গাজার গ্রামে গ্রামে হামলার হুমকি ইসরাইলের

গাজার গ্রামে গ্রামে হামলার হুমকি ইসরাইলের

ওয়ার্ল্ড ডেস্ক : অবরুদ্ধ গাজার গ্রামে গ্রামে অভিযান চালানোর হুমকি দিয়েছে ইসরাইল। কয়েক দিনের উত্তেজনা পরিস্থিতিতে হামাসকে দায়ী করে এ হুমকি দিয়েছে দেশটি। ফিলিস্তিনের মুক্তি আন্দোলন হামাসকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে আখ্যা দিয়ে ইসরাইলি সেনাবাহিনীর ব্রিগেডিয়ার জেনারেল রেনন মেনেলিস জানান, তারা ফিলিস্তিনি বিক্ষোভকারীদের ইসরাইলের বিরুদ্ধে ব্যবহার করছে।
এদিকে ফিলিস্তিনি নেতা মাহমুদ আব্বাস বলেন, শুক্রবারের রক্তাক্ত ঘটনার দায় সম্পূর্ণ ইসরাইলকেই নিতে হবে। খবর বিবিসি ও রয়টার্সের।

ভূমি দিবস উপলক্ষে ৩০ মার্চ গাজায় পূর্বঘোষিত ‘প্রত্যাবাসন যাত্রা’ কর্মসূচিতে দখলদার ইসরাইলি বাহিনী গুলি চালালে ১৭ ফিলিস্তিনি নিহত ও দেড় হাজার মানুষ আহত হন। ইসরাইল দাবি করছে, বিক্ষোভকারীদের নিয়ন্ত্রণ করতে তারা গুলি চালাতে বাধ্য হয়েছেন।

২০১৪ সালের গাজা যুদ্ধের পর এটিই দুই দেশের মধ্যে ভয়াবহ রক্তাক্ত দিন। শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে গুলি চালিয়ে ফিলিস্তিনিদের হত্যার ঘটনায় শুক্রবার সন্ধ্যায় নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি বৈঠকে নিন্দা প্রকাশ করেন জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তনিও গুতেরেস। বৈঠকে এ ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান জানান তিনি।

তার আহ্বানকে সমর্থন করে একই দাবি জানান ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রধান ফেডেরিকা মোঘেরিনি, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ও ইসরাইলের বামপন্থী বিরোধী রাজনৈতিক দল মেরেটজ পার্টির নেতা তামার জান্দবার্গ। হামাসের নেতা ইসমাইল হানিয়া গণহত্যার নিন্দা জানিয়ে বলেন, এর মধ্য দিয়ে ফিলিস্তিনিদের নিজ ভূমিতে ফেরার যাত্রা শুরু হল।

ভূমি দিবসকে কেন্দ্র করে ফিলিস্তিনিদের প্রতিরোধ আন্দোলনকে ‘সংগঠিত সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড’ আখ্যা দিয়েছে ইসরাইল। রেনন মেনেলিস বলেন, এ বিক্ষোভ অব্যাহত থাকলে গাজা উপত্যকার অভ্যন্তরে ঢুকে হামলা চালাবে ইসরাইলের সেনাবাহিনী। তিনি বলেন, শুক্রবারের ওই ঘটনা কোনো বিক্ষোভ মিছিল ছিল না বরং তা ছিল হামাসের সংঘটিত সন্ত্রাসী কার্যক্রম।

এটা যদি চলতে থাকে তাহলে গাজা উপত্যকার অভ্যন্তরে সন্ত্রাসী লক্ষ্যবস্তুগুলোয় অভিযান চালানো ছাড়া আমাদের কোনো উপায় থাকবে না।

জাতিসংঘসহ বহির্বিশ্বের নিন্দা সত্ত্বেও ভূমি দিবসে ফিলিস্তিনিদের নির্মমভাবে হত্যা করায় সেনাদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। শনিবার এক বার্তায় তিনি বলেন, ‘এ পদক্ষেপের মাধ্যমে সেনারা দৃঢ়তার সঙ্গে ইসরাইলকে রক্ষা করেছে। ইসরাইলি সেনারা সীমান্তে দেশের স্বার্থ রক্ষায় সঠিক পদক্ষেপ নিয়েছে।’

ভূমি দিবসের বিক্ষোভ কর্মসূচিতে সেনারা গুলি চালিয়ে ঠিকই করেছে এবং এজন্য তারা পদক পাওয়ার যোগ্য বলে মন্তব্য করেছেন ইসরাইলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী অ্যাভিগডর লিবারম্যান। তিনি বলেন, ‘ইসরাইলি সেনারা যা করেছে, তা প্রয়োজনের তাগিদেই করেছে।

আমি মনে করি, তারা পদক পাওয়ার যোগ্য।’ রোববার ইসরাইলের আর্মি রেডিওকে তিনি এসব কথা বলেন। এছাড়া জাতিসংঘ ওই ঘটনার যে নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে, তা-ও প্রত্যাখ্যান করেন লিবারম্যান।

প্রতিবছর ৩০ মার্চ ফিলিস্তিনিরা নিজ ভূমিতে ফেরার দাবিতে ভূমি দিবস পালন করে থাকে। ১৯৭৬ সালের ওই দিনে ইসরাইলি দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দেখালে ৬ ফিলিস্তিনি শহীদ হন। তাদের স্মরণে ওই দিনটিকে ভূমি দিবস হিসেবে পালন করা হয়। ১৯৪৮ সালের ১৫ মে ফিলিস্তিনিদের ভূমি দখল করে নেয় ইসরাইল।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *