নিজস্ব প্রতিবেদক :: রাজধানীর গুলিস্তান পুরান মার্কেটের বহুতল ভবন নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার আগেই দখলে নেয়া দোকানদারদের উচ্ছেদে অভিযান চালিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন-ডিএসসিসি। গতকাল মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে গুলিস্তান পোড়া মার্কেট হিসেবে পরিচিত নির্মাণাধীন এ বিপণিবিতানে অভিযান শুরু হয়, যার নেতৃত্ব দেন ডিএসসিসির নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট খান মোহাম্মদ নাজমুস শোয়েব। ডিএসসিসি বলছে, বিপণিবিতানের নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার আগেই সেখানে দখল নিয়েছে দোকানদাররা। ফলে নির্মাণকাজ করা শেষ করা যাচ্ছে না। সিটি করপোরেশন বিপণিবিতান থেকে কোনো রাজস্ব আদায় করতে পারছে না। ২০০৩ সালে এ বিপনিবিতান নির্মাণকাজ শুরু হয়।
প্রস্তাবিত ১২ তলা এ ভবনে এক হাজার ৬৪৬টি দোকান বানানোর কথা রয়েছে। তবে বেজমেন্ট থেকে দ্বিতীয় তলা পর্যন্ত শুধু ছাদ ঢালাই করা হলেও এর মধ্যেই টিনের বেড়া দিয়ে বিভিন্ন দোকান বানিয়ে নিয়েছেন দোকানদাররা। ছাদের ওপরেও টিনের চাল দিয়ে ঘর বানানো হয়েছে। এসব দোকান বিভিন্ন দোকানের মালামাল রাখার গুদাম হিসেবে ব্যবহার করছেন তারা। সকাল ৯টায় অভিযান শুরুর কথা থাকলেও বেলা পৌনে ১১টার দিকে সেখানে আসেন সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারা। অভিযানের আগে ওই ভবনের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়া হয়। ভবনের একতলা এবং দোতলায় গড়ে তোলা স্থাপনা ভেঙে দেয় সিটি করপোরেশনের কর্মীরা। অভিযানের খবর পেয়ে সকাল ৯টা থেকেই সেখানে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করে দোকানদারা। তাদের অভিযোগ, দোকান বরাদ্দের টাকা জমা নিলেও মার্কেট নির্মাণ শেষ করেনি সিটি করপোরেশন। দোকানের বরাদ্দও দেয়নি। এ কারণে তারা সেখানে স্থাপনা গড়ে তুলেছেন। দোকান উচ্ছেদ না করতে আদালতের নির্দেশনা মানা হচ্ছে না বলেও অভিযোগ করেন দোকান মালিক সমিতির সভাপতি আতিকুর রহমান আতিক। শাহবাগ থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি আতিকুর বলেন, মেয়র সাঈদ খোকন দেশে না থাকার সুযোগে ভারপ্রাপ্ত মেয়র এই মার্কেট থেকে তাদের উচ্ছেদ করার চেষ্টা করছেন। আমাদের কাছ থেকে ৩৪ কোটি টাকা নিয়েছে সিটি করপোরেশন। কিন্তু দোকান করে দিচ্ছে না। এজন্য আমরা এখানে বসেছি। আমাদের পজিশন বুঝিয়ে দিলে আমরা এখান থেকে চলে যাব। এইখান থেকে উচ্ছেদ না করতে উচ্চ আদালতের নির্দেশ আছে। তা মানা হচ্ছে না।
তাছাড়া এ উচ্ছেদ অভিযানের আগে আমাদের কোনো নোটিশও দেয়া হয়নি। অভিযানের বিষয়ে ম্যাজিস্ট্রেট খান মোহাম্মদ নাজমুস শোয়েব সাংবাদিকদের বলেন, ডিএসসিসির স্থাপনা দখলমুক্ত করতেই এ অভিযান। এখানে কতিপয় ব্যক্তি অবৈধভাবে সিটি করপোরেশনের জায়গা দখল করে রেখেছিল। আমরা তাদের উচ্ছেদ করেছি। মার্কেটের নেতৃবৃন্দও আমাদের সহযোগিতা করছেন। উচ্ছেদ কার্যক্রম শেষ না হওয়া পর্যন্ত চলতে থাকবে। ব্যবসায়ীদের অভিযোগের বিষয়ে ডিএসসিসির নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বলেন, ব্যবসায়ীদের অভিযোগ ঠিক না। তাদেরকে পর্যাপ্ত সময় দেয়া হয়েছে। ইতোপূর্বে এখানে মাইকিংও করা হয়েছে। গতকাল এবং তার আগের দিনও মাইকিং করা হয়েছে। এখানে হাই কোর্টে একটা আপিলের রিভিউ চলমান আছে। এটা বেজমেন্টের দোকান মালিকরা করেছেন। সেজন্য আমরা বেজমেন্টে অভিযান চালাচ্ছি না। আমরা একতলা এবং দোতলায় অভিযান চালাচ্ছি।


