ক্রাইম ফ্রি জোনে নেই অপরাধ

ক্রাইম ফ্রি জোনে নেই অপরাধ

নিজস্ব প্রতিবেদক : বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের ক্রাইম ফ্রি জোনে কড়া নজরদারিতে গত এক মাসে কোনো অপরাধ ঘটেনি বলে দাবি করেছে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী। সীমান্তের দুই পাশের স্থানীয় বাসিন্দারাও এখন ওই জোনের আট দশমিক তিন কিলোমিটার এলাকায় স্বস্তিতে বসবাস করার কথা বলেছেন। গত ৯ মার্চ যশোরের শার্শা সীমান্তের বিপরীতে ভারতের উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার বনগাঁও সীমান্তে ৬৪ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের কাল্যানী বিওপির দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় এই ক্রাইম ফ্রি জোনের উদ্বোধন করে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও ভারতের বর্ডার সিকিউরিরিটি ফোর্স (বিএসএফ)। চোরাচালান, নারী ও শিশু পাচার, মানব পাচার, মাদক, অস্ত্র ও বিস্ফোরক পাচার এবং সন্ত্রাসী কর্মকা-ের মত আন্তঃসীমান্ত অপরাধ বন্ধ করাই এ জোন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য। আর এই লক্ষ্য পূরণে এই জোনে বিজিবি ও বিএসএফের পারস্পরিক সহযোগিতা ও সমন্বয়ের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারি ও টহলের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার বাংলাদেশের এক ডজন সাংবাদিককে ক্রাইম ফ্রি জোনের বিভিন্ন এলাকা ঘুরিয়ে দেখায় বিএসএফ। বিএসএফের ৬৪ ব্যাটালিয়নের কমাডেন্ট নীলোৎপাল পা-ে সাংবাদিকদের বলেন, ক্রাইম ফ্রি জোনে গত এক মাসে কোনো ধরনের অপরাধ হয়নি।

বিএসএফের ৬৪ ব্যাটালিয়নের উপ-অধিনায়ক রাগবিন্দার সিং দুই দেশের দুটি বর্ডার অবজারভেশন পোস্ট (বিওপি) দেখিয়ে বলেন, আমাদের উভয়ের দৃষ্টি সীমান্তে, তাই আমাদের চোখকে চোরাকারবারিরা ফাঁকি দিতে পারেনি।

ক্রাইম ফ্রি জোনের বাংলাদেশ অংশেও গত এক মাসে কোনো অপরাধ ঘটেনি দাবি করে বিজিবি ২১ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক তারিকুল হাকিম জানান, গত এক মাসে তারা বেশ কয়েকজনকে আটক করেছেন। তবে অপরাধীরা কোনো চেষ্টায় সফল হতে পারেনি।

ওই এলাকা ঘুরে দেখা যায়, ইছামতি নদীর উভয় পাশে দুই দেশের মানুষ জমিতে কৃষি কাজ করছে।

ভারতের কালিয়ানি গ্রামের দিলীপ হালদার বলে, আগে সীমান্ত এলাকায় জমিতে কাজ করতে এসে সীমান্তরক্ষীদের হয়রানির মুখে পড়তে হত। গ-গোল হলে অপরাধ না করেও ভয়ে ভয়ে থাকতে হত। ক্রাইম ফ্রি জোন হওয়ার পর এখন তারা স্বস্তি নিয়ে জমিতে কাজ করতে পারছেন। বিএসএফ ও বিজিবি অযথা সন্দেহ করছে না।

ইছামতির শাখা নদীতে বাঁশের একটি সেতু তৈরি করেছে বিজিবি ও বিএসএফ। এই সেতুর নাম বন্ধন রাখা হবে বলে বিএসএফের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন। এই সেতু পার হয়ে বাংলাদেশ অংশের জমিতে বেশ কয়েকজন কৃষককে কাজে ব্যস্ত দেখা যায়।

এদের একজন দৌলতপুর গ্রামের আউয়াল বলেন, ১০-১২ বছর আগে তারা ওই নদীতে মাছ ধরতেন। এখন মাছ পাওয়া যায় না; তারপরও চোরাকারবারিরা জেলে সেজে ওই পথ ব্যবহার করত। বিজিবি ও বিএসএফ সন্দেহ করে যদি গুলি চালায় সেই ভয়ে আমরা জমিতে কাজ করতে আসতে পারতাম না। এখন সবাই ক্ষেতে এসে নির্ভয়ে কাজ করতে পারি।

ক্রাইম ফ্রি জোন এলাকায় কাঁটা তারের বেড়ার পাশাপাশি নির্দিষ্ট দূরত্বে রয়েছে দুই দেশের বিওপি। চোরাকারবারের জন্য কুখ্যাত খাধাপাড়া ও আংরাইলে বিএসএফের পাশাপাশি ভারতের পুলিশেরও একটি টহল পোস্ট রয়েছে। এই এলাকায় ড্রোন ব্যবহার করা হয় কি না জানতে চাইলে বিএসএফের কলকাতা সেক্টর হেড কোয়ার্টারের কমান্ডেন্ট মনোজ কে বাড়োয়াল বলেন, এত মনিটরিংয়ের পর ড্রোন ব্যবহারের আর প্রয়োজন পড়েনি। জোনের বাংলাদেশ অংশে ইতোমধ্যে ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরা, সার্চ লাইট, থার্মাল ইমেজারসহ বিভিন্ন সার্ভেইলেন্স ডিভাইস বসানোর কথা জানিয়েছে বিজিবি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *