করোনার আহ্বান; পাপিষ্ঠ মানুষ ভালো হয়ে যাও

করোনার আহ্বান; পাপিষ্ঠ মানুষ ভালো হয়ে যাও

করোনার আহ্বান; পাপিষ্ঠ মানুষ ভালো হয়ে যাও

মুসাদ্দাদ বিন মুসারহাদ ❑ আল্লাহর আলমে ছোট্ট এক জীবাণু আমি। জীব কি জীব না এ নিয়ে এখনও বিজ্ঞানীদের মাঝে বিতর্ক আছে। অনুবীক্ষণ যন্ত্র ছাড়া আমাকে দেখা যায় না। এই মুহূর্তে সারা বিশ্বকে অস্থির করে রেখেছি আমি। আমার সাথে পেরে উঠছে না বিশ্বর তাবৎ শক্তিধররা। আমেরিকা রাশিয়া চীন জাপান ও ইউরোপের রাষ্ট্রগুলোও চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে। প্রতিদিন আমি হত্যা করছি অসংখ্য মানুষ ও পশু। আমাকে নিয়ে বিশ্বের মানুষের ভাবনাগুলো দেখলে আমার হাসি পায়। হ্যাঁ আমিও হাসি নিভৃতে। বিশ্ববাসীর তামাশা আমি দেখছি আর মজা পাচ্ছি। সব শক্তির দম্ভ আমি চূর্ণ করে দিয়েছি। যত ধরনের আড্ডাবাজি ছিল সব শেষ করে দিয়েছি। নাইট ক্লাবগুলো বন্ধ হয়েছে। বন্ধ হয়েছে মদের বার। নেশাজাত দ্রব্য নিষিদ্ধ হয়েছে। কোথায় গেল ব্যক্তি স্বাধীনতার নামে সব পাপাচারের বৈধতার কথা। হোম কোয়ারেন্টাইন, আইসোলেশন আর লক ডাউনের নামে সবাইকে বন্দি করে রেখেছি ঘরের ভেতর। আবদ্ধ থেকে এরা অভ্যস্থ ছিল না। যার ফলে অনেকে আত্মহত্যাও করছে। হতাশায় আচ্ছন্ন আজ বিশ্বমানবের মন।

মুসলিম অমুসলিম কাউকেই আমি ছাড়ছি না। পূর্ব পশ্চিম উত্তর দক্ষিণ সবখানেই আমি পৌঁছে গেছি অতি দ্রুততার সাথে। আমাকে কেউ বাধা দিয়ে রাখতে পারছে না। উপভোগ করছি বাংলাদেশের ওয়ায়েজিনদের কথা। তারা আমাকে নিয়ে নানান রকম গুজব রটাচ্ছে। সেদিন এক বক্তাকে শুনলাম, বলছে কোনো মুসলমানের করোনা হতে পারে না। কুরআন মিথ্যা হয়ে যাবে মুসলমানদের করোনা হলে।

একটা শিশু দাঁতসহ জন্মেই বলল, তিনটে থানকনি পাতা আর তিন কাপ চা পান করলেই নাকি আমি শেষ। আধা ঘণ্টা পরই নবজাতকের মৃত্যু হয়। হা হা এমন মজার মজার গুজব বাজারে চালু হয়েছে আমাকে নিয়ে।

আরেক বক্তা আমাকে নাকি স্বপ্নে দেখেছে। আড়াই তিন ঘণ্টা আমার সাথে তার কথা হয়েছে। আমার কি কারো স্বপ্নে এত দীর্ঘ কথা বলার মত সময় আছে? পাগলের দল আমি ব্যস্ত আছি আক্রান্তদের সংখ্যা বাড়াতে। যে কোনো সময় এসব বক্তাদেরও ধরতে পারি। ধরতে পারি ফালতু কথা বলা মানুষগুলোকে। আপাতত ব্যস্ত আছি পশ্চিমে। একেক দিনে সেখানে হাজারের উপর মানুষ মারছি। মানুষ হয়ে তোমরা মানুষকে হত্যার মত ঘৃণ্য অপরাধ করো। তোমাদের আর কষ্ট করতে হবে না। আমিই মানব জাতির সংখ্যা কমিয়ে দিব। মহা ধ্বংসযজ্ঞ নিয়ে হাজির হয়েছি আমি মহা শক্তিধর করোনা।

একদল ভণ্ড আমার ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার সুযোগে নানান অপকর্ম করছে। সাইদি নামক এক যুদ্ধাপরাধি রয়েছে কাশেমপুর কারাগারে। ভণ্ডরা বলছে তাকে কারাগার থেকে মুক্ত করলে নাকি আমি বিলুপ্ত হয়ে যাব। এই গাধারা কতটা গাধা তা আমি কল্পনাও করতে পারি না।

ইসলামের নামেও অনেক মানুষ হত্যা হয়েছে এই ভূ লোকে। এসব উগ্রবাদীরা এখন বড় বড় কথা বলছে। আমার আক্রমণের সুযোগে ওরা উগ্রবাদ ছড়ানোর চেষ্টা করছে। মাছ শিকারের চেষ্টা করছে ঘোলা পানিতে। ওরা এখনও বুঝতে পারছে না আমি কতটা ভয়াবহ হতে পারি। তাদের ঘরেও আমি যে কোনো সময় হানা দিবো। যে কোনো সময় নষ্ট মানুষগুলোর নষ্টামি থামিয়ে দিব। ঘরে ঘরে আমার সৈন্য পৌঁছে যাবে। ইসলামের নামে তাদের অনৈসলামিক কর্ম আর হতে দেওয়া যায় না। হ্যাঁ আমি আল্লাহর সৈন্য। আল্লাহর সাথে যুদ্ধ করে কেউ কী পেরেছে কোনো কালে? আদ সামুদকে যেভাবে ধ্বংস করেছেন আল্লাহ তোমাদেরও ধ্বংস করতে পারেন। এই ক্ষুদ্র আমাকে দিয়েই পারেন সব কিছু থামিয়ে দিতে।

বাংলাদেশের আরেকটি ঘটনায় আমি খুব অবাক হয়েছি। একদল ভণ্ড আমার ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার সুযোগে নানান অপকর্ম করছে। সাইদি নামক এক যুদ্ধাপরাধি রয়েছে কাশেমপুর কারাগারে। ভণ্ডরা বলছে তাকে কারাগার থেকে মুক্ত করলে নাকি আমি বিলুপ্ত হয়ে যাব। এই গাধারা কতটা গাধা তা আমি কল্পনাও করতে পারি না। সত্যি এই মৌদুদিবাদী ধর্ষক রাজাকারকে কারামুক্ত করলে আমি বাংলাদেশের ওপর চরম গজব হয়ে নেমে আসব। ইউরোপ আমেরিকা রেখে তখন বাংলাদেশে আমার সব সৈন্য পাঠিয়ে দিব। ভালো থাকতে ইচ্ছে না হলে দেখ হারামীটাকে ছেড়ে দিয়ে।

আমি করোনা আল্লাহর গজব। এখনও দেখছি তোমরা সারা দিন ফেইসবুক ইউটিউব নিয়ে পড়ে আছ। হে মানবজাতি, এখনও সুযোগ আছে। মৃত্যুকে ভয় করো। আল্লাহর ইবাদতে নিমগ্ন হও। কয়েকটা দিনের জন্য সত্যিকারের মানুষ হও তোমরা। তোমাদের শোধরানোর জন্যই আল্লাহ পাঠিয়েছেন আমাকে। যত দিন তোমাদের ভেতর বোধের জন্ম না নিবে আমি পৃথিবী ছেড়ে যাব না। একেক করে ভাইরাসে ভরিয়ে দিব বিশ্ব। অর্থনীতির চাকা থামিয়ে দিব। অনাহারে থাকার মজা তখন বুঝতে পারবে। চরম আকালে পড়ে ভুলে যাবে সব পাপ। আর কত খোদার নাফরমানি করবে? আর কত গাফলতে কাটাবে? আল্লাহর ধ্বংসের দূত আমি। আমার কথা না শুনলে তোমাদের জন্য অপেক্ষা করছে আরও ভয়াবহ পরিস্থিতি। কত মানুষের প্রাণ যে আমি কেড়ে নিব তার কোনো হিসেবও তোমরা রাখতে পারবে না।

পাপিষ্ঠ মানুষ ভালো হয়ে যাও জলদি। আমাকে তোমরা গাল দিচ্ছ অথচ আমি তোমাদের আমলের প্রতিফল। এ ভাইরাস তোমাদের কর্মগুলোর বাস্তব রূপ। করোনা ভাইরাসের চেয়েও ভয়াবহ তোমাদের একেকজনের কর্মকাণ্ড।

আমি করোনা ভাইরাস। অতি ক্ষুদ্র এক কণা। আমার তাণ্ডব লীলা এখনও দেখানো শুরু করিনি আমি। ১৯৯ টি দেশে ইতোমধ্যে ছড়িয়ে পড়েছি। ৩০ হাজারের অধিক মানুষকে বিনা যুদ্ধে বিনা রক্তপাতে হত্যা করেছি। আক্রান্ত করেছি লক্ষ লক্ষ মানুষ। ভ্যাকসিন বানাতে ব্যস্ত বহু বিজ্ঞানী। আমাকে দমানো এভাবে সহজ হবে না। ৪০০ বার আমি আমার চেহারা পাল্টেছি। নিজেকে বদলানোর ক্ষমতা আমার আছে। আরও বেশি ভয়াবহ আকার নিয়ে আমি আসব। আরও মানুষের প্রাণ কেড়ে নিব। যত দিন এই মানুষ ঠিক না হয়। যত দিন এরা পরস্পর ঘৃণা বিদ্বেষ আর শত্রুতা ও কলহ শেষ না করে। শেষ করে দিব সব কিছু। মাটির সাথে মিশিয়ে দিব সবাইকে।

একটি বার্তা জানিয়ে এখানেই শেষ করছি কথা। আমি করোনা ভাইরাস। আমার এ বার্তা সবখানে পৌঁছে দাও। ভাইরাস হলেও তোমাদের প্রতি আমার শুভকামনা থেকেই বলছি। হে পাপিষ্ঠ মানুষ ভালো হয়ে যাও জলদি। আমাকে তোমরা গাল দিচ্ছ অথচ আমি তোমাদের আমলের প্রতিফল। এ ভাইরাস তোমাদের কর্মগুলোর বাস্তব রূপ। করোনা ভাইরাসের চেয়েও ভয়াবহ তোমাদের একেকজনের কর্মকাণ্ড। আমার একটিই বার্তা; তোমরা তোমাদের কর্ম শুদ্ধ করে নাও। মানুষের আমল বিমূর্ত। বিমূর্ত আমলের মূর্ত রূপ হচ্ছি আমি করোনা। তোমাদের কর্ম শুদ্ধ হলে আমার আক্রমণ বন্ধ হয়ে যাবে। তাই সব চিন্তা বাদ দিয়ে নিজেদের শোধরানোর চেষ্টা করো পাপাক্রান্ত বদের হাড়িরা। আবারও বলছি ভালো হয়ে যাও হতচ্ছাড়া পাপিষ্ঠরা। ধর্মের নামে সব অধর্ম আজই বন্ধ করো। সত্যিকার ইমানদার হবার চেষ্টা করো দুনিয়ার মানুষ।

লেখক : গবেষক ও সমাজ বিশ্লেষক

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *