সরল চিন্তা। কাজী আরশাদ হুসাইন
করোনার জন্য আমরাই কি দায়ি নই?
সারা বিশ্বের প্রায় দু তৃতীয়াংশে ছড়িয়ে পড়েছে এ করোনা ভাইরাস। ধীরে ধীরে বাড়ছে তার সংক্রমণ, মানুষেরা আজ গৃহবন্দী, রাস্তা ঘাটে যানজটের শূন্যতা, চারিদিকে ভয়াবহ এক পরিবেশ, মুখে মুখে কেবল এক আওয়াজ করোনা করোনা।
কি হলো এই পৃথিবীতে যার সবকিছু সৃজিত মানব জাতির ভোগের জন্য অথচ আজ ভোগ তো দূরের কথা শুধুই ভোগান্তি আর ভোগান্তি।
কিভাবে কিসের দরুন মানুষ হারালো খোদার নেয়ামত? খোদা কি স্ব ইচ্ছাই বদলে দিলেন তার প্রদত্ত এ নেয়ামত নাকি নেয়ামত ভোগের মেয়াদ শেষ প্রান্তে উপনীত?
না এসব তো কিছুই নয় বরং বনি আদম নিজেই আপন কুকর্মের দরুন হারালো এ নেয়ামত,,,,
ইরশাদ হয়েছে পবিত্র কুরআনে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা বলেন,
ذلك بأن الله لم يك مغيرا نعمة أنعمها على قوم حتى يغيروا ما بأنفسهم وأن الله سميع عليم.
(سورة الأنفال ٥٣)
অপর আরেক আয়াতে বলেন,
إن الله لا يغير ما بقوم حتى يغيروا ما بأنفسهم. (سورة الرعد ١١)
উল্লেখিত আয়াত দ্বয়ের মর্মের প্রতি দৃষ্টিপাত করলে সুস্পষ্টভাবে এটাই ফুটে উঠবে যে, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা যখন কোন জাতির উপর নেয়ামত দান করেন কখনো তিনি তা আর ফিরায় নেন না তথা বদলে দেন না যতক্ষণ না সে জাতি আপন কৃতকর্ম দ্বারা তা পরিবর্তিত করে ফেলে।
অতএব বনি আদম নিজেই পরিবর্তন করে ফেলেছে খোদা প্রদত্ত এ অমূল্য নেয়ামত।
কেন এই হতাশা
পৃথিবীব্যাপী এই হতাশা এটা কেবল মানুষ জাতির দুষ্কর্মের ফল ছাড়া আর কিছুই নয়। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা বলেন,
ظهر الفساد في البر والبحر بماكسبت أيدي الناس ليذيقهم بعض الذي عملوا لعلهم يرجعون. (سورة الروم ٤١)
অর্থাৎ ফ্যাসাদ প্রকাশিত হয়ে গেছে স্তলে ও জলে মানবজাতির কৃতকর্মের কারণে যাতে করে মহান স্রষ্টা তাদেরকে কর্মের স্বাদ আস্বাদন করাতে পারেন, সম্ভবত তারা ফিরে আসবে।
অন্য জায়গায় বলেন,
وبلوناهم بالحسنات والسيات لعلهم يرجعون.(سورة الأعراف ١٦٨)
অর্থাৎ আমি তাদেরকে ভালো ও মন্দের মাধ্যমে পরীক্ষা করি , সম্ভবত তারা ফিরে আসবে।
এ করুন দুরাবস্থায় একমাত্র রব সবকিছুর প্রবর্তক মহান আল্লাহর দরবারে ফিরে আসার কোন বিকল্প নেই।
কিরূপ পরিত্রাণ পেতে পারি আমরা
নেয়ামতের অকৃতজ্ঞতা আর অশ্লীলতা থেকে বের হতে পারলেই মুক্তি পেতে পারি আমরা করোনার এ কালো থাবা থেকে,,, কুরআনে ইরশাদ হয়েছে, যদি তোমরা কৃতজ্ঞ হও অবশ্যই আমি তোমাদের জন্য আরো বৃদ্ধি করবো আর যদি তোমরা অকৃতজ্ঞ হও তাহলে আমার শাস্তি অতি কঠিন। সূরা ইব্রাহীম : আয়াত ৭
অন্যত্র আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা ইরশাদ করেন, তোমরা আমার কৃতজ্ঞতা আদায় করো এবং আমার অকৃতজ্ঞ হয়ো না। সূরা বাকারা : আয়াত ১৫২
আমার এ মাটির দেহের সবকিছুই খোদা প্রদত্ত যা গঠিত কেবল দাসত্বের জন্য , যার থেকে সদা পরিস্ফুট হবে শুধু কৃতজ্ঞতায় আর কৃতজ্ঞতা।
উম্মাতে মোহাম্মাদি কি স্বীয় পাপের দরুণ পূর্বে অতিক্রান্ত জাতির ন্যায় সমূলে ধ্বংস হবে?
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা পূর্বে অসংখ্য নবী রাসুল প্রেরণ করেছিলেন। কাওকে কোন এলাকা আবার কাওকে কোন গোত্রের নবী করে পাঠিয়েছিলেন কিন্তু কতক কওম তার নবীকে অস্বীকার করে খোদার অবাধ্য হয়েছিল ফলে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা তাদের কে কঠিন শাস্তি দ্বারা ধ্বংস করে দেন যেমন:- আদ জাতি তাদের নবী হুদ (আ:) কে অস্বীকার করার কারণে প্রচন্ড ঝঞ্ঝা বায়ুর মাধ্যমে বিনাশিত হয়েছিল আর সামুদ গোত্র তাদের নবী সালেহ (আ:) কে প্রত্যাখ্যান করায় প্রলয়ংকার বিপর্যয় দ্বারা এবং কওমে লুত কে আপন বস্তিসহ উল্টে দেয়ার মাধ্যমে ধ্বংস করা হয়েছিল।
কিন্তু এ উম্মাতের উপর আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার বিশেষ করুনা ও অনুকম্পা রয়েছে। এ উম্মাত যতই পাপ করুক না কেন দয়ার সাগর তা আপন দয়ার দৃষ্টিতে ক্ষমা করবেনয় আর করোনার এ সংক্রমণ যতই বৃদ্ধি হোক না কেন এ উম্মাত কভু পূর্বে অতিক্রান্ত জাতির ন্যায় সমূলে ধ্বংস হতে পারে না। পবিত্র কালামুল্লাহয় ইরশাদ হয়েছে,
ما يفعل الله بعذابكم ٱن شكرتم وآمنتم وكان الله شاكرا عليما.
(سورة النساء ١٤٧)
যদি তোমরা ঈমান আনো এবং কৃতজ্ঞ হও তাহলে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা তোমাদের কে শাস্তি দিবেন না এবং আল্লাহ তায়ালা বিনিময় প্রদানকারী ও সর্বজ্ঞ । সূরা নিসা : আয়াত ১৪৭
আরেক আয়াতে কারিমায় বলেন,
وماكان الله ليعذبهم وأنت فيهم وما كان الله معذبهم وهم يستغفرون.
(سورة الأنفال ٣٣)
আল্লাহ তায়ালা এমন নন যে তাদের কে শাস্তি দিবেন এমতাবস্থায় আপনি তাদের মাঝে উপস্থিত এবং আল্লাহ তায়ালা তাদের কে শাস্তি দেবারও নন এমতাবস্থায় তারা ক্ষমা প্রার্থনা করবে। সূরা আনফাল : আয়াত ৩৩
হাদিসের মাঝে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন আল্লাহ আমার উম্মাতের মাঝে নিরাপত্তার দুটি কারণ রেখেছেন প্রথম হচ্ছে তাদের মাঝে আমার উপস্থিতি।আর দ্বিতীয় হচ্ছে তাদের ক্ষমা প্রার্থনা।
সুতরাং আমার দুনিয়া থেকে বিদায় গ্রহনের পরেও ক্ষমা প্রার্থনা কিয়ামত পর্যন্ত লোকদেরকে আল্লাহর আযাব থেকে রক্ষা করতে থাকবে। তিরমিযী শরীফ
হযরত আবু সাঈদ (রা:) থেকে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, শয়তান বলেছিলো হে আল্লাহ ! আপনার মর্যাদার কসম ! যে পর্যন্ত আপনার বান্দাদের দেহে রূহ থাকবে সেই পর্যন্ত আমি তাদেরকে বিভ্রান্ত করতে থাকবো। তখন আল্লাহ তায়ালা বলেন: আমার ইযযতের কসম ! যে পর্যন্ত তারা ক্ষমা প্রার্থনা করতে থাকবে সেই পর্যন্ত আমিও তাদেরকে ক্ষমা করতে থাকবো।
এখন যেহেতু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের মাঝে উপস্থিত নাই তাই আমাদের জন্য একটা ঢাল ও হাতিয়ার রয়েছে সেটি কেবল ক্ষমা প্রার্থনা আর এই ইস্তিগফারের মাঝে শোকর টিও নিহিত রয়েছে।
যত বেশি ইস্তিগফার করবেন ততই দ্রুত কেটে যাবে এ মহামারী। কোন ভয়ভীতি নয় সতর্ক থাকুন, ঈমানকে স্বচ্ছ করুন, আর বেশি বেশি ইস্তিগফার ও শোকর আদায় করুন।
وما توفيقي إلا بالله عليه توكلت وعليه فليتوكل المتوكلون
লেখক : প্রাবন্ধিক


