পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : খাশোগিকে হত্যা করেছে সৌদি সরকার মন্তব্য করে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোগান এই প্রথমবারের মতো বলেছেন, রাজতন্ত্র-বিরোধী সাংবাদিক জামাল খাশোগিকে হত্যা করার জন্য সরাসরি সৌদি সরকারকে দায়ী। এরদোগান মার্কিন দৈনিক ওয়াশিংটন পোস্টে লেখা এক নিবন্ধে বলেন, খাশোগিকে হত্যার নির্দেশ এসেছে সৌদি সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে।
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট লিখেছেন, যে ১৮ ব্যক্তিকে সৌদি আরবে আটক করা হয়েছে তারাই খাশোগিকে হত্যা করেছে। এবং শেষ পর্যন্ত আমরা জানতে পেরেছি, সৌদি সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে তাকে হত্যার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তিনি লিখেন, অনেক উঁচু পর্যায়ের কেউ এ হত্যাকাণ্ডের নির্দেশ দিয়েছে। সেই মূল হোতা বা হোতাদের” নাম প্রকাশ করতে হবে।
জানা যায়, সর্বোচ্চ পর্যায় বলতে রাজা সালমানকে বোঝাননি রজব তাইয়্যেব এরদোগান। তিনি বলেন, এ হত্যাকাণ্ডে রাজা সালমান জড়িত রয়েছেন বলে তিনি বিশ্বাস করেন না। সৌদি আরবের সঙ্গে ‘বন্ধুত্বপূর্ণ’ সম্পর্ক বজায় থাকবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তুর্কি প্রেসিডেন্ট। সৌদি সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে রাজা সালমানকে বাদ দিয়ে খাশোগি হত্যাকাণ্ডের জন্য এরদোগান সরাসরি যুবরাজ মোহাম্মাদ বিন সালমানকে দায়ী করতে চেয়েছেন বলে পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন।
তুর্কি প্রেসিডেন্ট অভিযোগ করে বলেন, তুরস্ক ত্যাগ করে চলে যাওয়া সৌদি কনসাল জেনারেলের বিরুদ্ধে এখনো কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। এ ছাড়া, সম্প্রতি তুরস্ক সফর করে যাওয়া সৌদি অ্যাটর্নি জেনারেল তুর্কি তদন্তকারী কর্মকর্তাদের কোনো সহযোগিতা করেননি। এমনকি সৌদি প্রধান সরকারি কৌঁসুলি ‘অতি সাধারণ প্রশ্নেরও জবাব দেননি’ বলে উল্লেখ করে এরদোগান।
এদিকে খাশোগির হত্যাকাণ্ড তদন্তের জন্য তুরস্ক সফরে গিয়েছিলেন মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ’র প্রধান গিনা হাসপেল। তিনি সাংবাদিক জামাল খাশোগির হত্যাকাণ্ডের ঘটনা নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ব্রিফ করেছেন বলে জানা যায়। তুরস্ক সফর শেষ তিনি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে ব্রিফ করেন তবে ট্রাম্পকে কী বলেছেন তা জানা যায় নি। তুরস্ক সফরের সময় হাসপেল খাশোগি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা নিয়ে রেকর্ড করা টেপ শুনেছেন। খাশোগি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা তদন্তের জন্য চলতি সপ্তাহে হাসপেল গোপনে তুরস্ক সফর করেন। এ সময় তুর্কি গোয়েন্দা সংস্থার পক্ষ থেকে সরবরাহ করা অডিও টেপ তিনি শোনেন। তুর্কি কর্তৃপক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী, ইস্তাম্বুলের সৌদি কন্স্যুলেট ভবনে খাশোগিকে নির্যাতনের পর হত্যা করা হয় এবং তার দেহ টুকরো টুকরো করা হয়।
গত ২ অক্টোবর তুরস্কের ইস্তাম্বুলস্থ সৌদি কনস্যুলেটে প্রবেশ করার পর নির্মমভাবে নিহত হন খাশোগি। তুর্কি তদন্তকারী কর্মকর্তারা বলেছেন, কনস্যুলেটে প্রবেশ করার পরপরই খাশোগিকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। কিন্তু তার মরদেহ এখনো খুঁজে পাওয়া যায়নি। প্রেসিডেন্ট এরদোগানের উপদেষ্টা ইয়াসিন আকতায় বলেছেন, খাশোগির লাশ টুকরো টুকরো করে অ্যাসিড দিয়ে নিশ্চিহ্ন করে ফেলা হয়েছে বলে তিনি মনে করছেন।
তুর্কি প্রেসিডেন্ট আরো লিখেছেন, ন্যাটোভুক্ত একটি দেশের মাটিতে কেউ যেন আর কখনো এ ধরনের অপরাধ করতে সাহস না দেখায়। যে কেউ এই সতর্কতা উপেক্ষা করবে তাকে কঠোর পরিণতি ভোগ করতে হবে।

