পাথেয় রিপোর্ট : ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজে ছাত্রী অরিত্রি আত্মহত্যার দায়ে স্কুলের গভর্নিংবডির পদত্যাগসহ ৬ দফা দাবি পূরণে স্কুল কর্তৃপক্ষের আশ্বাস দেয়ার পর কাল থেকে যথারীতি ক্লাস ও পরীক্ষায় ফেরার ঘোষণা দিয়েছে শিক্ষার্থীরা।
এদিকে রাজধানীর ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী অরিত্রী অধিকারীর আত্মহত্যার ঘটনায় শিক্ষক হাসনা হেনাকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।
০৬ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে শিক্ষকরা কথা বলে তাদেরকে বৈঠকে নিয়ে যান। তখন এই বৈঠকে কোনো অভিভাবকদের প্রবেশ করতে দেয়া হয়নি। স্কুলের শিক্ষকদের সঙ্গে প্রায় ৩ ঘণ্টা বৈঠক শেষে বের হয়ে সাংবাদিকদের এ কথা জানান আন্দোলনের মুখপাত্র আনুশকা রায়।
আনুশকা বলেন, শিক্ষক আমাদের ছয় দফা দাবি মেনে নেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। ছয় দফার মধ্যে ১ ও ৫নং স্কুল আইনের বাইরে থাকায় সেগুলো স্কুল কর্তৃপক্ষের পক্ষে মানা সম্ভব না। তবে বাকি সব দাবি মেনে নেয়ায় আমরা কাল থেকে ক্লাসে ফিরে যাব।
তবে এ বৈঠকে শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের ঢুকতে দেয়া না হলে একপর্যায়ে অভিভাবকরা ধস্তাধস্তি করে প্রবেশ করতে চাইলেও কাউকে ঢুকতে দেয়া হয়নি। তবে বৈঠক থেকে বের হয়ে এক শিক্ষার্থী কান্নায় ভেঙে পড়ে। সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলেও সে কোনো কথা বলতে রাজি হয়নি।
এর আগে বেলা পৌনে ১২টার দিকে আনুশকা রায় বলেছিলেন, আজকের মধ্যে সব দাবি মেনে নিতে হবে। নইলে আন্দোলন চলতে থাকবে।
প্রসঙ্গত সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টায় রাজধানীর শান্তিনগরে সাততলা ভবনের সপ্তমতলায় নিজ ফ্ল্যাটে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় অরিত্রিকে পাওয়া যায়। এরপর ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেয়া হলে বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে চিকিৎসকরা অরিত্রিকে মৃত ঘোষণা করেন।
এর আগে দুপুর ৩টা ২০ মিনিটে ডিবি পুলিশ হাসনা হেনাকে আদালতে হাজির করে। এ সময় মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক কামরুল হাসান।
অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী জাহাঙ্গীর আলম জামিন আবেদন করে বলেন, হাসনা হেনা এ ঘটনায় জড়িত নন। প্রধান শিক্ষক ওই শিক্ষার্থীর (অরিত্রী) অভিভাবককে ডাকতে বলায় উনি ডেকেছেন। এর বেশি কিছু তিনি জানেন না। তার সম্পর্কে বাদী কোনো অভিযোগও করেন নাই।


