কাশ্মীরে প্রাণনাশের হুমকিতে ভারতীয় ২৪ পুলিশের পদত্যাগ

কাশ্মীরে প্রাণনাশের হুমকিতে ভারতীয় ২৪ পুলিশের পদত্যাগ

পাথেয় রিপোর্ট : কাশ্মীর নিয়ে ভারত পাকিস্তানের বিরোধ থাকলেও শাসন করছে ভারত সরকারই। সেখানে মোতায়েন করা ভারতীয় সৈন্যরাই এবার প্রাণনাশের হুমকির মুখে। তারা নিজেরাই এখন তাদের জীবন নিয়ে শঙ্কিত।

সূত্রে জানা গেছে, ভারত শাসিত এই কাশ্মীরে প্রাণনাশের হুমকিতে পড়া ২৪ জনেরও বেশি বিশেষ পুলিশ কর্মকর্তা (এসপিও) তাদের পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছে। সীমান্ত অঞ্চলে বিভিন্ন জঙ্গি গোষ্ঠীর উপদ্রব ঠেকাতে বিশেষ ব্যবস্থা নেয়া হলেও শুক্রবার ওই এলাকায় সন্দেহভাজন জঙ্গিদের হাতে তিন এসপিও সদস্য নিহত হয়েছে। জঙ্গিদের আত্মঘাতীমূলক আচরণে শঙ্কিত নিরাপত্তাকর্মীরা। তাই ওই তিন পুলিশের মৃত্যুর পরপরই বাকী ২৪ বা ততোধিক পুলিশরা পদত্যাগ করলেন। শনিবার বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমের বরাতে এ খবর জানা গেছে।

যদিও দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পদত্যাগের এ সংবাদ প্রত্যাখান করে বলেছে, এটি একটি ‘ভুয়া’ ও বানোয়াট খবর। তারা বিষয়টিকে অবিশ্বাসযোগ্য বলছে। তারা এটিকে অপপ্রচার হিসেবে আখ্যায়িত করছে।

ওইদিকে এসপিও’র বেশ ক’জন সদস্যের এক ভিডিও বার্তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় বিষয়টি আরো ঘোলাটে হয়েছে। সবাই এখন এটিকে সামনে নিয়েই নানান কথঅ বলছে। এতে তাদেরকে স্পষ্ট পদত্যাগপত্র প্রদর্শন করতে দেখা যাচ্ছে। ভিডিওতে পুলিশ কর্মকর্তার একজন বলছেন, ‘এমন পরিস্থিতিতে আমি প্রচণ্ড আতংকিত ফলে আমি চাকুরি ছেড়ে দিচ্ছি। আমি হলফনামা তৈরী করেছি এবং পদত্যাগের ফর্ম এনেছি। পদত্যাগের অনুমোদন নেয়ার জন্য আমি বৃহস্পতিবার পুলিশ বিভাগে গিয়েছি।’

এদিকে কাশ্মীরে দায়িত্বরত অন্যান্য পুলিশ ও সেনা সদস্যদের মধ্যেও বিরাজ করছে অস্থির প্রতিক্রিয়া। নিজ নিজ স্ত্রী, সন্তান ও পরিবারের কথা ভাবছে সবাই। সীমান্তে তাদের জীবন এখন অনিশ্চয়তার মুখে। কারণ, জঙ্গীরা এখানে আত্মঘাতী হামলা করে বসে। এ ক্ষেত্রে অধিকাংশ সময়ই দেখা যায় দু’পক্ষেরই মৃত্যু হয়। তাই এ অবস্থায় ভারতীয় পুলিশ সেনাদের চিন্তার যথেষ্ঠ কারণ আছে।

এখন দেখার বিষয় এমন একটি বিষয়কে ভারত সরকার কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করবে? তবে অবস্থা যাই হোক, একসঙ্গে ২৪জন বিশেষ পুলিশ অফিসারের পদত্যাগ স্বাভাবিকভাবেই সীমান্তে পাহারারত অন্যান্য সৈন্যদের মনোবলে চিড় ধরাবে বলে উল্লেখ করছে বিভিন্ন গণমাধ্যম। তাই অতিদ্রুত এ সমস্যার সমাধানে আসা ভারত প্রশাসনের জন্যই মঙ্গলজনক মনে করছে বিশেষ ব্যাক্তিবর্গ।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *