করোনাভাইরাস; গজব না রহমত?
মাহবুব বিন মানসুর ❑ সম্প্রতি বিশ্বব্যাপি উদ্ভূত করোনা ভাইরাসের হিংস্র আক্রমণ ও সংক্রমণের আতঙ্কে নীল হয়ে আছে সমগ্র পৃথিবীবাসি৷ ক্রমশ বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা৷ সংখ্যার বহর দেখে রীতিমতো আঁতকে উঠছে বিশ্ববাসি৷ প্রতিনিয়ত বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যাও। মৃত্যুভয়ে সবাই তটস্থ৷ অন্যের মৃত্যুতে কল্পনায় প্রত্যেকে নিজের সাক্ষাত মৃত্যু কে আবিষ্কার করছে করোনার দানবীয় থাবায়৷ সবার মনে একটাই চিন্তা, বাঁচার উপায় কী?
বিজ্ঞানীরা গবেষণা করছেন৷ ডাক্তারেরা দিচ্ছেন চিকিৎসা,পরামর্শ৷ প্রাণঘাতী এই মহামারি থেকে বাঁচতে গোঁড়া হিন্দুরা পান করছেন গোমুত্র৷ কোন কোন হিন্দু ভায়েরা গোবরগাদায় অবগাহন করছেন অবলীলায়! ইসলামিক স্কলাররা কোরআনের রেফারেন্স টেনে বলছেন, এ মহামারি আমাদের কৃতকর্মের ফসল৷ আমাদের মাত্রাতিরিক্ত গুনাহের বহরই টেনে এনেছে এই ইলাহি গজবের তাণ্ডব৷ পিয়ারে হাবীব সাঃ এরশাদ করেছেন, ‘যখন কোন সম্প্রদায়ের মাঝে অশ্লীলতার প্রসার ঘটে তখন সেখানে মহামারি এবং এমন দুর্ভিক্ষ দেখা দেয় যার নমুনা তারা পূর্বপুরুষদের মধ্যে দেখেনি। (ইবনে মাযাহ: ৪০১৯)
‘তো এখন বাঁচার উপায় একটাই, গুনাহ ছেড়ে দেওয়া৷ আগামীতে গোনাহ করবোনা মর্মে দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ হওয়া৷ তাওবার পথ বেয়ে আল্লাহর কাছে ফিরে আসা৷’ স্কলাররা সবাইকে এভাবে আল্লাহর দিকে ফিরে আসার আহ্বান জানাচ্ছেন কন্ঠে অনুরোধের সুর তুলে৷ পাশাপাশি তারা প্রয়োজনীয় সতর্কতা গ্রহণের দিক-নির্দেশনাও দিয়ে যাচ্ছেন৷ দিকে দিকে তাই সচেতনতা, সতর্কতা ক্রমশ বেড়ে চলেছে৷ সচেতনতা অবলম্বনে পিছিয়ে নেই অজপাড়াগাঁয়ের আবাল-বৃদ্ধ-বনিতারাও৷
খোঁজ নিলে হাজারো পরিবারের কাছ থেকে এমন ভয়াবহ গল্প বেরিয়ে আসবে নির্দ্বিধায় বলা যায়৷
ইতোমধ্যে কোভিড ১৯ সংক্রমন ও বিস্তার রোধে লকডাউন করে দেওয়া হয়েছে বাংলাদেশ সহ করোনা ছড়িয়ে পড়া প্রায় দুইশো দেশ৷ থমকে গিয়েছে গোটা পৃথিবীর জীবনযাত্রা বা আল্লাহ তায়ালা দুনিয়াবাসিকে থমকে দাঁড়াতে বাধ্য করেছেন আপন ইশারায়৷ থমকে দাঁড়িয়েছে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা৷ গৃহবন্দী দিনাতিপাত করছে সবাই৷ সবাই হাঁফিয়ে উঠছে অলস অবসর কাটাতে কাটাতে৷
অনেকেই নিতে পারছেন না এ বদ্ধ জীবন৷ কবে অবসান ঘটবে এই বন্দি জীবনের? হোম কোয়ারেন্টাইন পালন করতে গিয়ে সবার চাকরি-কর্ম, ব্যবসা-বানিজ্য সব কিছু বন্ধ৷ গরীব-অসহায়, শ্রমজীবি মানুষদের দুর্বিষহ অবস্থা৷ অনেককে না খেয়ে দিন গুজরান করতে হচ্ছে৷ এক পর্দাবৃত মাকে ডাস্টবিন থেকে বাসি-নোংরা খাবার সংগ্রহ করতে দেখলাম৷ খোঁজ নিলে হাজারো পরিবারের কাছ থেকে এমন ভয়াবহ গল্প বেরিয়ে আসবে নির্দ্বিধায় বলা যায়৷
সবার মনে এখন অনিশ্চয়তার প্রশ্ন৷ এর পরে কী হবে? পৃথিবী কী আবারো কিছুদিন আগের অবস্থায় ফিরে আসবে? নাকি পৃথিবী তার অধিবাসীকে আরো করুণ, আরো সংকট, আরো খারাপ পরিস্থিতি দেখার জন্য প্রস্তুত হতে ইশারা করছে? এভাবেই বেঁচে থাকার অল্পখানি আশা আর অনেকখানি মৃত্যুর ভয় নিয়ে আশা-নিরাশার দোলাচলে ভাসছে পৃথিবীর ধনী-গরীব, বৃদ্ধ-পৌঢ়, যুবক, শিশু, নারী-পুরুষ, সুস্থ-অসুস্থ সব ধরনের মানুষ৷
ঠিক এমনই মুহূর্তে কোন তৃষ্ণার্ত অর্বাচীন মরুচারির ধূ ধূ মরূভূমির মাঝপথে সহসা জলকূপ খুঁজে পাওয়ায় জ্বলজ্বল করে ওঠা চোখের মতোই আমাদের সামনে মূর্ত হয়ে ওঠে কোরআনের আয়াত৷ মহান আল্লাহর বাণী৷ যা আমাদেরকে মুক্তির কথা শোনায়৷ নাজাতের দিশা দেখায়৷ কোরআনের সেই অমোঘ বাণী আমাদের হতাশাগুলোকে এভাবেই উড়িয়ে দেয়, ‘আর তিনি অবশ্যই তাদেরকে ভীতু ও আতঙ্কিত হওয়ার পর নিরাপত্তাময় অবস্থায় রূপান্তরিত করে দিবেন, যে সময় তারা আমারই ইবাদত করবে এবং আমার সাথে কাউকে অংশীদার করবেনা৷ (সূরা:নূর আয়াত-৫৫)
উপরোক্ত আয়াত থেকে আমরা জানতে পারি যে, যে ভয়ংকর ও আতঙ্কময় সময় পার করছি আমরা তার স্থায়িত্ব বেশি দিনের নয়৷ এই অবস্থার অবসান ঘটবে একদিন৷ আল্লাহ পাক আমাদেরকে নিরাপত্তার চাদরে আবৃত করে দিবেন মাত্র সহজ দুটি শর্তে৷ যা পালন করা একজন মুমিনের জন্য কষ্টের কোন বিষয় নয়৷ শর্ত দুটি এমন৷ এক. নিজেকে আল্লাহর ইবাদতে নিমজ্জিত রাখতে হবে৷ দুই. আল্লাহর সাথে কোন ধরনের অংশিদারিত্ব করা যাবেনা৷ ছোট বড় বড় সব ধরনের শিরক থেকে নিজেকে পবিত্র রাখতে হবে।
তাছাড়া মুমিনের আতঙ্কিত হওয়ার তো কোন কারন নেই৷ সে সর্বদা আল্লাহর সিদ্ধান্ত ও ফয়সালার উপর সমর্পিত থাকবে৷ তথাপি একজন মুমিনের আরাধ্য তো এটাই হওয়া উচিৎ যে, সে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে আল্লাহর হুকুম মানতে ব্রতী থাকবে৷ কেননা বান্দা যখন আল্লাহর হুকুম মেনে চলে তখন তার জিন্দেগী হয় চিন্তামুক্ত৷ আল্লাহ তায়ালা এরশাদ করেন, ‘জেনে রাখো আল্লাহর বন্ধুদের কোন ভয় নেই এবং তারা দুঃখিতও হবেনা৷’ (সূরা ইউনুস: আয়াত: ৬২)
অধিকন্তু বিপদ-আপদ দিয়ে আল্লাহ তার প্রিয় বান্দাদেরকে পরীক্ষা করে থাকেন৷ দুনিয়ার বুকে মানুষকে জীবনের প্রতিটি বাঁকে বাঁকে পরীক্ষার সম্মুখীন হতে হয় এবং পরীক্ষা দেয়াই জীবন-মৃত্যু ও সৃষ্টির আসল উদ্দেশ্য। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ বলেন, ‘যিনি সৃষ্টি করেছেন মৃত্যু ও জীবন তোমাদের পরীক্ষা করার জন্য। কে তোমাদের মধ্যে কর্মে সর্বোত্তম? আর তিনি পরাক্রমশালী, বড় ক্ষমাশীল।’ (সূরা মুলুক, আয়াত-২)
তবে আল্লাহ তায়ালা বান্দাকে বিপদে নিপতিত করেননা বিপদের মুখে ঠেলে দেওয়ার জন্য৷ বরং এর নেপথ্যে থাকে বান্দাকে কল্যাণ পৌঁছানোর গোপন অভিপ্রায়৷ রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘আল্লাহ যার কল্যাণ চান তাকে বিপদে আক্রান্ত করেন।’(সহিহ বুখারি, হাদিস-৫৬৪৫) অতএব মসিবতের সময় হতাশ হওয়ার কিছু নেই ৷
বিখ্যাত পণ্ডিত দার্শনিক ইমাম গাজ্জালি (রহ.) বলেছেন, প্‘রতিটি বেদনা বস্তুত একটি একটি সম্ভাবনা। বিপদে-আপদে হতাশ না হয়ে ধৈর্য্যধারণ কর এবং ইতিবাচক দৃষ্টিতে বিপদের মোকাবেলা কর।’ কাজেই এই ক্রান্তিলগ্নে নিশ্ছিদ্র ধৈর্য্য ও সহিষ্ণুতার পরিচয় দেওয়াই হবে একজন মুমিনের প্রধান কাজ ৷
সবর হলো, মুমিনের অনুপম ভূষণ ৷ রাসূল (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি ধৈর্য্যধারণের চেষ্টা করবে, আল্লাহ তাকে ধৈর্য্যধারণের শক্তি দান করবেন। আর ধৈর্য্য অপেক্ষা অধিক উত্তম ও কল্যাণকর বস্তু আর কিছুই কাউকে দেয়া হয়নি।’ (বুখারি, ১৪৬৯)।
সবরের সংজ্ঞা দিতে গিয়ে ইবনুল মুবারক (রহ.) বলেন, ‘সবর হচ্ছে যা কিছু আল্লাহর পক্ষ থেকে ঘটে বান্দা সন্তুষ্টচিত্তে তা মেনে নেয়া এবং এর জন্য আল্লাহর কাছে পুরস্কার কামনা করা।’ মহান আল্লাহ তায়ালা তার প্রিয় বান্দাকে সবরের প্রতি অনুপ্রাণিত করতে আয়াত অবতীর্ণ করেন। আল্লাহ পবিত্র কোরআনে বলেন, ‘নিশ্চয় আল্লাহ সবরকারীদের সঙ্গে আছেন’। (সূরা বাকারা, আয়াত-১৫৩)
করোনা ভাইরাসকে গজব না বলে আমরা রহমত বলতে পারি অবলীলায়৷
কাজেই কখনো বিপদে নিপতিত হলে হতাশ না হয়ে ধৈর্যের পথে হেঁটে আল্লাহর কাছে মুক্তি কামনা করতে হবে৷ মনে রাখতে হবে বিপদ-আপদ আল্লাহই দেন আবার এ থেকে পরিত্রাণও তিনিই দান করেন৷ সুতরাং বিপদ-আপদ, পরীক্ষা, ধৈর্য, কল্যাণ, রহমত, প্রতিদান এই শব্দগুলো যেন অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত৷
অতএব আমাদের করোনার মহামারির মোকাবেলা করতে হবে ধৈর্যের মাধ্যমে৷ কেননা হয়তোবা আল্লাহ তায়ালা এর মাধ্যমেই কোন কল্যাণ পৌঁছাতে চান তাঁর প্রিয় বান্দাদের কাছে৷ সুতরাং করোনা ভাইরাসকে গজব না বলে আমরা রহমত বলতে পারি অবলীলায়৷ ইমাম গাজ্জালি রহঃ বলেছেন, ‘যে বিপদ মানুষকে আল্লাহমুখী করে, সেটি তার জন্য রহমত। আর যে বিপদে মানুষ আল্লাহ থেকে দূরে সরে যায় কিংবা আল্লাহ থেকে উদাস ও বেভুল অবস্থায় তার মৃত্যু ঘটে, এটি তার জন্য গজব।’ আমরা দেখছি মানুষ আল্লাহমুখী হচ্ছে৷ নিষেধাজ্ঞা ছাপিয়ে মসজিদে বাড়ছে মুসল্লির সংখ্যা৷ অতএব এই সঙ্কট আমাদের জন্য রহমত৷ আম্মাজান আয়েশা (রাযি.) রাসূলুল্লাহ (সা.) কে মহামারি সম্পর্কে প্রশ্ন করেন৷ প্রতিউত্তরে তিনি জানান, “এটা হচ্ছে শাস্তি। আল্লাহ যাদেরকে ইচ্ছা এ শাস্তি দেন। তবে মুমিনদের জন্য আল্লাহ একে রহমত বানিয়েছেন। যখন কোন ব্যক্তি মহামারিতে পতিত হয় অতঃপর সে নেকির আশায় ধৈর্য্যসহকারে সেখানে অবস্থান করে এবং এ বিশ্বাস রাখে যে,আল্লাহ তায়ালার হুকুম ব্যতিত কিছুই হয়না, তাহলে সে শহীদের সওয়াব পায় ৷” ( সহীহ বুখারী-৫৭৩৪)
উপরোক্ত হাদীসের শেষাংশ থেকে আমরা লকডাউন মেনে চলার ফযিলত জানতে পারি৷ অতএব ময়দানে জিহাদে অংশগ্রহন করে শহীদি সুধা পান করার মতো মজবুত ঈমান যেহেতু আমাদের নেই, তাই লকডাউনের এই সময়ে যে যেখানে আছি সেখানেই ধৈর্য্যসহকারে অবস্থান করি এবং শহীদি মর্যাদা লুফে নেই৷ এবং লকডাউনের অলস অবসরে সোশ্যাল মিডিয়ায় সব সময় বুঁদ হয়ে না থেকে এটাকে আত্নশুদ্ধি ও জীবন গঠনের সুযোগ মনে করে কাজে লাগাতে পারি৷ রাসূলুল্লাহ সাঃ এরশাদ করেছেন, ‘দু’টি নেয়ামত রয়েছে এমন যা পেয়েও অনেক মানুষ তা কাজে লাগাতে পারেনা, তাকে যথাযথ ভাবে ভোগ করতে পারেনা৷ ফলে অনেক ক্ষতির সম্মুখীন হয় এবং ধোকায় নিপতিত হয়৷ নেয়ামত দুটি হলো, সুস্থতা ও অবসর৷’ (সুনানে তিরমিযী: ২৩০৪)
অবসর মস্তিষ্ক শয়তান খুব দ্রুত কুপোকাত করে ফেলে৷ কর্মহীন ব্যক্তিকে যেকোন মুহূর্তেই পর্যুদস্ত করে ফেলতে পারে শয়তান৷ অতএব এই অবসর সময়কে কাজে লাগাই৷ এই অবসর হতে পারে আমার জীবনের অনেক প্রাপ্তির সোপান! এই সময়ে আমরা বিশেষভাবে কয়েকটি কাজ করতে পারি৷ নিজেকে নিয়ে ভাবি! আমি কোন অবস্থানে ছিলাম? এখন কোন পর্যায়ে আছি? কোথায় যেতে হবে আমাকে? আমি কী করছি? আমার কৃতকর্মের গন্তব্য কী জান্নাত হবে, নাকি জাহান্নামই আমার জন্য অবধারিত?
প্রতিদিনের একটা সময়কে নিভৃতে আল্লাহর সাথে কাটানোর জন্য বরাদ্ধ রাখি৷ মালিকের যিকির করি৷ তাসবীহ পাঠ করি৷
আমরা কর্মব্যস্ততায় এত বেশি জড়িয়ে পড়েছি যে, নিজেকে নিয়ে ভাববার ফুরসতটুকুও নেই৷ এভাবে নিজেকে নিয়ে ভাবি৷ অজানা অনেক প্রশ্নের উত্তর মিলবে। গুনাহ ছেড়ে দেওয়ার অনুপ্রেরণা খুঁজে পাবো হয়তোবা৷ বেশি বেশি তাওবা-ইস্তেগফার করি৷ এতে আর কিছু না হোক, এই মহামারিতে যদি আমার ইন্তেকালও হয়ে যায় তাহলে অন্তত আমি সংশোধিত হয়ে মালিকের দরবারে হাজির হতে পারবো৷ যেটা একজন মুমিনের সবচেয়ে বড় চাওয়া হওয়ার কথা৷
আর আল্লাহ তায়ালা এরূপ মহামারির সময় বান্দার কাছে তাওবাই কামনা করেন৷ আল্লাহ মানুষকে তাওবার প্রতি উদ্বুদ্ধ করতে গিয়ে বলেন, ‘তারা কি দেখে না যে তাদের প্রতিবছর একবার বা দুইবার বিপর্যয় সৃষ্টি করা হয়? এরপরও তারা তাওবা করে না, উপদেশ গ্রহণ করে না!’ (সুরা : তাওবা, আয়াত : ১২৬)
দ্বিতীয়ত প্রতিদিনের একটা সময়কে নিভৃতে আল্লাহর সাথে কাটানোর জন্য বরাদ্ধ রাখি৷ মালিকের যিকির করি৷ তাসবীহ পাঠ করি৷ চোখের অশ্রু ঝরিয়ে নিজের আরজিগুলো পেশ করি মহামহিমের সকাশে৷ কেননা এই অভ্যাস আমার জীবনে এনে দিতে পারে অভাবনীয় প্রাপ্তি৷ কেননা রাসূলে কারীম সা. “কেয়ামতের ভয়াবহ মুহূর্তে যে সাত শ্রেণীর মানুষের আল্লাহর আরশের নীচে ছায়া প্রাপ্তির সুসংবাদ দিয়েছেন, তন্মধ্যে সাত নম্বরে নবীজি সা. ঐ ব্যক্তির কথা বলেছেন, যে নিরবে,নিভৃতে আল্লাহর যিকির করে এবং চোখের অশ্রু ঝরায়৷”
এছাড়াও এই অবসরে বেশি বেশি কোরআন তেলাওয়াত, তাদাব্বুরে কোরআন, হাদীস পাঠ ও নবীজি সা. এর সীরাত বেশি বেশি অধ্যয়ন করতে পারি৷ এগুলো আমার আমলী জীবনকে সমৃদ্ধ করবে৷ উন্নত আখলাক ধারণে তাওফিকপ্রাপ্ত হতে পারবো৷ সর্বোপরি জীবনের কঠিন মুহূর্তগুলো কিভাবে পার করতে হয় সেই পাথেয়ও খুঁজে পাবো ৷
আল্লাহ তা’আলা আমাদের সকল প্রকার রোগ-ব্যাধি, মহামারি থেকে হেফাজত করুন এবং করোনায় আক্রান্ত সবাইকে পূর্ণ সুস্থতা দান করুন৷ আমীন।
লেখক : খতিব, প্রাবন্ধিক ও গবেষক


