পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : মোহাররম মাসের ১০ তারিখ কারবালার ময়দানে ‘হযরত হুসাইন রাযিয়াল্লাহু আনহুর শাহাদাতকে কেন্দ্র করেই আল্লাহ তাআলা মোহাররম মাসকে সম্মানিত করেছেন’ এমন বিশ্বাস শরীয়তের দৃষ্টিতে সঠিক নয় বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামার চেয়ারম্যান ও শোলাকিয়া ঈদগাহের গ্র্যান্ড ইমাম, শাইখুল ইসলাম আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ।
তিনি বলেন, মুসলমানদের ইতিহাসে সবচেয়ে স্মরণীয় মাস মোহাররম। এমাসে আল্লাহ তাআলা অনেক বড় বড় ঘটনা ঘটিয়েছেন এবং ঘটাবেন। অথচ সমাজে এক শ্রেণীর মানুষ মনে করে ও বিশ্বাস করে যে, কেবল কারবালার ময়দানে হযরত হুসাইনের শাহাদাতকে কেন্দ্র করেই আল্লাহ তাআলা আশুরাকে সম্মানিত করেছেন, যা ইসলামী শারীআ অনুযায়ী একেবারেই সঠিক নয়। নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পর আর কোনো ঘটনা, কোনো কিছুই শরীয়তের বিধিবিধান হিসাবে গণ্য হবে না। সুতরাং আমাদেরও এই ভ্রান্ত বিশ্বাস থেকে সরে আসা উচিত।
বাঙালি মুসলমানদের মাঝে আশুরা সম্পর্কে এই ভুল ধারণার পেছনে মীর মোশাররফ হোসেনের ‘বিষাদ সিন্ধু’রও দায় আছে —যোগ করেন তিনি।
আজ শুক্রবার (২৯ জুলাই) ইকরা ঝিল মসজিদ কমপ্লেক্সে জুমার বয়ানে সাইয়্যিদ আসআদ মাদানী রহ.-এর খলীফা আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ এসব কথা বলেন।
মোহাররম ও আশুরার গুরুত্ব ও ফজিলত বর্ণনা করতে গিয়ে বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামার চেয়ারম্যান বলেন, ইসলামে চারটি মাসকে বিশেষভাবে সম্মানিত ঘোষণা করা হয়েছে। এ চারটি মাসের মধ্যে অন্যতম হলো মোহাররম মাস আর এই মাসেরই দশম দিবসটি আশুরা হিসেবে পরিচিত। এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি দিন।
- আরও পড়ুন: মহাররম ও আশুরা সম্পর্কিত আয়াত এবং হাদিস
মোহাররম মুসলমানদের বিজয়ের ও শোকের মাস মন্তব্য করে শোলাকিয়া ঈদগাহের গ্র্যান্ড ইমাম বলেন, মোহাররম মাসের ১০ তারিখ আশুরার দিনে আল্লাহ তাআলা তাঁর নবী মুসা আ. ও তাঁর অনুসারী ইমানদারদের ফেরাউনের জুলুম থেকে নাজাত দিয়েছিলেন এবং এদিনে ফেরাউনকে তার বাহিনীসহ সমুদ্রে ডুবিয়ে মেরেছেন। তবে আশুরার দিনে ফোরাত নদীর তীরে কারবালার প্রান্তরে নবীর দৌহিত্র হজরত হোসাইন রা.-এর শাহাদাত এমাসকে বিশ্ববাসীর কাছে সর্বাধিক স্মরণীয় করে রেখেছে।
আশুরার রোজা সব নবীর আমলেই ছিল উল্লেখ করে শোলাকিয়া ঈদগাহের গ্র্যান্ড ইমাম বলেন, হিজরতের পর মদিনায় এসে নবীজি দেখতে পেলেন, ইহুদিরাও এই দিনে রোজা রাখছে। প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদের এই দিনে রোজা রাখার কারণ জানতে চাইলেন। জানতে পারলেন— এই দিনে আল্লাহ তাআলা বনি ইসরাইলদেরকে ফেরাউনের জেলখানা থেকে উদ্ধার করেন এবং হযরত মুসা আ. এর মু‘যিজার মাধ্যমে তারা লোহিত সাগর অতিক্রম করে। আর ফেরাউন সেই সাগরে ডুবে মারা যায়। তাই কৃতজ্ঞতা প্রকাশের জন্য ইহুদিরা এই দিন রোজা রাখে।
নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, মুসা আ.-এর সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক ইয়াহুদীদের চেয়ে বেশি ঘনিষ্ঠ ও অগ্রগণ্য। এরপর তিনি ১০ মোহাররমের সঙ্গে আরও একটি দিন মিলিয়ে (৯ বা ১১ মোহাররম) মোট ২টি রোজা রাখার কথা বললেন, যেন ইহুদিদের সঙ্গে মুসলমানদের সাদৃশ্য না হয়।
আল্লামা মাসঊদ বলেন, আসুন, আশুরার দিনে সব ধরনের কুসংস্কার ও গর্হিত রুসম-রেওয়াজ থেকে বেঁচে কুরআন-সুন্নাহ মোতাবেক চলে তওবা-ইস্তেগফার, নফল রোযা এবং অন্যান্য নেক আমল করি।



