খাসোগিকে হত্যাকালীন অডিও রেকর্ড চায় যুক্তরাষ্ট্র

খাসোগিকে হত্যাকালীন অডিও রেকর্ড চায় যুক্তরাষ্ট্র

পাথেয় টোয়েন্টিেফার ডটকম : প্রখ্যাত সৌদি সাংবাদিক জামাল খাসোগিকে হত্যা করার সময় ধারণ করা অডিও রেকর্ড চেয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তুরস্কের কাছে এই অডিও রেকর্ড চায় যুক্তরাষ্ট্র। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের বলেন, অডিও রেকর্ড থাকলে তাঁরা তা চেয়েছেন। ধারণা করা হচ্ছে, খাসোগিকে হত্যা করার সময় ওই সময়ের কথাবার্তা তাঁর অ্যাপল ওয়াচে রেকর্ড হয়েছে। এ থেকেই হত্যার ক্লু বেরিয়ে আসার সম্ভাবনা অাছে। খুনীদেরও বের করা যাবে।

হোয়াইট হাউসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, ‘অডিও রেকর্ড যদি থাকে, তাহলে আমরা তা চাই।’

১৮ অক্টোবর বৃহস্পতিবার বিবিসি ও সিএনএনের খবরে জানানো হয়, ট্রাম্প বলেছেন, এমন কোনো অডিও থাকার বিষয়ে আমরা এখনো নিশ্চিত নই। এ রকম অডিও থাকলে থাকতেও পারে। এ বিষয়ে অাসলে এই সপ্তাহের শেষে আসল সত্য জানা যাবে। সৌদি আরবের দোষ ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছেন কিনা এমন প্রশ্নের উত্তরে ট্রাম্প বলেন, আসলে এসব কিছুই না—ধামাচাপা দেওয়ার এমন কথা উড়িয়ে দেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, আমি শুধু কী ঘটেছে, তা খুঁজে বের করার চেষ্টা করছি।

গত ২ অক্টোবর তুরস্কের ইস্তাম্বুলে সৌদি কনস্যুলেটে ঢোকার পর থেকে নিখোঁজ হন সাংবাদিক জামাল খাসোগি। তারপর অালোচনায় এলে তুরস্কের একজন কর্মকর্তা গত মঙ্গলবার দাবি করেন, ইস্তাম্বুলে সৌদি কনস্যুলেটে খাসোগিকে হত্যা করা হয়েছে। হত্যার পর তার দেহ কেটে টুকরো টুকরো করা হয়। এর আগে এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে একই দাবি করেছিল নিউইয়র্ক টাইমস। পরে গত সোমবার স্থানীয় সময় রাতে প্রায় ৯ ঘণ্টা ধরে তুরস্কের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সৌদি কনস্যুলেটে তল্লাশি চালান।

এদিকে তুরস্কের সরকারপন্থী সংবাদপত্র ইয়েনি সাফাক দাবি করেছে, তারা খাসোগির অ্যাপল ওয়াচে হত্যার সময় তার অডিও রেকর্ড তারা শুনেছে। এর থেকে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে যে, কনস্যুলেটে জিজ্ঞাসাবাদের সময় খাসোগির ওপর নির্যাতন চালানো হয়। এরপর তাঁকে হত্যা করা হয়। তাঁকে হত্যার কথা অস্বীকার করেছে সৌদি আরব।

অবশ্য বুধবার তুরস্কের এক সংবাদপত্র তাদের বরাতে বলে অাসলে খাসোগিকে কোনওরকম জিজ্ঞাসাবাদই করা হয়নি। বরং তাকে জীবিত অবস্থাতেই কেটে কেটে টুকরো টুকরো করে হত্যা করা হয়।

নিখোঁজ হওয়ার আগে জামাল খাসোগির লেখা শেষ কলাম প্রকাশ করেছে ওয়াশিংটন পোস্ট। সেখানে খাসোগি আরব বিশ্বে স্বাধীন সংবাদ মাধ্যমের গুরুত্ব নিয়ে লিখেছিলেন। খাসোগি আরব বিশ্বের সংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে কঠোর সমালোচনা করতেন। শেষ কলামে তিনি লিখেছিলেন, পুরোনো ধারা থেকে বেরিয়ে এসে আরব বিশ্বে নতুন ধারার সংবাদ মাধ্যম প্রয়োজন। যাতে দেশের ভেতরে ও বাইরে কী ঘটছে নাগরিকেরা তা জানতে পারেন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *