কোথায় চলেছো বোন

কোথায় চলেছো বোন

মাওলানা আমিনুল ইসলাম : পৃথিবীটা খুবই সুন্দর। আরো বেশী সুন্দর মনে হয় তোমার কাছে। সব কিছু সাজানো গোছানো। আরো বেশী দৃষ্টি নন্দন মনে হয় তোমার চোখে।

এক সময় তোমার কেউ ছিল না। আমরাই ছিলাম তোমার আপন। তুমি ছিলে একেবারে ছোট্ট। একদম অসহায় ছিল তোমার অবস্হা। তুমি ঠিকমত নড়া- চড়া করতে পারতে না, আম্মু তোমাকে সব সময় কোলে কোলে রাখত।

আম্মু সাংসারিক কাজে বেরিয়ে গেলে, আমরা তোমাকে কোলে নিয়ে ঘুরে বেড়াতাম। তুমিতো অবুঝ ছিলে, একটু পরপর তুমি আমাদের কোলে পেশাব করে দিতে। কখনো পায়খানা করতে আমাদের কোলে, কিন্তু আমরা কোনদিন ঘৃনা করিনি। তোমাকে বুকে নিয়েই ঘুরে বেড়াতাম আমরা।

তুমি একটু বড় হলে, কথা বলা শিখলে। তোমার কত আবদার ছিল, কত প্রশ্ন ছিল, সব আবদারই পুরণ করার চেষ্টা করতাম। তোমার সকল প্রশ্নের উত্তর দিতাম আমরা।

আমাদের সংসারে অভাব-অভিযোগ ছিল। কিন্তু তারপরেও তোমার আবদার আমরা রেখেছি। তোমার চাহিদা গুলো পুরণ করার চেষ্টা করেছি। ঈদের সময় আমাদের ফ্যামিলীর সকলের কাপড়-চোপড় দেওয়া সম্ভব হয়নি। বাবা একা মানুষ। তিনি তো পেরে দিতেন না। আমরা আমাদের টিফিনের টাকা বাঁচিয়ে ঈদের সময় তোমাকে নতুন জামা কিনে দিতাম। শুধু মাত্র তোমার মুখের হাসি দেখার জন্য।

তুমি আরো বড় হলে, তোমাকে স্কুলে ভর্তি করা হল। আমরা অন্যান্য ভাই- বোনের পড়ার খরচ দিতে বাবা হিমশিম খেতেন। কিন্তু তুমি ছিলে আমাদের নয় ভাই বোনের সব চেয়ে ছোট। বাবা তোমাকে লেখা পড়ার খরচ চালাতে কখনো কোন চ্যু- চেরা করেন নি। বরং বাবার শত কষ্টের মধ্য দিয়ে তোমার খরচ চালাতেন।

স্কুল পেরিয়ে কলেজে গেলে তুমি। তোমাকে কলেজ বিশ্ব বিদ্যালয়ে পড়ানোর ক্ষমতা আমার পিতার ছিল না। আমরা ভাই-বোন মিলে তোমার লেখা পড়ার খরচ চালিয়েছি। আমাদের শত কষ্টের মধ্যেও তোমার খরচ চালিয়েছি, কিন্তু তোমাকে কোনদিন আমাদের কষ্ট বু্ঝতে দেইনি। শুধু মাত্র তোমার ভবিষ্যত, তোমার সুখ শান্তির চিন্তা করেছি।

আমাদের অভাব-অনাটন পরিবারের ছোট বোন হলেও কোনদিন তোমার কষ্টের চিন্তা আমাদের মাথায় আসেনি। তোমার শান্তিময় জীবনের চিন্তাই আমরা করেছি সারা জীবন।

তুমি এখন বড় হয়েছ, তোমাকে নিয়ে আমরা অনেক স্বপ্ন দেখি, তোমাকে সু-পাত্র তুলে দিব। খোদা ভীতি ওয়ালা কোন মানুষের সাথে তোমার শুভ পরিণয় হবে।

বড় দুঃখের বিষয়, তুমি আমাদের সকল স্বপ্ন ভেঙে দিলে। কোন অজানার পথে পা বাড়ালে। কাউকে না বলে, এমনকি মাতা- পিতার কাছেও কিছু জানালেনা। হঠাৎ একদিন তুমি পালিয়ে চলে গেলে।

তাহলে আমরা কি তোমার কেউ নই? এই মা-বাবা কি তোমার নয়? এই ভাই বোনকি তোমার নয়?
তুমি তোমার সুখ-শান্তির জন্য নিজে নিজেই কাউকে না বলে অজানার উদ্দেশ্যে পাড়ি জমালে, এটা কেমন হলো বোন?
তুমি তো আমাদেরকে তোমার পছন্দের কথা কোনদিন বলনি? তাহলে এভাবে কেন গেলে? আমরা তোমাকে আদর স্নেহ করতাম, তাহলে এটা কি আমাদের অপরাধ ছিল?
হে বোন! তুমি ভুল পথে পা বাড়িয়েছ, তুমি ফিরে আস। অবৈধ প্রেম ভালবাসার মধ্যে কোন শান্তি থাকতে পারে না। সাময়িক হয়ত কদিন তুমি সুখ লাভ করবে। কিন্তু এই অবৈধ প্রেম ভালবাসার জন্য অনন্তকাল তোমাকে শাস্তি ভোগ করতে হবে।

আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনে পর্দার বিধান দিয়েছেন, তুমিতো সেই পর্দার খেলাফ করেছ। আল্লাহ তায়ালা কুরআনে পাকে দৃষ্টিকে অবনত করার কথা বলেছেন, দৃষ্টির হেফাজতের কথা বলেছেন। কিন্তু তুমি তো তোমার দৃষ্টির হেফাজত করনি।

আর আল্লাহর এই বিধান লঙ্ঘন এর কারণে তোমাকে কঠিন শাস্তি ভোগ করতে হবে। এমনি ভাবে তুমি যদি অবৈধ ভাবে পর পুরুষের সাথে মেলামেশা কর, বা পর পুরুষের সাথে আড্ডা দেও, তাহলে তোমাকে জাহান্নামের শাস্তি ভোগ করতে হবে। মনে রেখ, আখেরাতের আজাব কিন্তু অনেক কঠিন।

লেখক : শিক্ষক ও সমাজ বিশ্লেষক

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *