কুমিল্লা জেলা আলেম মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম ফোরাম গঠিত

কুমিল্লা জেলা আলেম মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম ফোরাম গঠিত

পাথেয় রিপোর্ট : যুগে যুগে মানবতাকে উদ্ধারের জন্য মুক্তিযুদ্ধ সংগঠিত হয়েছে দাবি করে বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামার মহাসচিব মাওলানা আবদুর রহিম কাসেমী বলেন, মানুষের মধ্যকার অসাম্প্রদায়িক মনোবৃত্তিকে ধ্বংস করতেই যুদ্ধ বাঁধিয়েছিল পাকিস্তানীরা। তারা ধর্মের নামে অধর্ম করেছে মুক্তিযুদ্ধে।

মওদুদীদের সমালোচনা করে মাওলানা কাসেমী বলেন, এ দেশের মানুষ যেহেতু ধর্মভীরু। তাই মওদুদীরা ধর্মের কথা উসকে দিয়ে, ফাতওয়া দিয়ে এ দেশের সাধারণ নারী-পুরুষের উপর ঝাঁপিয়ে পড়েছিল হানাদাররা। তারা ধর্ম টেনে আলেমদেরও কলঙ্কিত করেছে।

১৯ জুলাই বৃহস্পতিবার বিকালে কুমিল্লার মুক্তিযুদ্ধ কর্নারে আলেম মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম ফোরাম কুমিল্লা জেলা শাখা আয়োজিত মতবিনিময় সভার প্রধান অতিথির আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন।


জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে ক্ষমতায় যাওয়ার দৌড়ে যে নির্বাচনী ঐক্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে তাতেই আলেমদের স্বাতন্ত্র‌্য বিনষ্ট হয়েছে। হাজার মিছিল আর সেমিনার করেও সেই তলানী থেকে আমরা আর উঠতে পারছি না।


আলেম মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম ফোরামের প্রেসিডেন্ট মাওলানা সদরুদ্দীন মাকনুন বলেছেন, জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে ক্ষমতায় যাওয়ার দৌড়ে যে নির্বাচনী ঐক্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে তাতেই আলেমদের স্বাতন্ত্র‌্য বিনষ্ট হয়েছে। হাজার মিছিল আর সেমিনার করেও সেই তলানী থেকে আমরা আর উঠতে পারছি না।

বঙ্গবন্ধুকে স্বপরিবারে হত্যার পর আইয়্যামে জাহেলিয়ার শাসন শুরু হয়েছিল উল্লেখ করে মাওলানা মাকনুন বলেন, সে সময় স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে কাগজে কলমে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে যেভাবে বিকৃত করে পড়ানো হয়েছে সেই রেশ এখনো কাটেনি। সে চিন্তাধারার প্রশিক্ষকদের চিহ্নিত করা সময়ের দাবি।

সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামার মহাসচিব মাওলানা আবদুর রহীম কাসেমী, সাংবাদিক মাওলানা মাসউদুল কাদির, আইনজীবী রাশেদুল আলম মোল্লা, আবিদুর রহমান জাহাঙ্গির, সারওয়ার আলম ভূইঁয়া, হাজী সফিউল্লাহ পলিন, মুক্তিযোদ্ধা সন্তান মাওলানা আলাউদ্দীন, মাওলানা এনামুল হক প্রমুখ।

স্বাগত ভাষণে মাওলানা সারওয়ার আলম ভূইঁয়া বলেন, মুক্তিযুদ্ধে আলেম-উলামা, ইমাম ও দ্বীনদার অনেক মানুষও অংশগ্রহণ করেছিল। আলেম মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম ফোরাম সে কথাগুলোই তুলে ধরতে চায়।

ফোরামের সাংগঠনিক সম্পাদক আইনজীবী রাশেদুল আলম মোল্লা বলেন, বাংলাদেশকে সবাই মিলে ভালোবাসতে চাই। মুক্তিযুদ্ধে সবচেয়ে বেশী শহীদ হয়েছে আমাদের মুসলিম ভাইবেরাদর। আমরা তাদের কথা তুলে ধরতে চাই।

নিজেকে ভাষা সংগ্রামী ও মুক্তিযোদ্ধার সন্তান উল্লেখ করে হাজী সফিউল্লাহ পলিন বলেন, এ ফোরামের যাত্রা কুমিল্লায় শুরু হতে দেখে আমরা আনন্দিত। মুক্তিযুদ্ধের সব চিন্তার সঙ্গে আমরা খুব কাছে পেয়েছ সময়ে সাহসী আলেম আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদকে। এখন তার সুযোগ্য সন্তান যে আহ্বান নিয়ে এসেছেন তাতে আমরা অনেক খুশি।

মাওলানা এনামুল হক বলেন, একটা পক্ষ সবসময় মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে আলেমদের ব্যবহারের চেষ্টা করেছে। ৪৭ বছরে আমরা মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারিনি। আলেম মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম ফোরাম আলেমদের মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে সহায়তা করবে।

কুমিল্লা কান্দিরপাড় মসজিদের ইমাম মাওলানা আমিনুল্লাহ বলেন, একাত্তর আমাদের এক কলঙ্কজনক অধ্যায়। ধর্মের কথা বলে আলেমদেরকে মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে ব্যবহারের চেষ্টা করেছে।

স্বীকৃতি বিষয়ে আশ্বাস প্রকাশ করে বলেন, আল্লামা আজিজুল হক রহ. মুক্তাঙ্গনে তিন দিন শুয়ে থাকলেও কেউ তাকে দেখতে যায়নি। স্বীকৃতির আশ্বাসও দেয়নি। তারা ধর্মের ব্যবহার করেছে। লেবাসী ছিল। ধর্মের জন্য কাজ করেনি।

পরে কুমিল্লার মুক্তিযোদ্ধার সন্তান মাওলানা আলাউদ্দীনকে আহ্বায়ক ও মাওলানা এনামুল হককে সদস্য সচিব করে একটি কুমিল্লা জেলা আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়।
কমিটি বিস্তারিত পরে আসছে

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *