খতরনক মুজাহিদ | আমিনুল ইসলাম কাসেমী
প্যান্ডেল এবং ফেসবুক মুজাহিদগণ খুবই খতরনক। এর আগে আমি বহুবার বলেছি, লিখেছি। কিন্তু কেউ এটাকে বিশ্বাস করেনি। এখন মুহতারম হারুন ইজহার সাহেবের বক্তব্যে সকলের চৈতন্য ফিরে এসেছে।
প্যান্ডেল মুজাহিদগণ বর্তমানে দেশে এমন অবস্থার সৃষ্টি করেছেন। উনারাই দায়ী। ওয়াজ মাহফিলে আর এখন ওয়াজ নেই। ওটা হয়েছে রাজনৈতিক মঞ্চ। ওয়াজ মাহফিলে গিয়ে বড় বড় লেকচার মারেন। যে লেকচারের কোন আগা মাথা নেই। মনেহয় ঐ দিন বুঝি ইসলাম কায়েম হয়ে যাচ্ছে!
আরো জঘন্য কাজ হলো, ইসলাম কায়েম করতে গিয়ে ওয়াজ শেষে পকেট ভরে টাকা নিয়ে বাড়ী ফেরেন। টাকা ছাড়া যেন ওনাদের ওয়াজ হয় না। কোথাও যদি টাকা কম হয়ে যায়, পরের বছর আর সেখানে দাওয়াত নেন না। দেখেন! কত বড় কমবখত।
ঐ প্যান্ডেল মুজাহিদদের অধিকাংশের এমন হালাত। তারা টাকার বিনিময়ে ওয়াজ মাহফিলে জিহাদ করতে যান। ওয়াজ শেষ জিহাদ ও শেষ। এরপর প্রাইভেটকারে বসে টাকা নিয়ে বাড়ী ফেরেন। আচ্ছা ,এত জিহাদী জযবা, টাকা ছাড়া ওয়াজ করতে যাওয়া যায় না? একদিনে তিন/চারটে প্রোগ্রাম করেন এমন প্যান্ডেল মুজাহিদ আছেন। বিকেল থেকে নিয়ে গভীর রাত পর্যন্ত একেক জায়গায় যান। আর পকেট ভারী করেন।
আর ফেসবুক মুজাহিদদের কথা আর কি বলব। ওরা ফেসবুকটা নষ্ট করে ফেলেছে। এসব ফেসবুক মুজাহিদের দু একজন আছে, ওনারা প্যান্ডেলেও যান। সেখানে গিয়েও লাগামহীন কথা বার্তা। ওয়াজ করার আর কিছু পান না। সেখানে গিয়ে আপত্তিকর কথা বলে থাকেন।
এজন্য হেকমত এবং মাওয়ায়েজে হাসানার বিকল্প নেই। দ্বীনের কাজ করতে হলে অবশ্যই হেকমতের প্রয়োজন। কৌশল এর প্রয়োজন রয়েছে। আজকের এমন অবস্থার সৃষ্টির পিছনে, হেকমত এবং মাওয়ায়েজে হাসানা অবলম্বন না করা।
ওয়াজের ষ্টেজে বসে আরেকজনকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা, অমুক মুরতাদ, অমুক কাফের, অমুককে ধোলাই করতে হবে, এরকম উস্কানী বক্তব্য দেওয়া, এসমস্ত বেঁফাস কথা বার্তা আলেম-উলামার মুখ থেকে মানায় না। আমাদের আদর্শ, আমাদের আখলাক দেখে বিধর্মীরা এগিয়ে আসবে। কিন্তু এগুলো কি আখলাক আমাদের? এই ফেবু মুজাহিদ এবং প্যান্ডেল মুজাহিদদের মুখ থেকে এমন ভাষা বের হয়, যেটা লিখতেও লজ্জা হয়।
এজন্য এসব খতরনক মুজাহিদ! এদের থেকে সাবধান থাকতে হবে। আল্লাহ আমাদের সহী বুঝ দান করুন। আমিন।
লেখক: শিক্ষক ও কলামিস্ট


