করোনা; কমেছে রুপির মান, বেড়েছে টাকার

করোনা; কমেছে রুপির মান, বেড়েছে টাকার

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের দরুন সারা বিশ্বেই চলছে নানামুখি মন্দা। বিপর্যয় নামিয়ে এনেছে প্রাণঘাতী এ ভাইরাস। এই ভাইরাসের ব্যাপক প্রভাব পড়েছে ব্যবসা-বাণিজ্যে। এতে চরম ক্ষতির মুখে পড়েছে বিশ্ব অর্থনীতি।

বৈশ্বিক ব্যবসা-বাণিজ্যের এই টালমাটাল অবস্থায় রেকর্ড মূল্যপতন হয়েছে প্রতিবেশী দেশ ভারতের মুদ্রা রুপির। তবে ভারতীয় রুপির বিপরীতে শক্তিশালী হয়ে উঠেছে বাংলাদেশের টাকার মান। সেই সঙ্গে ডলারের বিপরীতেও বেড়েছে টাকার মান।

রুপির নিম্নমুখী ধারায় চলতি সপ্তাহে রেকর্ড দরপতন হয়। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) একটা পর্যায়ে ১০০ রুপির দাম নেমে দাঁড়িয়েছিল ১১০ টাকায়। অতীতে কোনও সময় এত কম দামে রুপি পাওয়া যায়নি।

বিশ্লেষকদের মতে, করোনাভাইরাসের কারণে ইউরোপ, আমেরিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের অনেক দেশ ‘অবরুদ্ধ’ হয়ে পড়েছে। বৈশ্বিকভাবে ভ্রমণে বিধিনিষেধ আরোপ সামগ্রিক অর্থনৈতিক কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি করছে। ফলে সংক্রমণের হার নয় বরং ‘বিচ্ছিন্ন’ ও ‘অবরুদ্ধ’ করার নীতিই বিশ্ব অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। ফলে ডলার ও টাকার বিপরীতে রুপির মান অবমূল্যায়ন হয়েছে।

ইন্টারনেট মানি এক্সচেঞ্জ সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার এক মার্কিন ডলারে বিনিময়ে ভারতীয় মুদ্রার মূল্য দাঁড়িয়েছে ৭৫ দশমিক ৮৫ রুপি। এখন এক ডলারে পাওয়া যাবে ৭৫.৮৫ রুপি। চলতি সপ্তাহে মঙ্গলবার এটি এক পর্যায়ে প্রতি ডলার ৭৭ দশমিক ৩৩ রুপিতে নেমেছিল, যা রুপির ইতিহাসে সর্বনিম্ন দর।

ডলারের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে রুপির বিপরীতে বাংলাদেশি মুদ্রাও শক্তিশালী হচ্ছে। বুধবার একটা পর্যায়ে ১১০ টাকায় ১০০ রুপি পাওয়া গেছে। অন্যদিকে ১০০ রুপিতে মিলেছে ৯০ টাকা।

২৬ মার্চের তথ্য অনুযায়ী, প্রতি রুপিতে মান দাঁড়ায় ১ টাকা ১১ পয়সা। টাকার বিপরীতে রুপির এ দর এযাবৎকালের সর্বনিম্ন। এর আগে ২০১৮ সালে অক্টোবরে রুপিতে মান দাঁড়ায় ১ টাকা ১৩ পয়সা।

এদিকে প্রতি মার্কিন ডলারের বিপরীতে টাকার মান দাড়িয়েছে ৮৪ টাকা ০৮ পয়সা। তবে বাংলাদেশ ব্যাংক এখন বাণিজ্যিক ব্যাংকের কাছে ৮৪ টাকা ৯৫ পয়সা দরে ডলার বিক্রি করছে। তবে সাধারণ মানুষ, যারা ভ্রমণ করতে বিদেশে যাচ্ছেন, তাদের প্রায় ৮৮ টাকা দরে কিনতে হচ্ছে ডলার।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *