পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : কানাডার টরন্টোতে একটি মসজিদে হামলার চালানো এবং গণহত্যার পরিকল্পনাকারী এক ব্যক্তিকে আট বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। ২৫ জুলাই, মঙ্গলবার তার বিরুদ্ধে এ সাজা ঘোষণা করা হয়। খবর ইয়ানিশাফাক।
মামলার বিবরণীতে জানা গেছে, গত বছরের ১৯ মার্চ মোহাম্মদ মুইজ ওমর নামের এক যুবক টরন্টোর মিসিসাগায় দারুত তাওহিদ ইসলামিক সেন্টারে প্রবেশ করে সেখানে উপস্থিত লোকজনের ওপর হামলা চালান। তার হাতে সে সময় ভালুকের স্প্রে ও একটি কুড়াল ছিল। ফজরের নামাজের সময় এ হামলা চালানো হয়। তবে বড় ধরনের কোনো ক্ষতি করার আগে তাকে প্রতিরোধ করা হয়েছিল।
আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে মুইজ ওমর জানান, আগে তিনি মুসলিম থাকলেও এখন পুরোপুরি নাস্তিক। ইসলামবিদ্বেষী হয়ে ওঠার কারণে তিনি মুসলমানদের ভয় দেখাতে চেয়েছিলেন। আর সে কারণেই তিনি মসজিদে গণহত্যা চালাতে চেয়েছিলেন।
গত ১৯ জুলাই আদালত তিনটি অভিযোগে ওমরকে অভিযুক্ত করেন। অভিযোগ তিনটি হলো, শারীরিক ক্ষতি করার উদ্দেশ্যে বিষাক্ত পদার্থ (ভাল্লুক স্প্রে) পরিচালনা করা, অস্ত্র দিয়ে আক্রমণ এবং ধর্মীয় স্থাপনায় হামলা করা। এ সময় আদালত এ হামলাটিকে একটি সন্ত্রাসী হামলা হিসেবে চিহ্নিত করেন।
শুনানিতে দারুত তাওহীদ ইসলামিক সেন্টারের ইমাম ইব্রাহিম বলেন, হামলাটি ছিল ভয়ঙ্কর। হামলাকারী কোনো মানসিক রোগী ছিল না। বরং সে পরিকল্পিতভাবে মুসলমানদের ওপর গণহত্যা চালাতে চেয়েছিল।
তিনি আরও বলেন, বড় কোনো ক্ষতি করার আগেই তাকে থামানো সম্ভব হয়েছিল। মসজিদের মুসল্লিরা ওমরকে জপটে ধরেছিল। ফলে সে কুড়াল দিয়ে কাউকে আঘাত করতে পারেনি। তবে তার ভালুকের স্প্রেতে কয়েকজন আক্রান্ত হয়েছিল। এছাড়া তার হামলায় মসজিদের ১২ হাজার ডলারের বেশি সম্পদের ক্ষতি হয়েছিল।
কানাডায় কয়েক বছর ধরেই ইসলামবিদ্বেষী কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় বিভিন্ন সময় মসজিদের হামলার ঘটনাও বেড়েছে। মুসলিম সম্প্রদায় হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করে আসছিলেন। এবারের কারাদণ্ডের ঘটনায় এ ধরনের হামলা বন্ধে সাহায্য করবে বলে দেশটির মুসলিম নেতৃবৃন্দ মনে করেন।


