খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত

খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত

পাথেয় রিপোর্ট : বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত ও জাতিগত বিভেদ সৃষ্টির অভিযোগের মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। একইসঙ্গে আগামী ১৮ ফেব্রুয়ারি গ্রেপ্তার সংক্রান্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ ধার্য করে।

২০ জানুয়ারি, রবিবার দুপুরে ঢাকার মহানগর হাকিম মোহাম্মদ জসিম এ আদেশ দেন। এ দিন বাদী এবি সিদ্দিকী আদালতে উপস্থিত হাজিরা প্রদান করেন। বিষয়টা নিশ্চিত করেন সংশিষ্ট্র আদালতের বেঞ্চ সহকারী রাকিবুল চৌধুরী।

এদিন সকালে মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী আবুল কালাম আজাদ ফের গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি আবেদন করে শুনানি করেন। শুনানি শেষে আদালত খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির এ আদেশ দেন।

গত বছরের ২৩ জুলাই এ পরোয়ানা জারির আবেদন করেন মামলার বাদী এবি সিদ্দিকী। ওই দিন শুনানি শেষে আদালত আদেশের জন্য গত বছরের ১৬ সেপ্টেম্বর, ২৩ সেপ্টেম্বর, ১ নভেম্বর, ২৬ ডিসেম্বর ও পরবর্তীতে তা পিছিয়ে এদিন (২০ জানুয়ারি) ধার্য করা হয়।

এর আগে গত বছরের ৩০ জুন এ মামলায় খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা শাহবাগ থানার ওসি (তদন্ত) জাফর আলী বিশ্বাস। তদন্ত প্রতিবেদনে তিনি অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে মর্মে উল্লেখ করেন।

২০১৪ সালের ১৪ অক্টোবর রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে হিন্দু সম্প্রদায়ের শুভ বিজয়ার অনুষ্ঠানে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়কালে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন খালেদা জিয়া। এ সময় তিনি আওয়ামী লীগ সম্পর্কে কটুক্তিপূর্ণ সমালোচনা করেন।

বক্তৃতার এক পর্যায়ে খালেদা জিয়া বলেন, ‘আওয়ামী লীগ ধর্মনিরপেক্ষতার মুখোশ পরে আছে। আসলে দলটি ধর্মহীনতায় বিশ্বাসী।’

তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সব ধরনের মানুষের ওপর আঘাত করে। আর লোক দেখানো ধর্মনিরপেক্ষতার কথা বলে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান দলখ করে নেয়। ধর্মনিরপেক্ষতার মুখোশ পরা এ জবরদখলকারী সরকারের হাতে কোনো ধর্মের মানুষই নিরাপদ নয়।’

ওই বক্তব্য দেয়ার জন্য ২০১৪ সালের ২১ অক্টোবর খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ১৫৩ (ক) ও ২৯৫ (ক) ধারায় ঢাকা মহানগর হাকিম মোস্তাফিজুর রহমানের আদালতে একটি নালিশি মামলা করা হয়। ওই দিনই আদালত মামলাটি গ্রহণ করে তা তদন্তের জন্য শাহবাগ থানার ওসিকে নির্দেশ দেন।

প্রসঙ্গত, দুর্নীতির দুই মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত হয়ে বর্তমানে খালেদা জিয়া পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে রয়েছেন।

গত ২৩ জুলাই খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আবেদন করেন সভাপতি এ বি সিদ্দিকী।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *