কুলাউড়ার টাট্রিউলি ছিল জঙ্গিদের সেফ হাউস : সিটিটিসি

কুলাউড়ার টাট্রিউলি ছিল জঙ্গিদের সেফ হাউস : সিটিটিসি

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার কর্মধা ইউনিয়নের টাট্রিউলি জঙ্গিদের কাছে সেফ হাউসের মতো ছিল বলে দাবি করেছেন কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের প্রধান আসাদুজ্জামান।

মঙ্গলবার (১৫ আগস্ট) বিকেলে মৌলভীবাজার পুলিশ লাইনসে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে গ্রেপ্তার জঙ্গিদের জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে তিনি এ দাবি করেন।

মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার কর্মধা ইউনিয়নের দুর্গম কালাপাহাড় এলাকায় নতুন জঙ্গি আস্তানার সন্ধানে মঙ্গলবার (১৫ আগস্ট) সকাল থেকে অভিযান চালায় ঢাকা মহানগর পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট, সোয়াত, মৌলভীবাজারের গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও কুলাউড়া থানা-পুলিশ। অভিযান শেষে মৌলভীবাজারে এক ব্রিফিংয়ের আয়োজন করে জেলা পুলিশ। ব্রিফিংয়ে বক্তব্য দেন সিটিটিসির প্রধান আসাদুজ্জামান।

সিটিটিসির প্রধান বলেন, ‘গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কাছ থেকে এটুকু জেনেছি, টাট্রিউলি ছিল জঙ্গিদের সেফ (আশ্রয়) হাউসের মতো। জঙ্গিরা এ রকম আশ্রয় হাউসে সদস্যদের জড়ো করে পরে গভীর অরণ্যে নিয়ে যাবে। তারপর তাদের প্রয়োজনমতো কাজ করবে। নতুন আবিষ্কার করা আস্তানাটি এত দূরে, সেখানে পৌঁছাতে না পারলে খোঁজ পাওয়া যেত না। আস্তানা আবিষ্কার করেছি, সবকিছু জেনেছি। আসামিদের কাছ থেকে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাব।’

আসাদুজ্জামান বলেন, আজ সকাল সাতটায় কর্মধা ইউনিয়ন কার্যালয় থেকে তাঁরা কালাপাহাড়ে গন্তব্যের উদ্দেশে রওনা দেন। কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যে তারা পৌঁছান দুপুর ১২টায়। ২০টির মতো পাহাড়ে ওঠানামা করেছেন। চার ঘণ্টার বেশি সময় তাঁরা দুর্গম পথ পাড়ি দিয়ে নতুন ক্যাম্প আবিষ্কার করতে সক্ষম হন। আটক ১৭ জঙ্গির মধ্যে দুজনের দেখানো পথে সেই আস্তানার খোঁজ পাওয়া গেছে। টাট্রিউলি ও কালাপাহাড়ের নতুন আবিষ্কার করা আস্তানার মধ্যে তারা নিয়মিত আসা-যাওয়া করত।

কালাপাহাড় থেকে ফিরছেন অভিযানে অংশ নেওয়া আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। মঙ্গলবার বিকেলে মৌলভীবাজারের কুলাউড়ার কর্মধায়কালাপাহাড় থেকে ফিরছেন অভিযানে অংশ নেওয়া আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। মঙ্গলবার বিকেলে মৌলভীবাজারের কুলাউড়ার কর্মধায়
পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, নতুন আবিষ্কার করা আস্তানায় তারা তিনটি ঘরে থাকত। একটি ঘরের পাশে মাটির নিচ থেকে ৬ কেজি বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়েছে। ১৪টি পিস্তলের গুলি পাওয়া গেছে। নতুন ক্যাম্পের স্থানে আরও স্থাপনা তৈরি করতে গাছপালা কেটে পরিষ্কার করা হয়েছে। স্থানীয় সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালকদের বুদ্ধিমত্তা ও সহায়তায় আটক ১৭ জনের মধ্যে সিটিটিসি যাদের খুঁজছে, যারা আগের মামলার আসামি, এমন কিছু ব্যক্তি আছে। তাদের ব্যাগ ও অন্যান্য সামগ্রী হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ। ব্যাগ থেকে কিছু বিস্ফোরক, নগদ ২ লাখ টাকা ও ৯৬টি ডেটোনেটর উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে কিছু ডেটোনেটরের সংযোগ দেওয়া ছিল। এতে যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারত।

এক প্রশ্নের জবাবে আসাদুজ্জামান বলেন, ‘আটক ১৭ জনের মধ্যে খুবই গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র পেয়েছি, যারা এ সংগঠনের নেতৃস্থানীয়। এর মধ্যে ইমাম মাহমুদ বা কারা নেতৃস্থানীয়, আমরা যাদের ঢাকা নিয়ে গেছি, তাদের দিয়ে শনাক্ত করলে নিশ্চিত হব কোন ব্যক্তি কে? আমরা তো তাদের চিনি না।’

তিনি বলেন, তাদের কাছ থেকে নতুন তথ্য পাওয়া যাচ্ছে, এ তথ্যের ভিত্তিতে কাজ করা হবে। কর্মধার অভিযান সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে বলে তিনি জানান।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *