরনের সংকোচন, নিম্ন রফতানি মূল্য, বিশেষ করে তেল, মূলধন ও রেমিট্যান্সের নিম্ন প্রবাহ এবং পর্যটন খাতে রাজস্ব কমে যাওয়া। এলআইডিসি সরকারগুলোর সর্বোচ্চ চেষ্টা সত্ত্বেও পর্যাপ্ত আন্তর্জাতিক সহযোগিতার অভাবে কিছু অলঙ্ঘনীয় ও দীর্ঘস্থায়ী ক্ষতির মুখে পড়তে পারে তারা।’
২০৩০ সালের মধ্যে উচ্চাভিলাসী টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে বিশ্বব্যাংক। যদিও আইএমএফ বলছে, মহামারীর কারণে যে ক্ষতচিহ্ন তৈরি হচ্ছে তা এই লক্ষ্য অর্জনের কাজটি কঠিন করে তুলতে পারে।
সূত্র : দ্য গার্ডিয়ান
/এএ


