পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : সৌদি আরবের রাজতন্ত্র বিরোধী সাংবাদিক জামাল খাশোগির নিখোঁজ হওয়ার পেছনে রাজা মোহাম্মদ বিন সালমান জড়িত নয় বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একটি সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, রাজা সালমানের মস্তিষ্কে অনুপ্রবেশ করা তার পক্ষে সম্ভব ছিল না কিন্তু তার সঙ্গে আলাপ করে তিনি বুঝতে পেরেছেন, দুর্বৃত্ত হত্যাকারীরা এ ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, আমরা শিগগিরই এ ঘটনার রহস্য উন্মোচন করে ফেলব, তবে রাজা সালমান এ ঘটনায় জড়িত থাকার বিষয়টি দৃঢ় ভাষায় প্রত্যাখ্যান করেছেন।
সৌদি আরবের রাজতন্ত্র বিরোধী সাংবাদিক জামাল খাশোগির নিখোঁজ হওয়ার পেছনে ‘খুনি দুর্বৃত্তদের’ হাত রয়েছে বলে জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার সৌদি রাজা সালমানের সঙ্গে এক টেলিফোনালাপের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে এসব কথা বলতে গিয়ে এ মন্তব্য করেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।
মার্কিন প্রেসিডেন্টের এ মন্তব্যকে খাশোগির সম্ভাব্য হত্যাকাণ্ডের দায় থেকে সৌদি রাজা সালমানকে মুক্ত করে দেয়ার প্রচেষ্টা হিসেবে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। তারা বলছেন, রিয়াদের কাছে হাজার হাজার কোটি ডলারের অস্ত্র বিক্রির চুক্তির বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে ডোনাল্ড ট্রাম্প এ কৌশলের আশ্রয় নিয়েছেন।
ট্রাম্প এমন সময় সৌদি আরবের পক্ষে অবস্থান নিলেন যখন এর দু’দিন আগে শুক্রবার তিনি রিয়াদকে সতর্ক করে বলেছিলেন, খাশোগির নিখোঁজ হয়ে যাওয়ার পেছনে সৌদি ক্ষমতাসীনদের হাত থাকলে তাদেরকে ‘চরম পরিণতি’ ভোগ করতে হবে। অবশ্য একইসঙ্গে ট্রাম্প একথাও বলেছিলেন, রিয়াদের কাছে হাজার হাজার কোটি ডলারের অস্ত্র বিক্রির চুক্তি বাতিল করার ইচ্ছে তার নেই। কারণ, আমেরিকা নিজেই নিজেকে শাস্তি দিতে পারে না।
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা এমনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বলেছে, জামাল খাশোগির হত্যাকাণ্ড প্রমাণ করছে, সৌদি রাজতন্ত্রের সমালোচনাকারীরা দেশের বাইরেও নিরাপদ নন। আন্তর্জাতিক সমাজ খাশোগির নিখোঁজ হওয়ার ব্যাপারে রিয়াদকে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করার আহ্বান জানিয়েছে।
এদিকে সৌদি আরবে রাজপরিবারের বিরুদ্ধে সমালোচনা করলেই গুম, হত্যা-অপহরণ, জেল অনিবার্য বলে অভিযোগ করেছেন জার্মানিতে স্বেচ্ছা নির্বাসনে থাকা সৌদি যুবরাজ খালেদ বিন ফারহান আল-সৌদ। তিনি বলেন, জামাল খাসোগির ঘটনায় যুবরাজের সমালোচনায় করায় রাজপরিবারের ওই সদস্যদের নিখোঁজ করা হয়েছে। জার্মানিতে স্বেচ্ছায় নির্বাসনে থাকা প্রিন্স খালেদ বিন ফারহান আল-সৌদ ব্রিটেনের ইন্ডিপেন্ডেন্ট পত্রিকাকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এ তথ্য জানান।
ওই পত্রিকাকে প্রিন্স ফারহান জানান, রাজপরিবারের এসব সদস্য আধুনিক সৌদি আরবের প্রতিষ্ঠাতা রাজা আবদুল আজিজের নাতি। গত সপ্তাহে সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে এক বৈঠকে প্রিন্সরা সাংবাদিক খাসোগি নিখোঁজের সমালোচনা করেছিলেন। এরপরই তাদের আটক করে গুম করা হয়। আটক প্রিন্সদের কোথায় রাখা হয়েছে তা জানা যায়নি বলেও জানান তিনি। খালেদ বলেন, তাদেরকে তাৎক্ষণিক আটক করা হয় এবং এখন তাদের অবস্থান সম্পর্কে কেউ কিছুই জানে না। যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সমালোচনাকারীদের মুখ বন্ধ করতে নেয়া পদক্ষেপগুলোরই অংশ এসব।
সূত্র : পার্সটুডে


