পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : গণমাধ্যমে মুসলমানদের শক্তি বাড়ানো প্রয়োজন উল্লেখ করে ভারতের প্রসিদ্ধ আলেমেদ্বীন মুফতি গোলাম রসূল কাসেমী বলেছেন, পুরো বিশ্বে মুসলমানরা নির্যাতন-নিপীড়নের শিকার। কিন্তু বিশ্ব মিডিয়াগুলো মুসলমানদের উপেক্ষা করে চলছে। মুসলমান ও ইসলামের সংবাদ প্রচারে অনেক হীনম্মন্যতায় ভুগে, আবার অনেক সাম্প্রদায়িক মনোভাব দেখায়।
তিনি বলেন, আমরা যারা ইসলাম ও মুসলানদেরকে ভালোবাসি, ইসলামের প্রসার কামনা করি, বিশ্বের কাছে মুসলমানদের নির্যাতন-নিপীড়নের কথা তুলে ধরতে চাই, তারা বর্তমান বাস্তবতায় মিডিয়ার প্রতি গুরুত্ব দিতে বাধ্য হচ্ছে। আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করছি, মুসলমানদের কিছু ইসলামিক মিডিয়া থাকা উচিৎ।
সম্প্রতি নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের দুইটি মসজিদে জঙ্গি হামলায় হতাহতের ঘটনায় শোক ও নিন্দা জানিয়ে মুফতি গোলাম রসূল বলেন, ধর্মীয় উপাসনালয়ে সন্ত্রাসী হামলায় ৫০ জন মুসলমান নিহত হয়েছেন। অথচ বিশ্বমিডিয়াগুলো এখনো উগ্রবাদী এসব সন্ত্রাসীদের পরিচয় অস্পষ্ট করে রাখছে। ইসলামের বিরুদ্ধ শক্তি এই মিডিয়াগুলো মুসলিমদের ক্ষতি করতে চায়, মুসলিমদের মন-মানসে তাদের চিন্তা-চেতনা ঢুকিয়ে দিচ্ছে। তাই বর্তমানে আমাদের ইসলামিক কিছু মিডিয়া প্রয়োজন অনেক বেশি।
১৮ মার্চ সোমবার ভারতে দিল্লির প্রসিদ্ধ দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মাদারাসায়ে সিদ্দিকে আকবর (রা.) এ নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের দুইটি মসজিদে জঙ্গি হামলায় নিন্দা জ্ঞাপন অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন মুফতি গোলাম রসূল।
মাদারাসায়ে সিদ্দিকে আকবরের মিলনাতনে সন্ধ্যার পর থেকে অনুষ্ঠানের কার্যক্রম শুরু হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মাওলানা আব্দুর রশীদ কাসেমী এবং সঞ্চালনে করেন হাফেজ মাওলানা আব্দুল হামিদ নদভী।
ভারতে ডেইলি হামারা সমাজের সূত্রে জানা যায়, ক্রাইস্টচার্চের দুইটি মসজিদে জঙ্গি হামলায় নিন্দা জ্ঞাপন মাওলানা সাইয়্যিদ আকবর হাশেমী বলেছেন, নিউজিল্যান্ডের মত শান্তি-শৃংঙ্খল দেশে মসজিদে হামলা এটা পরিকল্পিত ভাবেই হয়েছে। তারা যে ইসলাম বিদ্বেষী সেটা প্রমাণ করে দিয়েছে। ধর্মপ্রাণ মুসলানদেরকে তারা পরিকল্পিত ভাবেই হত্যা করেছে। নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের সন্ত্রাসী হামলার ঘটনার নিন্দা করেন মাওলানা হাশেমী।
অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন মাওলানা আব্দুর রশীদ, মাওলানা আব্দুস সামাদ মিল্লি, মাওলানা মানসুর, মাওলানা আকবর, কারী ইদ্রিস, মাওলানা আরবাব আহমদ, কারী আব্দুল্লাহ, হাফেজ আব্দুল হামীদ নদভী, মুফতি ইউনুস, মুফতি জামিল রুশদী, মুফতি আব্দুর রহীম, মুফতি হিশাম, মুফতি ইমরান, মুফতি ইসমাঈল, মাওলানা ফারুক, মুফতি আফতাব, মাওলানা আব্দুস সামি, মুফতি শাহেদ, মুফতি ইলিয়াস প্রমুখ।
প্রসঙ্গত, গত শুক্রবার নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের দুটি মসজিদে সন্ত্রাসী হামলার অন্তত ৫০ জন মারা গেছেন। এর মধ্যে বাংলাদেশের পাঁচজনের প্রাণহানির খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে। তবে নিহত বাংলাদেশির সংখ্যা আটজন হতে পারে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন ৪৮ জন। নিখোঁজ রয়েছেন আরও কয়েকজন। নৃশংস এ ঘটনায় বিশ্বব্যাপী নিন্দার ঝড় বইছে।
অনুবাদ : আদিল মাহমুদ
সম্পাদনা : মাসউদুল কাদির
সূত্র : হারামা সমাজ, দিল্লি


