পাথেয় রিপোর্ট : আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষ্যে কাতারে অনুষ্ঠিত হয় আল-নূর বাংলা ভাষা সন্ধ্যা। আলনূর কালচারাল সেন্টারের উদ্যোগে ২২ ফেব্রুয়ারি (শুক্রবার) দোহার বিন যাইদ সেন্টারে আলনূর গবেষণা ও প্রকাশনা পরিচালক অধ্যাপক আমিনুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কাতার বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ড. আনোয়ারুল হাসান। বিশেষ অতিথি ছিলেন আলনূর শিক্ষা বিভাগীয় পরিচালক প্রকৌশলী সালাহউদ্দিন। সালেহ নূরুন্নবীর উপস্থাপনায় প্রাণবন্ত এ বাংলা সন্ধ্যায় সদ্যপ্রয়াত কবি আল মাহমুদের জীবন ও সাহিত্যকর্মের উপর আলোকপাত করেন বাংলাদেশ স্কুল এন্ড কলেজের প্রভাষক আবু শামা, শেকড়সন্ধানী লেখক শফিউদ্দিন সরদারের ঐতিহাসিক উপন্যাস ও গ্রন্থাবলি নিয়ে আলোচনা করেন বাংলাদেশ স্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষক তাফসিরুদ্দিন। ইসলামের দৃষ্টিতে বিশুদ্ধ মাতৃভাষা চর্চার গুরুত্ব বিষয়ে বক্তব্য রাখেন আলনূর শিক্ষা সহকারী মাওলানা মুস্তাফিজুর রহমান। কবিতা আবৃত্তিতে অংশ নেন সাংবাদিক শাহাবুদ্দিন শামিম ,কবি মফিজুর রহমান ও প্রকৌশলী তানিম আহমেদ ।
শিশু কিশোরদের জন্য আয়োজিত বাংলাবর্ণমালা প্রতিযোগিতার তত্ত্বাবধানে ছিলেন প্রকৌশলী বুলবুল আহমদ ও প্রকৌশলী মনিরুল হক। মহিলাদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখেন আলেমা সারা মাহমুদ। অনুষ্ঠানের শুরুতে কুরআন তিলাওয়াত করেন হাফেজ আবদুর রহমান। শেষে মুনাজাত করেন মাওলানা ইউসুফ নূর ।
ড. আনোয়ারুল হাসান ঘরোয়া পরিবেশে বিশুদ্ধ মাতৃভাষা চর্চার ব্যাপারে যত্নবান হওয়ার জন্য প্রবাসী মায়েদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, আল মাহমুদ ছিলেন কাব্যজগতে ইসলামী চেতনার বাতিঘর। আর আলনূর সেন্টার হলো ইসলামী সংস্কৃতি ও দেশীয় ঐতিহ্যের ইউনিক প্রতিষ্ঠান।
প্রভাষক আবু শামা বলেন, সমকালীন শ্রেষ্ঠ কবি আল মাহমুদ ছিলেন আবহমান গ্রামবাংলার মেহনতি মানুষের কাব্যকন্ঠ এক নন্দিত লোকজ কবি। তার অনবদ্য সৃষ্টি সোনালী কাবিনের প্রতিদ্বন্দ্বী আজো তৈরি হয়নি।
মরহুম শফিউদ্দিন সরদারকে কালজয়ী ঐতিহাসিক ঔপন্যাসিক আখ্যায়িত করে তাফসিরুদ্দিন বলেন, গৌড় থেকে সোনারগাঁও পর্যন্ত বিস্তৃত বাংলার কয়েক শতাব্দীর গৌরবময় মুসলিম শাসনের ইতিবৃত্ত কাহিনী আকারে তুলে ধরে আমাদের জাতীয় ইতিহাসকে সমৃদ্ধ করে গেছেন। পাঠক নন্দিত ইসলামি ঔপন্যাসিক শফিউদ্দিন সরদারের রাষ্ট্রীয়ভাবে মূল্যায়ন না হলে ও এদেশের তাওহিদি জনতার হৃদয়ে তিনি থাকবেন স্বমহিমায় ভাস্বর এতে কোন সন্দেহ নেই।


