ক্ষমতার লোভেই মন্দিরের প্রসাদে বিষ মেশায় পুরোহিত নিজেই

ক্ষমতার লোভেই মন্দিরের প্রসাদে বিষ মেশায় পুরোহিত নিজেই

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : মনে আছে! ১৫ ডিসেম্বর একটি সংবাদ বেরিয়েছিল গণমাধ্যমে, ভারতের কর্ণাটকের চমরজগড়ে প্রসাদ খেয়ে ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছে ৮২জন। খবর এনডিটিভির। বর্তমান ট্রাস্টিকে সরিয়ে মন্দিরের ক্ষমতা কুক্ষিগত করতে ভায়াবহ হত্যাযজ্ঞটি ঘটিয়েছে স্বয়ং হিন্দু পুরোহিত ইম্মাডি মহাদেব স্বামী। ক্ষমতার লোভে ১৫ জনের প্রাণ নিতে পিছপা হয়নি এই যোগী। মানুষের কল্যাণেই নাকি তিনি সংসার ছেড়ে সন্ন্যাস নিয়েছেন।

কর্নাটকের কোল্লিগালের সুলওয়াডি গ্রামে কিচগুথ মারাম্মা মন্দিরের প্রসাদ খেয়ে গত ১৪ ডিসেম্বর মৃত্যু হয় সর্বমোট ১৫ জনের, হাসপাতালে ভর্তি হন ১০০ জনেরও বেশি। তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে যে স্থানীয় সন্ন্যাসী ইম্মাডি মহাদেব স্বামী ও তার তিন সঙ্গী মিলে ষড়যন্ত্র করে মন্দিরের প্রসাদে বিষ মিশিয়েছিল। চারজনকেই খুনের দায়ে গ্রেফতার করা হয়েছে। ৫২ বছরের মহাদেব স্বামী ছাড়া গ্রেফতার করা হয়েছে তার প্রেমিকা অম্বিকা (৩৫), অম্বিকার স্বামী মাদেশা (৪৬) এবং স্থানীয় অন্য একটি মন্দিরের পুরোহিত ডোদ্দাইয়াকে ( ৩৫)।

বাগানে দেবে বলে কৃষি দফতরের এক অধিকারিকের কাছ থেকে দুটি ৫০০ মিলিলিটার কিটনাশকের বোতল সংগ্রহ করে অম্বিকা। এই কীটনাশকই মন্দিরের প্রসাদে মেশানো হয় বলে জানিয়েছেন আইজিপি কেভি শরৎ চন্দ্র। কর্নাটক-তামিলনাড়ু সীমান্তের এই মন্দিরে বছরে অন্তত ১২ লাখ টাকার রেভেনিউ জেনারেট হয়। মন্দিরের প্রধান ট্রাস্টি চিনাপ্পিকে সরিয়ে সেই জায়গায় নিজে বসতে চেয়েছিল মহাদেব স্বামী। তার জন্য কয়েকজনকে মারতে যে তার আপত্তি ছিল না, তা পুলিশের কাছেও জানিয়েছে মহাদেব।

এর আগে এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৪ ডিসেম্বর শুক্রবার রাজ্যের চমরাজনগর জেলার সুলিবাদি গ্রামের কিচু মারাম্মা নামের মন্দিরে এ ঘটনা ঘটেছিলো। জেলা প্রশাসনের এক কর্মকর্তার দাবি, খাবারের সঙ্গে বিষাক্ত কিছু মিশিয়ে দেওয়ার কারণেই এই দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা ঘটেছে। ওই খাবারের নমুনা বিশ্লেষণের জন্য পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশের এক মুখপাত্রের বরাত দিয়ে বিবিসি বলেছে, গত শুক্রবার কর্ণাটক রাজ্যের চমরাজনগর জেলার মারাম্মা নামের ওই মন্দিরে ঘটনাটি ঘটে। ওই মন্দিরে উপাসনার সময়ে দেওয়া প্রসাদ খেয়ে এ হতাহতের ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ও স্থানীয় গণমাধ্যমগুলো ধারণা করছে, মন্দিরের ওই খাবারগুলো বিষাক্ত ছিল।

এ ঘটনায় দুই জনকে আটক করেছে পুলিশ। অসুস্থদের বিভিন্ন স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাছাড়া হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা যায়, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৮২ জনের মধ্যে ১১ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

এদিকে কর্তব্যরত এক পুলিশ জানায়, সুলাওয়াড়ি গ্রামের এক মন্দিরের শুক্রবার মূর্তি প্রতিষ্ঠার অনুষ্ঠানের পর প্রসাদ বিতরন চলছিল। প্রসাদ খাওয়ার পর অসুস্থ হয়ে পড়েন মন্দিরের ভক্তরা। দ্রুত অসুস্থদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া শুরু করতেই রাস্তাতে তিন মহিলা-সহ পাঁচ জনের মৃত্যু হয়। পরে হাসপাতালে আরও ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে।

মৃতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছে জেলা কর্তৃপক্ষ। ওই জেলা প্রশাসনের আধিকারিক জানান, ‘কোনও ভাবে প্রসাদের সঙ্গে বিষ মিশে গিয়েছে। আমরা প্রসাদ পরীক্ষা করার ব্যবস্থা করেছি।’

অনুষ্ঠানের আয়োজকের দায়িত্বে থাকা এক ব্যক্তি বলেন, ‘আমরা টমেটো ও ভাত খেতে দিয়েছিলাম। তবে এ থেকে গন্ধ আসছিল। যারা এটা ফেলে দিয়েছে তারা ভালো আছে, তবে যারাই খেয়েছে তারাই বমি করা শুরু করে পেট ব্যথা করার কথা বলতে থাকে।

এক প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন, প্রসাদ থেকে কেরোসিনের গন্ধ আসলেও ভক্তরা প্রসাদ হিসেবে দেওয়া ভাত খাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। কিছুক্ষণের মধ্যে তাদের পেট ব্যথ্যা ও বমি শুরু হয়।

এই ঘটনায় মুখ্যমন্ত্রী এইচডি কুমারস্বামী নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর শোক জানিয়েছে। এছাড়া নিহতদের প্রত্যেক পরিবারকে ৬ লাখ টাকা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *