‘খতমে নবুয়ত মানে না ঈদে মিলাদুন্নবী পালনকারীরা’

‘খতমে নবুয়ত মানে না ঈদে মিলাদুন্নবী পালনকারীরা’

পাথেয় রিপোর্ট : বাংলাদেশসহ উপমাহাদেশের বহু সংখ্যক মানুষ রাসূল সা.-এর জন্মদিনে ধর্মের নামে যেভাবে ঈদে মিলাদুন্নহী পালন করে, এমন করে ঈদে মিলাদুন্নবী পালনকারীরা খতমে নবুয়তে বিশ্বাসী নয় বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামার চেয়ারম্যান, শোলাকিয়া ঈদগাহের গ্র্যান্ড ইমাম, শাইখুল হাদীস আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ।

কারণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, রাসূল সা.-এর যামানায় আল্লাহ তাআলা দ্বীনকে পরিপূর্ণ করে দিয়েছেন। রাসূল সা. ও সাহাবায়ে কেরামের যামানায় যেসব বিষয় ছিল না, এমন কিছুকে ধর্মের নামে পালন করা মানে রাসূল সা.-এর খতমে নবুয়তকে অস্বীকার করা। দ্বীনের মধ্যে নতুন কিছু যুক্ত করা মানেই তো রাসূল সা.-এর সময় দ্বীন পূর্ণাঙ্গ ছিল না বিশ্বাস করা, দ্বীন পূর্ণাঙ্গ ছিল না বিশ্বাস করা মানেই খতমে নবুয়তকে অস্বীকার করা।

রাসূল সা. বিদআতকে সবচেয়ে বেশি অপছন্দ করতেন উল্লেখ করে আল্লামা মাসঊদ বলেন, ঈদে মিলাদুন্নবী শরীয়তের কোন হুকুম নয়, বরং ঈদে মিলাদুন্নবী বিদআত। শ্রদ্ধা চরম শিকড়ে থাকা সত্ত্বেও সাহাবায়ে কেরাম কখনও মিলাদুন্নবীর দিনকে ঈদ হিসেবে পালন করেননি। যদি ইসলামে একে পালন করার উৎসাহ দেয়া হত, তবে তারা কিছুতেই একে অবহেলা করতেন না। নিশ্চয়ই সাহাবায়ে কেরাম এখনকার যুগের মুসলমানদের চেয়ে নবীজিকে বেশি ভালবাসতেন।

২৩ নভেম্বর শুক্রবার রাজধানীর খিলগাঁও ইকরা বাংলাদেশ জামে মসজিদ কমপ্লেক্সে জুমার বয়ানে সাইয়্যিদ আসআদ মাদানী রহ.-এর খলীফা আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ এসব কথা বলেন।

রাসূল সা.-এর জন্মদিন পালন করতে হলে প্রতি সোমবার রোজা রাখার আহ্বান জানিয়ে আল্লামা মাসঊদ বলেন, রাসূল সা.-এর জীবনে সোমবার দিন অনেক তাৎপর্য ও গুরুত্বপূর্ণ। সোমবার দিন রাসূল সা.-এর জন্ম হয়, মৃত্যু হয়, হিজরত করেন, নবুয়ত লাভ করেন। সোমবার দিন উম্মতের আমল নামা রাসূল সা.-এর কাছে পেশ করা হয়, এই জন্যে রাসূল সা. বলেছেন, তোমরা সোমবার দিন রোজা রাখো, যাতে রোজা রাখা অবস্থায় তোমাদের আমলনামা আমার কাছে পেশ করা হয়।

রাসূল সা. এই পৃথিবী থেকে চলে গেছেন কিন্তু তাঁর নবুয়ত কিয়ামত পর্যন্ত থাকবে উল্লেখ করে বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামার চেয়ারম্যান বলেন, রাসূল সা. দুনিয়া থেকে চলে গেছেন, কিন্তু আমাদের নবীজির নবুয়ত কিয়ামত পর্যন্ত থাকবে। তারপর আর কেন নবী আসবেন না। কিয়ামতের আগে হযরত ঈসা আ.-এর মত জালিলুল কদর নবী এই পৃথিবীতে আসবেন কিন্তু নবী হিসেবে আসবেন না। তিনি রাসূল সা. এর নবুয়ত ও ইসলাম ধর্মের বিধিবিধান অনুযায়ী চলবেন। মানুষকে দ্বীনের দিকে আহ্বান করবেন।

মসজিদে উপস্থিত মুসল্লিদের থেকে তিনটি বিষয়ে ওয়াদা নেন আসআদ মাদীনর এই খলিফা। ১. মৃত্যুর আগ পর্যন্ত ফরজ নামাজ ছাড়বেন না। ২. রবিউল আউয়াল মাসে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লামের উপর প্রতিদিন ৫০০ বার দুরূদ পাঠ করবেন। ৩. রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লামের শানে এই মাসে দান-সদকা বেশি বেশি করবেন।

গ্রন্থনা : আদিল মাহমুদ
সম্পাদনা : মাসউদুল কাদির

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *