পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : ভারতবর্ষে সংখ্যালঘুদের অবস্থা কি দিন দিন যেন জার্মানির ইহুদিদের সমতুল্য হতে চলেছে তার নানা নিদর্শন পাওয়া যাচ্ছে যেমন দিল্লির তিহার জেলে একজন মুসলিম বন্দির পিঠে হিন্দিতে ওম শব্দটি অতি উত্তপ্ত শলাকা দিয়ে দাগিয়ে দেয়া হয়েছে। ওই মুসলিম তরুণটি দায়ী করেছে তিহার জেলের রাজেশ চৌহান নামের একজন সুপারকে। নির্যাতিত ওই মুসলিম তরুণটির নাম সাব্বির হোসেন বয়স ৩৪, দিল্লির শ্রীরামপুর এলাকার বাসিন্দা দুই হাজার ষোল সালের মার্চ মাস থেকে তিহার জেলে বন্দি রয়েছে। ঘটনা টি সামনে আসে ওই বন্দির পরিবারে অভিযোগ নিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হলে। তারা অভিযোগ করে তাদের পুত্রের জীবন জেলের ভিতরে রয়েছে জেলার কর্মচারীরা তার ওপর নির্মম অত্যাচার চালাচ্ছে।
অভিযোগ পাওয়ার পর মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জেল সুপারের বিরুদ্ধে ওঠা এই মর্মান্তিক অভিযোগের তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে। নির্দেশের জানানো হয়েছে ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল অব প্রিজন অজয় কেশ্যব ওই ঘটনার তদন্ত করবেন। আদালতের নির্দেশেনায় বলা হয়েছে ঘটনাটির তদন্ত করতে হবে, এই বিচারাধীন বন্দির স্বাস্থ্য পরীক্ষার রিপোর্ট আদালতকে দেখাতে হবে এবং বলেন স্বাস্থ্য পরীক্ষা পরীক্ষকদের জানাতে হবে কি করে বন্দী পিঠে ওম চিহ্ন টি দাগান হয়েছে। ম্যাজিস্ট্রেট জেলের সি সি টিভির ফুটেজ সংগ্রহ করতে এবং এ ঘটনা সম্পর্কে অন্যান্য কারাবন্দীদের সাক্ষ্য নথিভুক্ত করতে জেল কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন এবং সাথে সাথে ওই কারাবন্দির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বলেন।
কারা কর্তৃপক্ষ জানান ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল অব প্রিজন অজয় কেশ্যব ওই ঘটনা সম্পর্কে তদন্ত শুরু করেছেন এবং নিপীড়িত জেল বন্দি সাব্বিরকে তিহার জেলের চার নম্বর ব্লক থেকে এক নম্বরে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। অভিযুক্ত জেল সুপার চার নম্বর ব্লকের অধিকারী ছিলেন তাই সাব্বিরকে স্থানান্তর করা হয়েছে। জেল কর্তৃপক্ষ আরো বলছেন আসলে সাব্বির একজন দাগি অপরাধী, কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে অপরাধী হলেও তার বিচার করার দায়িত্ব আদালতের জেল কর্তৃপক্ষ বিচারাধীন আসামির বিরুদ্ধে কোন শাস্তির ব্যবস্থা নিতে পারেন না।
আরেকটি বিষয় প্রণিধানযোগ্য যেভাবে বন্দি সাব্বিরের পিঠে ওম চিহ্ন টাকা দিয়ে খোদাই করে দেওয়া হয়েছে তার সাম্প্রদায়িক মনোভাব থেকে করা হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে কারণ ওম চিহ্ন বা শব্দটি হিন্দু ধর্মের একটি পবিত্র চিহ্ন শাস্তি দেওয়ার জন্য ওম চিহ্ন ব্যবহার সাম্প্রদায়িকতার পরিচয় বহন করছে। ভারতের জাতীয় মানবাধিকার কমিশন গত বছর এক রিপোর্টে বলেছে কমপক্ষে ২১ জন বন্দিকে তাদের ধর্মের ভিত্তিতে নির্যাতন ও প্রহার করা হয়। এই ২১জন বন্দি স্টুডেন্ট ইসলামিক মুভমেন্ট এর সঙ্গে যুক্ত হিসেবে জেলে পাঠানো হয়েছে তাদেরকে কারাগারে মেডিকেল ট্রিটমেন্ট থেকেও বঞ্চিত করা হয়েছে। রাজ্যসভায় পেশ করা এক সরকারি রিপোর্টে বলা হয়েছে এপ্রিল ২০১৭ থেকে ফেব্রুয়ারি ২০১৮ এর মধ্যে ১৬৭৪ জেল হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।
আর এই ঘটনায় একজন মুসলিমকে ওম চিহ্ন দিয়ে দেওয়াই প্রশ্ন উঠেছে, দেশের সরকারি আধিকারিকদের মধ্যেও সাম্প্রদায়িকতার বিষবাষ্প ছড়িয়ে গেছে তাতে। সমগ্র ভারতে এক ভয়ঙ্কর পরিস্থিতির দিকে সম্ভবত এগিয়ে চলছে।
গ্রন্থনা : জাওয়াদুল কারিম
সূত্র : পুবের করম, কালকাতা


