গাজায় আরও ৩৩ জন নিহত

গাজায় আরও ৩৩ জন নিহত

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : টানা সপ্তম দিনের মতো গাজা উপত্যকায় বিমান হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েল। সর্বশেষ রোববার (১৬ মে) ভোরের হামলায় অন্তত ৩৩ জন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে বেশ কয়েকজন। মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া হয়েছে দুটি আবাসিক ভবন। খবর রয়টার্সের।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল–জাজিরার খবরে বলা হয়, শনিবার (১৫ মে) রাতে এক ঘণ্টা ধরে দেড় শতাধিক রকেট বৃষ্টির মতো ছোড়া হয়েছে। জরুরি সহায়তা দল ধ্বংসস্তূপের ভেতর থেকে হতাহতদের উদ্ধারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। গাজা উপত্যকার আল-ওহেদা শহরকে কেন্দ্র করে ৭০টির বেশি রকেট ছোড়া হয়েছে। এতে আবাসিক ভবন, অবকাঠামো ও সড়ক পুরোপুরি বা কোথাও কোথাও আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় রাতভর বোমাবর্ষণের ঘটনায় ১৬ জনের মৃত্যুর তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছে। তাদের মধ্যে শিফা হাসপাতালের ইন্টারনাল মেডিসিন বিভাগের প্রধান আয়মান আবু আল-ওফও রয়েছেন। ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে পাঁচ শিশুকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে।

বেসামরিক প্রতিরক্ষাকর্মী মেদহাত হামদান গাজা সিটিতে এসেছেন খান ইউনিস থেকে। তিনি মানুষের জীবন বাঁচাতে টানা ১১ ঘণ্টা কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি বলেন, ‘ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে আমরা মানুষের চিৎকার শুনতে পাচ্ছি।’

ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে তিনটি মৃত শিশুর লাশ বের করেছেন হামদান। সেই অভিজ্ঞতা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘এই কাজ করতে এসে যেন আমার ভেতর থেকে সব ডরভয় চলে গেছে। এখন আমি আর বিস্মিত হই না কিন্তু আমরা যখন ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে শিশুদের লাশ বের করছি, তখন আবেগ আর বাঁধ মানে না।’

রামজি এশকুতানা নামে স্থানীয় এক ব্যক্তি বলেন, তেল সুবেরি থেকে পালমেরা পর্যন্ত ব্যাপক বোমাবর্ষণ হয়েছে। কয়েক মিনিটের মধ্যে সেখানে বিমান থেকে একের পর এক ৪০টি বোমা হামলা চালানো হয়। আমরা দৌড়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে দেখি আশপাশের বেশির ভাগ ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে আমার ভাইয়ের বাড়িও ছিল। তাঁর স্ত্রী ও চার সন্তান ঘুমন্ত অবস্থায় মারা যায়। আমার ভাইয়ের স্ত্রী সন্তানদের ধরে রেখেছিল। এগুলো এফ-১৬ ক্ষেপণাস্ত্র ছিল না, এগুলো ছিল এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান থেকে ছোড়া বোমা।’

গাজায় হামাসের রাজনৈতিক ও সামরিক শাখার প্রধান ইয়াহিয়া আল সিনওয়ারের বাড়ি লক্ষ্য করে বোমা হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী।

এক সপ্তাহ ধরে গাজা উপত্যকায় ১৮১ জনের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। এর মধ্যে অন্তত ৫২ জন শিশু। আহত হয়েছে হাজারের বেশি মানুষ। পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বাহিনী অন্তত ১৩ জনকে হত্যা করেছে। আর গাজা থেকে ছোড়া রকেট হামলায় ২ শিশুসহ মারা গেছে অন্তত ১০ ইসরায়েলি।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *