কেরালার তরুণ-তরুণীরা সিএএ’র প্রতিবাদে মুসলিম পোশাক পরে চার্চে

কেরালার তরুণ-তরুণীরা সিএএ’র প্রতিবাদে মুসলিম পোশাক পরে চার্চে

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও অমিত শাহর বিজেপি সরকারের বিতর্কিত নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের (সিএএ) প্রতিবাদে সরব গোটা ভারত। সেই প্রতিবাদে শামিল হয়ে অভিনব এক কর্মসূচি পালন করলেন কেরালার কোঝেনচেরি শহরের একদল তরুণ-তরুণী। তারা চিরাচরিত মুসলিম পোশাক পরে হাজির হয়েছেন চার্চে, করেছেন বড়দিনের প্রার্থনাও।

সিএএ’র মতো সাম্প্রদায়িক আইনের প্রতিবাদে এবং ভারতীয় মুসলিমদের প্রতি ভ্রাতৃত্ব-প্রকাশে তরুণ-তরুণীদের এই অভিনব ঘটনার ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। আর তা দেখে উচ্ছ্বসিত নাগরিকরা কুর্নিশ জানাচ্ছেন ওই যুবক-যুবতীদের।

কোঝেচেরি শহরের মার্থোমা চার্চের ঘটনাটির ভিডিওতে দেখা যায়, খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের ওই তরুণ-তরুণীদের পরনে মুসলিম পোশাক। তরুণরা পরেছেন পাঞ্জাবি এবং টুপি। আর তরুণীরা পরেছেন হিজাব। তারা এই পোশাকেই অংশ নেন বড়দিনের প্রার্থনায়।

মোদি-অমিতের সরকার বিতর্কিত নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন পাস করলে প্রথমেই এর বিরুদ্ধে আসাম-ত্রিপুরা-মেঘালয়সহ দেশটির উত্তর-পূর্বের রাজ্যগুলোতে বিক্ষোভ শুরু হয়। ক্রমেই দিল্লি, উত্তর প্রদেশ, কর্ণাটকসহ গোটা দেশে প্রতিবাদ-বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষোভ ঠেকাতে বিভিন্ন জায়গায় নির্বিচারে গুলি ছুড়ছে পুলিশ। এতে কেবল উত্তর প্রদেশেই প্রাণ হারিয়েছে ২১ জন, যাদের বেশিরভাগেরই মৃত্যু হয়েছে বুলেটের আঘাতে।

নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনে পাকিস্তান, আফগানিস্তান ও বাংলাদেশ থেকে ‘নির্যাতিত’ হয়ে ভারতে আশ্রয় নেয়া অমুসলিম নাগরিকদের নাগরিকত্ব দেয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা বলছেন, এর মাধ্যমে ভারতের সংখ্যালঘু মুসলিমদের নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত করার পথ প্রশস্ত করা হয়েছে। এছাড়া ধর্মের ভিত্তিতে নাগরিকত্ব দেয়ার এ আইন ভারতের ধর্মনিরপেক্ষ সংবিধানের পরিপন্থী।

দেশকে এমন সাম্প্রদায়িক বিভাজনের ঝুঁকিতে ফেলে দেয়ায় মোদি-অমিতের সমালোচনা চলছে ভারতজুড়ে। অটল বিহারী বাজপেয়ী সরকারের মন্ত্রিসভার সদস্য ও বিজেপি পদত্যাগী নেতা যশবন্ত সিনহা শনিবার মহাভারতের কুরুক্ষেত্রের নেতিবাচক দুই চরিত্র দুর্যোধন ও দুঃশাসনের সঙ্গে তুলনা করেন মোদি ও অমিতকে। তিনি বলেন, ভারতের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর টুকরো টুকরো গ্যাংয়ে মাত্র দু’জন সদস্য রয়েছেন- দুর্যোধন এবং দুঃশাসন। তারা দু’জনই বিজেপিতে। তাদের ব্যাপারে সচেতন হোন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *