নিজস্ব প্রতিবেদক : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের ওপর দফায় দফায় হামলার ঘটনা ঘটেছে। শনিবার সকাল পৌনে ১১টা থেকে হামলা শুরু হয়। থেমে থেমে দেড়টা পর্যন্ত কোটা আন্দোলনের সামনের দিকের নেতাদের ধরে ধরে মারধরের খবর পাওয়া যায়। ঢাবি সেন্ট্রাল লাইব্রেরির সামনে এবং শাহবাগে পাবলিক লাইব্রেরির সামনে কোটা আন্দোলনের নেতাদের ওপর এসব হামলার ঘটনা ঘটে। শনিবার দুপুর পর্যন্ত দুই যুগ্ম আহ্বায়কসহ আহত সাত জনকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তবে ঢাবির প্রক্টর এ কে এম গোলাম রব্বানি দাবি করেছেন, কোনও সাধারণ ছাত্রছাত্রী হামলার শিকার হয়নি এবং কারা হামলা চালিয়েছে তাও তারা জানেন না।
শনিবার বেলা ১১টার দিকে ঢাবি ক্যাম্পাসে কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের সংবাদ সম্মেলন হওয়ার কথা ছিল। এর কারণে আন্দোলনের নেতারা ক্যাম্পাসে আসছিলেন। তবে আগে থেকেই ঢাবি সেন্ট্রাল লাইব্রেরির সামনে হামলাকারীরা সংগঠিত হচ্ছিল বলে জানান প্রত্যক্ষদর্শীরা। তারা জানান, পৌনে ১১টার দিকে কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের একটি দল কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে আসার পর ‘শিবির ধর’ ‘শিবির ধর’ বলে অতর্কিত হামলা চালানো হয়। এ সময় বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল হক নূরকে ঘিরে ধরে মারধর করা হয়। তার নাক-মুখ ফেটে রক্ত বের হতে দেখা যায়। পরে শিক্ষকরা তাকে উদ্ধার করে লাইব্রেরির ভেতরে নিয়ে যান। লাইব্রেরির সামনে আরও কয়েকজন ছাত্রকে মারধর করা হয়। এ সময় তাদের মোবাইল ও মানিব্যাগ ছিনিয়ে নেওয়া হয়।
বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ককে মারধরের পর তাকে প্রায় ৩০ মিনিট লাইব্রেরিতে রাখা হয়। পরে লাইব্রেরির পেছনের দরজা দিয়ে লাইব্রেরি কর্তৃপক্ষ নূরকে আহত অবস্থায় প্রক্টরিয়াল বডির গাড়িতে তুলে দেয়। তাকে ঢাকা মেডিক্যালে চিকিৎসার জন্য নেওয়া হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নূরকে মারধরের পর আশপাশের সাধারণ ছাত্রদের ওপরও হামলা চালানো হয়। এদিকে ঢাবির অর্থনীতি বিভাগের শেষ বর্ষের ছাত্র আমির আব্দুল্লাহ বলেন, আমি লাইব্রেরিতে পড়তে আসছিলাম। বাইরে বের হতেই আমাকে নৃশংসভাবে পেটানো হয়েছে।
বেলা ১২টার দিকে আবার ছাত্রদের ওপর হামলা চালানো হয়। ঢাবির বিশ্ব ধর্ম ও সংস্কৃতি বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র মো. আরশকে মাটিতে ফেলা লাথি ও মারধর করতে দেখা যায়।
দুপুর পৌনে ১টার দিকে লাইব্রেরির সামনে একটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়। বেলা দেড়টার দিকে পাবলিক লাইব্রেরির ভেতর থেকে ধরে এনে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক জসিমকে মারধর করা হয়েছে। জসিমকে শাহবাগ থানায় সোপর্দ করার পর পুলিশের গাড়িতে করে ঢামেকে নেওয়া হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী জানান, পাবলিক লাইব্রেরির ভেতর থেকে পাঁচ জন ছাত্রকে ডেকে বাইরে নিয়ে মারধর করা হয়েছে।
বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের আহ্বায়ক হাসান আল মামুন বলেন, সংবাদ সম্মেলনের উদ্দেশ্যে সকাল ১০টা ৫০ মিনিটে আমরা গ্রন্থাগারের সামনে আসি। আমরা দাঁড়ানোর কিছুক্ষণের মধ্যে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা হামলা চালায়। এতে আমাদের অন্তত পাঁচ জন আহত হয়েছে বলে জানতে পেরেছি। আহতদের মধ্যে যুগ্ম আহ্বায়ক নূরের অবস্থা গুরুতর।
তবে হামলা চালানোর অভিযোগ অস্বীকার করে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন বলেন, ছাত্রলীগ কোনও হামলা চালায়নি। ছাত্রলীগ ক্যাম্পাসে সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে বদ্ধপরিকর। আমরা শুনেছি আন্দোলনকারীদের দুই গ্রুপের মধ্যে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
এদিকে হামলার বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর এ কে এম গোলাম রব্বানি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় শনিবার বন্ধ। কিন্তু লাইব্রেরি খোলা থাকার কারণে শিক্ষার্থীরা সেখানে পড়তে গিয়ে বাধার সম্মুখিন হয়েছিল। ফলে পাঠাগার কর্তৃপক্ষ আন্দোলনকারীদের সেখান থেকে চলে বলে। হামলার ঘটনা ঘটেনি। প্রক্টরিয়ার বডি আমাকে অবহিত করেছে কোনও সাধারণ শিক্ষার্থীর ওপর হামলা হয়নি। কারা হামলা করেছে তাও আমরা জানি না।


