কানাইঘাটের বন্যার্তদের পাশে ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ শাকির

কানাইঘাটের বন্যার্তদের পাশে ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ শাকির

কানাইঘাটের বন্যার্তদের পাশে ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ শাকির

কানাইঘাট প্রতিনিধি : একজন আলেম কারও গায়ে হাত বুলালে তা যেন জনগণ অমৃতের মতো গ্রহণ করে। আমাদের প্রিয় নবীজী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও সাহাবায়ে কেরাম যে সমাজ বিনির্মাণ করেছিলেন তাই আলোকিত সমাজ। সে ধারারই একজন জমিয়ত নেতা উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ শাকির ছুটে গেছেন সাধারণ বন্যার্তদের কাছে। এমন নিম্নাঞ্চল যেখানে আর কেউই যায়নি।

কানাইঘাট প্রতিনিধি জানিয়েছেন, সিলেটের কানাইঘাটের নিম্নাঞ্চলে উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ শাকির ছাড়া বানবাসীদের কেউ খবর নেয়নি। মেঘালয় থেকে নেমে আসা উত্তাল সুরমা ও সারী নদীর জোয়ারে সৃষ্ট টানা ভয়াবহ বন্যায় উপজেলার নিম্ন অঞ্চলের মানুষ চরম বিপাকে পড়েছেন। আর এই বিপাকে পড়া বন্যার্তদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করেছেন উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ শাকির।

মঙ্গলবার সকাল ১১ টায় আল্লামা মুশাহিদ (রাঃ) ফাউন্ডেশনের উদ্যেগে পৌরসভার হাওরাঞ্চল খেলুরবন্দ ও চতুল ইউপি’র সোনাতুলা গ্রামের শতাধিক বন্যার্ত পরিবারে এসব ত্রাণ বিতরণ করা হয়।

সরেজমিনে দেখা যায় ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ শাকির দুইটি নৌকা যোগে শতাধিক প্যাকেট ত্রাণ নিয়ে প্রকৃত অসহায় বন্যার্ত মানুষের দুয়ারে দুয়ারে গিয়ে ত্রাণ পৌঁছে দিচ্ছেন।

এ সময় তার সাথে উপস্থিত ছিলেন কানাইঘাট প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন, ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আসাদ আহমদ, কানাইঘাট সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি আব্দুর রহমান, ছাত্র নেতা মাওলানা জুনায়েদ শামসী।

গত ৫ দিনের টানা বন্যায় এখনো উপজেলার প্রায় ৫০ হাজার মানুষ পানিবন্দী রয়েছেন। বিশেষ করে নিম্ন অঞ্চলের মানুষ টানা বন্যায় অসহায় হয়ে পড়েছেন। তারা জানিয়েছেন আব্দুল্লাহ শাকির ছাড়া এই বান-বাসীদের কেউ খবর নেয়নি। এসময় অনেকের ঘরে হাঁটু পানি দেখা গেছে।

খেলুর বন্দ গ্রামের বিধবা মহিলা হাওয়ারুন নেছার একমাত্র ভরসা বর্তমানে বিছানার খাট। নিচে কাদা আর ঘরের উপরে সাপের সাথে যেন তার বসবাস। পুত্রহীন এই মহিলা আবদুল্লাহ শাকিরকে দেখে চোখের পানি ছেড়ে দিয়ে বলেন, ভাই ঘরের সাপ তাড়িয়ে দাও। এতে ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ শাকির সাপগুলো তাড়িয়ে দিলে হাওয়ারুনের মনে স্বস্তি ফিরে আসে। খেলুরবন্দ ও সোনাতুলা গ্রামের রাস্তার উপর দিয়ে এ রির্পোট লেখা পর্যন্ত বুক পানি প্রবাহিত হচ্ছিল।

বিপদ মুর্হুতে আব্দুল্লাহ শাকিরের ত্রাণ পেয়ে বান-বাসীদের মুখে কিছুটা হাসি ফুটে উঠেছে।

প্রসঙ্গত, আব্দুল্লাহ শাকির উপজেলার অবহেলিত বিভিন্ন জনপদের বন্যার্তদের খবর নিতে সাধ্য অনুযায়ী ত্রাণ নিয়ে এভাবেই ছুটেই চলেছেন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *